এ + বিহীন এসএসসি ভাইবোনদের জন্য — বস , জাস্ট টিকে থাকো , লাইফ ইয বিউটিফুল

ছেলেটা ৩.৯৪ পেয়েছে ! আশেপাশের রসালো A+ এর জোয়ারে ছেলেটা হয়তো নিজেকে খুব নিঃস্ব মনে করছিল । হয়তো তাকে দেখে তার বন্ধুরা অপমানের মুচকি হাসি হেসেছিল , তার মা হয়তো তাকে দেখে আঁচলে কোনায় চোখ মুচেছিল , বাবা হয়তো রাগে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল , বড় বোনটা হয়তো অভিমানে তার সাথে একটা কথাও বলেতে চায়নি ।

“ সব শেষ হয়ে গেল আমার “ এমনটা ভাবতে ভাবতেই হয়তো আদর খুঁজতে চাওয়া অসহায় সেই ছেলেটি আজ সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস নিয়েছে ।

আপনার হাজার টাকার মিষ্টির ছোঁয়া সেই ছেলেটি পায়নি । ছেলেটি হয়ে রইল মিষ্টির প্যাকেট বাঁধাই করবার চিকন সূতাটি । আমরা মিষ্টির প্যাকেট দেখলে তাড়াহুড়া করে সুতা কাটি , প্যাকেট খুলি । দুই আঙুলে মিষ্টি তুলি । মুখ রসে পূর্ণ করি । সূতাটি নীচে পড়ে রয় । একেক জনের পায়ে গড়াতে গড়াতে একসময় ময়লার ঝুড়িতে জায়গা পায় । কিন্তু এই সুতা ছাড়া কি বাজার থেকে মিষ্টির প্যাকেট বাঁধাই করে নিয়ে আসা যেত ?
ময়লার ঝুড়িতে আশ্রয় পাওয়া সুতারুপী ৩.৯৪ পাওয়া সেই ছেলেটি একটা A+ না পাওয়ার অক্ষমতায় হারিয়ে গিয়েছে চিরতরে আর মিষ্টির রসে ভাসছে শুধু A+ ধারীদের আঙ্গিনা

অনুরোধ যেই ছেলে বা মেয়ে এই সরকারী বাণিজ্যের A+ পায়নি তার সাথে খারাপ বিহেব করবেন না । তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিবেন না । এই মুহূর্তে তার পরিবারের সাপোর্ট তার খুব দরকার । রাতে খাবার টেবিলে তাকে ডেকে নিয়ে খেতে বসুন । তার সাথে কথা বলুন । জীবন এইখানেই শেষ না । এই সত্য কথাটা তাকে বুঝতে সাহায্য করুণ ।
আর তার বন্ধুরা যারা রসের ডিব্বা নিয়া আসবে তাদের দায়িত্ব এই মুহূর্তে আরও বেশী । সেই ছেলে বা মেয়েটিকে দেখে মুখ লুকিয়ে পিটপিট করে হাসবে না । বন্ধুতের মর্যাদা যদি দিতে না পারো তবে তার সাথে দেখা করবার দরকার নাই । কিন্তু তথাকথিত A+ এর গর্বে মাথা উচুতে রেখে সেই ছেলে বা মেয়েকে অপমান করবার অধিকার তোমার নাই ।

একটা A+ না পাইলে কিছুই হয় না । এইটা এ + বৃদ্ধিতে নাহিদ সাব খুশি হইতে পারে কিন্তু আসলেই এতে একজন মানুষকে মূল্যায়ন করা হয় না । তোমার বন্ধুরা নাচতেছে মজা করতাছে তুমি দূরে দাঁড়াইয়া আছো ? কোন ব্যাপার না । সামনে এমন্দিন হয়তো আসবে তুমি চিৎকার করে সারা দুনিয়া জয় করতাছো আর তোমার ঐ বন্ধুরা দূরে দাঁড়াইয়া তোমাকে দেখতাছে ! কে বলতে পারে সামনে কি আছে !

লড়ে যাও । কতো আনন্দ সামনে , অনন্ত জলিল সাবের মুভি বের হচ্ছে , দেখতে যাবা না ? দেশের রাজনীতি নিয়া তর্ক বিতর্ক করবা না ? গু আযমের ফাঁসি দেখবা না ? জারন বিজারনের বিদগুটে সুত্র শিখাইতে যাওয়া স্যারদের পিন্ডি কে চটকাবে ? আর সবচেয়ে বড় কথা বিয়াই তো হইল না ! বাসর রাতের ফিলিংস মিস করবা এক চুলের A + এর জন্য !! ভাবা যায় না

শেষ কথা হচ্ছে — বস , জাস্ট টিকে থাকো , লাইফ ইয বিউটিফুল

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “এ + বিহীন এসএসসি ভাইবোনদের জন্য — বস , জাস্ট টিকে থাকো , লাইফ ইয বিউটিফুল

