প্যারাডক্সিকাল সাজিদ থেকে প্রশ্ন ও আমার জবাবঃ ১

বেশ কয়েকদিন থেকে একটা বইয়ের কথা খুব শুনছি। বইটার নাম ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদ’। লেখক আরিফ আজাদ। তিনি নাকি বইটায় নাস্তিকদের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছেন। এমন সব প্রশ্ন নাকি করেছেন, যার উত্তর দিতে নাস্তিকেদের ‘নাকের জলে চোখের জলে’ হাফসোল খাওয়ার মত অবস্থা হবে। কয়েকজন বন্ধুর মুখেও শুনলাম বইটার কথা। আগ্রহ জন্মালো বলে সংগ্রহ করে ফেললাম। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে ভাল। প্রশ্ন, যুক্তি ও বিতর্ক অনেক সময় সঠিক পথ নিয়ে আসে, আগামীর পথ নির্ধারণ করে। সবচেয়ে বড় কথা, আরিফ আজাদ বইটায় নাস্তিকদের কটু ভাষায় আক্রমণ করেননি বা গালাগালি করেননি- ব্যাপারটা সত্যি অনন্য। কারণ আস্তিকেরা সাধারণত তাদের লেখা শুরু ও শেষ দুটোই করে গালিগালাজ দিয়ে। ঠিক এমন প্রবণতা নাস্তিকদের মাঝেও দেখা যায়।

কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে ফেলেছি বইটার। নিঃসন্দেহে বইটা সুখপাঠ্য- অত্যন্ত ঝরঝরে লেখা। পড়ে যা বুঝলাম, তা হলো বইটা ফিকশন আর নন-ফিশনের মিশ্রণ। এটা যেহেতু সাহিত্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা নয়, তাই সেদিকে মন দেয়ার কিছু নেই। সাহিত্যের কাজ সমাজের চিত্র তুলে ধরা- ভাল হোক বা খারাপ। কোন কিছুর সমাধান দেয়া সাহিত্যের কাজ নয়। ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদে’ কিছু চরিত্র আছে- তারাই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। স্বভাবতই, সেসব প্রশ্নের উত্তর বইয়ে উল্লেখিত নাস্তিকেরা দিতে পারেনি বা নাস্তিকেরা যেসব উত্তর দিয়েছে সেসব ধোপে টেকেনি। না টেকারই কথা- হাজার হলেও বইটা একজন আস্তিকের মস্তিষ্কপ্রসূত।

আমার এখন এই ব্লগটা লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেসব প্রশ্নের উত্তর সেবইয়ের কাল্পনিক নাস্তিকেরা দিতে পারেনি, তাদের যথাযথ উত্তর ধারাবাহিক ভাবে দেয়ার চেষ্টা করা। আমি পরপর কয়েক পর্বে এ কাজটা করবো। আজ যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছি, বা যে জায়গাগুলোর বিপক্ষে বলছি, সেটা সেবইয়ের প্রথম অধ্যায় “একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস” থেকে।

“একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস” গল্প-প্রবন্ধে, লেখক বলেছেন, “বিশ্বাস দু ধরনের। একটা হোলো, একটা প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্বাস। অনেকটা, শর্তারোপে বিশ্বাস বলা যায়। অন্যটি হোলো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস।”

ধর্ম আর বিজ্ঞানের ব্যাপারে বলতে গিয়ে, আরিফ আজাদ বলেছেন, “ প্রমাণের ভিত্তিতে যে বিশ্বাস, সেটা মূলত বিশ্বাসের মধ্যে পড়ে না। পড়লেও, খুবই ট্যাম্পোরারি। এই বিশ্বাস এতোই দুর্বল যে, হঠাৎ হঠাত পালটায়।”

এরপরের কথাগুলোয় তিনি যা বলেছেন, তার সারকথা হচ্ছে এই যে, বিজ্ঞানবিশ্বাস এই ট্যাম্পোরারি বিশ্বাসের মধ্যে পড়ে। কারণ বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এর পক্ষে যুক্তি দিতে তিনি টলেমির পৃথিবীকেন্দ্রিক ধারণা ও এখনকার সূর্যকেন্দ্রিক ধারণা তুলে ধরেছেন। একটা সময় মানুষ টলেমীর মতানুসারে মেনে নিয়েছিল, সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। তারপর কোপারনিকাস এসে সে ধারণায় আঘাত হানেন। তিনি সূর্যকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা দেন। তিনিও ভুল ছিলেন, কারণ তিনি সূর্যকে স্থির মনে করেছিলেন। এরপর, আধুনিক বিজ্ঞানীরা তাকেও ভুল প্রমাণিত করে, আবিষ্কার করেন, সে পৃথিবী যেমন ঘুরছে, তেমনি ঘুরছে সূর্যও, তার নিজের কক্ষপথে। এই যে বিজ্ঞানের বিবর্তন- এই বিবর্তনের কারণেই তিনি, বিজ্ঞান বিশ্বাসকে ট্যাম্পোরারি বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান এমন পরিবর্তনশীল কথা সময়ে সময়ে বললেও, কোরান কিন্তু এমন বলেনি, সেটা শুরু থেকে এই এখন ১৪০০ বছর পরও একই আছে। এই বিজ্ঞানবিশ্বাসকে তিনি চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। চুক্তিটা এই যে, “তোমায় ততক্ষণ বিশ্বাস করবো, যতক্ষণ তোমার চেয়ে অথেনটিক কিছু আমাদের সামনে না আসছে।”

এইখানেই অমত আমার। আমার মতে, বিশ্বাস দুপ্রকার, তার মতই। কিন্তু তারা হচ্ছে, প্রমাণ সহ বিশ্বাস, আরেকটা প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস।

একটা সময় মনে করা হতো, পৃথিবীর যত উপাদান আছে, সব- আগুন, পানি, মাটি ও বায়ু এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে সৃষ্টি। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমে আবিষ্কৃত হল অনু, তারপরে পরমানু। আজ আমরা জানি, মাটি, পানি, বায়ু কোনটিই মূল পদার্থ নয়। পৃথিবীর মূল উপাদান ১১৮ টি মৌলিক পদার্থ। এই ১১৮টি মৌলিক পদার্থকেও আবার ভাঙ্গা যায়। ভাঙলে পাওয়া যায়- ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন সহ অনেক অনেক অস্থায়ী কণিকা। আর আগুন বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। অক্সিজেনের সাথে বিভিন্ন জ্বালানীর দহনের ফলেই এর সৃষ্টি হয়। যে সময়টায় মানুষ বিশ্বাস করে নিয়েছিল যে, আগুন, মাটি, পানি, বায়ু পৃথিবীর মূল কণিকা, সেসময় সভ্যতা বিকোশিত হয়নি। আদিম মানুষেরা প্রশ্ন করেছিল, আর তার উত্তর পেতে, নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতে নিজেরাই খুঁজে নিয়েছিল জবাব। আজ বিজ্ঞানের অগ্রগমনে মানুষ জানতে পেরেছে, অনু-পরমাণু সম্পর্কে, জানতে পেরেছে ইউক্লিয়ন, ইলেকট্রন সম্পর্কে। তাই আমরা আর মানি না আগুন-পানি-মাটি-বায়ু তত্ত্ব। আমরা এখন জানি সত্যটা।

এখানে কিন্তু বিশ্বাসের বিবর্তন হয়নি। হয়েছে জ্ঞানের বিবর্তন, জ্ঞানের বিকাশ। বিজ্ঞান কোন বিশ্বাস নয়। বিজ্ঞান হচ্ছে নিরন্তর উত্তর খুঁজে ফেরা। ‘কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে’ এসব বের করা, জানাই হচ্ছে বিজ্ঞান। যেহেতু মানুষ প্রতিনিয়ত জানতে পারছে অনেককিছু, সমাধান করছে রহস্য, তাই পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের ধারণা। এতে কিন্তু বিজ্ঞান থেমে নেই। থেমে থাকা মানেই বিজ্ঞানের মৃত্যু। বিজ্ঞান আরও গভীরে যাচ্ছে, আরও জানার স্পৃহাতে সে মত্ত।