  1. যতটুকু দেখেছি, রেজাল্ট খারাপ
    যতটুকু দেখেছি, রেজাল্ট খারাপ করলে, বন্ধুদের সমর্থনটাই পাওয়া যায় সবার আগে। তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে না। কিন্তু, বন্ধুদের চেয়েও দায়িত্ব বেশি পরিবারের এবং তারা তাদের সমর্থন প্রদানে চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন করে…

    1. পরিবারের সাপোর্ট সবার আগে
      পরিবারের সাপোর্ট সবার আগে দরকার ! সেই সাথে বন্ধুদের । অনেকেই সাপোর্ট দেয় , অনেকেই ” আরে ব্যাপার না দুশ , আমি পাইছি তুই পাস নাই , তাতে কি ” বলে চোখ টিপি মারে , সে চোখটা যেন টিপি না খায় ।

  2. পারিবারিক সাপোর্ট এর পাশাপাশি
    পারিবারিক সাপোর্ট এর পাশাপাশি সামজিক সাপোর্টও দরকার। অনেক সময় দেখা যায় ভাল রেজাল্ট করা ছাত্রটিকে সব জায়গায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। খারাপ রেজাল্ট করা ছাত্রটি যে ভালো ফল করতে পারে সেটা সবাই ভুলে যায়। যার ফলে সে হীনমন্যতায় ভোগে। তার ভালো কারার শেষ আশাটাও হারিয়ে ফেলে।

  3. বস , জাস্ট টিকে থাকো , লাইফ

    বস , জাস্ট টিকে থাকো , লাইফ ইয বিউটিফুল

    এটাই হচ্ছে স্পিরিট। জীবনের সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। আমাদের ব্যাচে একজন ছিল। খুব পড়ুয়া। পড়তে পড়তে বই খাতা ত্যানা ত্যানা করে ফেলত। আমাদের ব্যাচে এসএসসিতে ১২ জন, এইচএসসিতে ৮ জন প্লেস করেছিলো। কিন্তু ঐ ফ্রেন্ড দুইবারের একবারও প্লেস পায় নাই। অথচ ক্লাসে সবসময় ওর রোল ৫ এর মধ্যে থাকত। ও কিন্তু কখনও হাল ছাড়ে নি। পরে এডমিশন টেস্টের সময় ও দেখাইছিল খেলা। বুয়েটে ১৮ টম, ধাবিতে ৭ম। এখন সে বুয়েটের টিচার। সম্প্রতি ইউএসএ থেকে পিএইচডিও শেষ করে দেশে ফিরে এসেছে। সো লাগে রাহো মুন্না ভাইইইইই…… :ভালুবাশি:

  4. আমি এটা নিয়ে কিছু লিখব
    আমি এটা নিয়ে কিছু লিখব ভেবেছিলাম… কাজটা আপনিই করে দিলেন… আমার পরিচিত একজন ব্লগার আসে, ও A+ পায় নি… ওকে এটা শেয়ার করলাম।

  5. নিজের ছাত্র জীবনের কথা মনে
    নিজের ছাত্র জীবনের কথা মনে হলো| মনে হচ্ছিল আমিই সেই ৩.৯৪ (যদিও আমাদের সময় ছিল ডিভিসন, ষ্টার আর স্ট্যান্ড)| এলেবেলে ভাবে ম্যাট্রিক, ইন্টার পাশ করলাম| বুয়েট, মেডিকেল, ঢাকা ভার্সিটি কোথাও ঠাঁই হলো না| সবকিছু অর্থহীন মনে হচ্ছিল| কিন্তু তখন বুঝিনি সময়ের ম্যাজিশিয়ান আড়ালে মুচকি হাসছে! এখন পেছনে তাকিয়ে দেখলে সব কেমন যেন লাগে| কই, ভালই তো আছি! পরম করুনাময় আমার সাথে এক বিন্দু কার্পন্য করেন নি| আমি অনেক পেয়েছি| আমি কৃতজ্ঞ, আমি তৃপ্ত| সরি, নিজের কথা বলে ফেললাম, কিন্তু আপনার লেখা আমাকে এত স্পর্শ করলো যে না বলে পারলাম না| সত্যিই জীবন অনেক বড়| মাত্র ৫.০০ পয়েন্ট স্কেলে একে মাপার মত বড় বোকামি মনে হয় আর নেই| সময়ের ম্যাজিশিয়ান কিন্তু ঠিকই আড়ালে দাড়িয়ে তার যাদুর কাঠি হাতে অপেক্ষা করছে!

    শেষ কথা, আপনার লেখা পড়ে আবারো মুগ্ধ হলাম|

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 4 =