এই যে পরিবর্তনশীলতা- এর জন্য কি বিজ্ঞান তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে? মোটেও না। আজ অনেক অনুসন্ধানের পর, অনেক অনেক সাধনার পর, মানুষ জানতে পেরেছে, পরমাণু দিয়েই পৃথিবীর সব উপাদান গঠিত। যেহেতু এই জ্ঞান মানুষের অনেক ধারণা ভেঙ্গে ফেলে পেয়েছে- তাই বলে কি আমরা মেনে নেব না পরমাণুই জগতের মূল উপাদান? যেহেতু টলেমী টলেমী থেকে কোপার্নিকাস, কোপার্নিকাস থেকে গ্যালিলিও হয়ে আমরা জানতে পেরেছি, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে, তাই আমরা মানব না এটা? আজও ধরে নেব বিজ্ঞান আবার ভুল তথ্য-তত্ত্ব দিচ্ছে?

আরিফ সাহেবের মতে, এটা মানা করা ঠিক হচ্ছে না। যেহেতু বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। তার চাইতে যদি টলেমীর তত্ত্বেই বিজ্ঞান আবদ্ধ থেকে বলতো- সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে, তাহলে হয়তো তিনি এটাকে বিশ্বাস করতেন!

আপনি যখন একটি হরর মুভি দেখতে সিনেমা হলে যান, তখন আপনি ধরে নেন, সিনেমার পর্দায় যা দেখানো হবে তা কাল্পনিক। আপনি হয়তো সিনেমা থেকে ফিরে এসে শাওয়ার নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা সেই রাতে একটু ভয় পান। দুই দিন পর কিন্তু সে ভয় আর থাকে না। প্রশ্নটা হলো, কেন আপনি ভূতকে কাল্পনিক মনে করেন? কেন তবে আপনি কেন আপনি ভূতে বিশ্বাস করেন না? কেনই বা একটা দশ বার বছরের শিশু ভূতের ভয়ে রাতে মায়ের পাশে ছাড়া ঘুমাতে পারে না?
আপনি বলতে পারেন, ‘কারণ আমি কোনদিন ভূত দেখিনি। আমি জানি ভূত বলে কিছু নেই। সেই শিশুটা জানে না এটা। সে কোনদিন পরখ করে দেখিনি।”

তাহলে আপনি তো সৃষ্টিকর্তাকেও দেখননি, জীন দেখনি, তাহলে তাদেরই বিশ্বাস করেন কেন? তখনি চলে আসে, আবার, বিশ্বাসের প্রশ্ন। আরিফ আজাদের মত, তখন আপনি বলে বসেন, কোরানের আয়াত উল্লেখ করে, “এটা তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।”
তারমানে তো এটাই দাঁড়াচ্ছে, যেহেতু শিশু বা কিছু জ্ঞানহীন বৃদ্ধবৃদ্ধা ভূতে বিশ্বাস করে, তাই ভূতও আছে এই বিশ্বজগতে! “ভূত শুধু তাদের জন্য, যারা ভূতে বিশ্বাস করে!”

প্যারাডক্সিকালের প্যারাডক্স ফুরোয়নি এখনও। আরিফ সাহেব বলেছেন, “যদি বিজ্ঞানে শেষ বা ফাইনাল কিছু থাকতো, তাহলে হয়তো ধর্মগ্রন্থের শুরুতে বিশ্বাসের বদলে বিজ্ঞানের কথাই বলা হতো। বলা হতো, “এটা তাদের জন্যই যারা বিজ্ঞানমনষ্ক।” কিন্তু যে বিজ্ঞান সদা পরিবর্তনশীল, যে বিজ্ঞানের নিজের উপর নিজেরই বিশ্বাস নেই, তাকে কীভাবে অন্যরা বিশ্বাস করবে?”

বটে! বিজ্ঞানের নিজের উপর নিজেরই বিশ্বাস নেই! আজ আমরা প্রযুক্তিতে ডুবে আছি। এই প্রযুক্তি তো বিজ্ঞানের ফলাফল। আজ যে বিদ্যুতের আলোয় বসে আপনি বই পড়ছেন, বা যার মাধ্যমে মোবাইল-ল্যাপু চার্জে দিচ্ছেন সেটা এসেছে ‘ইলেকট্রনের প্রবাহ’ থিয়োরি হতে- বিজ্ঞান থেকে। যে টিভি’র সামনে বসে জাকির নায়েকের ভাষণ শুনছেন, সে টিভি সিগনাল পাচ্ছে বিজ্ঞানের রেডিও ওয়েভ আবিষ্কারের বদৌলতে। এই রেডিও ওয়েভের বদৌলতেই কথা বলছে ‘সাজিদ’ তার গার্লফ্রেন্ড ‘মিতু’র সাথে। এখন প্রশ্ন হলো, আরিফ সাহেব, বিজ্ঞান যদি বিজ্ঞানকেই বিশ্বাস না করে, তবে বিজ্ঞানের এই ফসলগুলো আমরা পেলাম কোথা থেকে? এক বিজ্ঞানী তো আরেক বিজ্ঞানীকে দিব্য অস্বীকার করে বসতে পারতেন!

কিন্তু না, সাজিদ সাহেব বলছেন, না। বিজ্ঞান যেহেতু পরিবর্তনশীল- তাই একে বিশ্বাস না করে কন্সটান্ট কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে। বিবর্তনের বদলে বিশ্বাস করতে হবে, আদম-হাওয়াকে; আদমের গন্দম খাওয়ার ফলেই যে পৃথিবীতে মানুষ এসেছে, তা মেনে নিতে হবে। শুক্রাণু ডিম্বাণুর জাইগোট থেকে মানব সৃষ্টি মেনে না নিয়ে মানতে হবে, ঈশা নবীর পিতা ছাড়া জন্ম তত্ত্ব। আলোর চাইতে মোহাম্মদ যে যানে করে মিরাজে গিয়েছিলেন, সে যান দ্রুতুতর এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে! যদিও মহাবিশ্ব সর্বদা বর্ধনশীল, মহাবিশ্বের প্রতিটি নক্ষত্রই যে পরস্পরের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্ছে, এটা না মেনে, মানতে হবে- জন্নাত জাহান্নাম একটা নির্দিষ্ট স্থানে আছে। যেহেতু বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, তাই আমাদের অকর্ম-কুকর্ম-কর্ম-সুকর্ম সব কিরামান কাতিবিন লিপিবদ্ধ করছে এটা মেনে নিতে হবে। যেহেতু বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল তাই জলীয় বাস্প, তাপ, বায়ু প্রবাহকে বৃষ্টির কারণ হিসেবে না মেনে, মানতে হবে ফেরেশতা মিকাইলের সাহায্যে বৃষ্টি পড়ছে। বিশ্বাস করতে হবে, সূর্য একটি পঙ্কিল জলাশয়ের মধ্যে ডুবে যায়। এবং সেখানে জুলকারনাইন নামের পাহারায় আছে। যেহেতু কোরানে বলা আছে। “until, when he reached the setting of the sun, he found it (as if) setting in a spring of dark mud, and he found near it a people. Allah said, “o Dhul-Qarnayn, either you punish (them) or else adopt among them (a way of) goodness.”। (surah-18; ayat 89-90) সূর্য যে নিজে ঘুরছে এটা মানা যাবে না।
যেহেতু অপরিবর্তনশীল কোরানের সুরা আরাফের ৫৪ নাম্বার আয়াতে বলা আছে, “indeed, your lord is Allah, who created the havens and earth in six days and then established Himself above it.” মানে দুনিয়া আর জান্নাত মাত্র ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ- এটা মানতে হবে। কিন্তু চোখের সামনে বিগ ব্যাঙের নিদর্শন দেখা যাচ্ছে- ক্রমাগত দূরে সরে যাওয়া নক্ষত্রগুলোকে পিছিয়ে নিয়ে আসলে যে একটা বিন্দুতেই মিলিত হচ্ছে, এটা মানা যাবে না। মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করে না।

বাহ! আরিফ আজাদ ভাই, কী যুক্তিই না দেখালেন। নাস্তিকের মায়ের মাটি কাঁপিয়ে দিয়েছেন আপনি!

এবারে আরেকটা প্যারাডক্সে চলে যাই। আরিফ আজাদ সাহেব বলেছেন, “সৃষ্টিকর্তার পক্ষে অনেক প্রমাণ আছে, কিন্তু সেটা বিজ্ঞান পুরোপুরি দিতে পারে না। এটা বিজ্ঞানের সীমাবন্ধতা, সৃষ্টিকর্তার নয়।”

উক্তিগুলোকে সিরিয়াসলি নিতে ইচ্ছা করছে না। তাও নিচ্ছি। তিনি বলছেন, বিজ্ঞান ঈশরকে আবিষ্কার করতে পারেনি, এটা বিজ্ঞানের ব্যর্থতা। ধরুন কোনদিন, বিজ্ঞান ইশ্বর আবিষ্কার করল, সেদিন তাহলে আপনি বিজ্ঞান মেনে নেবেন? আজ যে বিজ্ঞানকে মানছেন না, সেই বিজ্ঞান সেদিন আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যাবে? ব্যাপারটা আত্মবিরোধি হয়ে যাচ্ছে না?

এবারে কথাটাকে সিরিয়াসলি না নিয়ে ব্যাঙ্গ করে নিয়ে জবাব দেই। – হ্যাঁ, আরিফ সাহেব, যেহেতু বিজ্ঞান ভূত খুঁজে পায়নি, সুতরাং সেটা ভূতের দোষ না, বিজ্ঞানের দোষ। ভূত আছে- বিজ্ঞানই তো ভূত আবিষ্কারই করতে পারল না। বিজ্ঞান আত্মা আবিষ্কার করতে পারেননি, এটাও বিজ্ঞানের দোষ। বিজ্ঞান ইয়েতি আবিষ্কার করতে পারেনি- এটা বিজ্ঞানের দোষ। ইয়েতি আছে, আবিষ্কারের অভাব জাস্ট। আপনার, আপনার অনুসারী মুসলিমদের উচিৎ, ভূত, জিন, ইয়েতি, আত্মায় বিশ্বাস করা।

এবারে সর্বশেষ প্রশ্নের জবাব দিয়ে ব্লগ শেষ করবো।

আরিফ আজাদ, লেখক, একটি অনুকল্প সাজিদের সামনে উপস্থাপন করেন। অনুকল্পটি হচ্ছে এমন- তিনি সাজিদের প্রেমিকা মিতুকে রেপ করেছেন। সাজিদ এটা জানতে পেরেছে। এখন তিনি সাজিদকে প্রশ্ন করেছেন, “এখন বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা কর দেখি, মিতুকে ধর্ষণ করায় কেন আমার শাস্তি হওয়া দরকার।”

কী মনে হয়, এর উত্তর সাজিদ দিতে পেরেছে? ঠিক ধরেছেন, পারেনি। কারণ? আগেই বলেছি, এই বইয়ে শুধু নাস্তিকদের যুক্তিতে হারিয়েই দেয়া হয়েছে। যাক, আমি যতোটা পারি জবাব দিয়ে নেই।

কে ধর্ষণ করেছে, এটা বের করতে ডিএনএ টেস্টই যথেষ্ট। সে প্রশ্ন অবশ্য তিনি করেননি। প্রশ্নটা হচ্ছে, বিজ্ঞানের দ্বারা তাকে দোষী প্রমাণ করা। সে দিকেই বরং নজর দেয়া যায়।

প্রথমে আমরা দেখি, ধর্ষণের কারণে নারী দেহে মনে কীকী প্রভাব পড়ে। একজন নারী ধর্ষণের স্বীকার হওয়ার পর, সে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক নানা সমস্যায় পতিত হয়। প্রথম ধাপে সে PTSD (post-traumatic stress disorder) এর কবলে পড়ে। PTSD এর ফল হলো- দুঃস্বপ্ন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ফ্ল্যাশব্যাক, ধর্ষণের সেই দুঃসহ ঘটনাকে নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ভাবনা। ধর্ষিতা অকারণে যখন তখন কান্না, অতিরিক্ত দুঃখবোধ এর মত মানসিক সমস্যায় পতিত হয়। ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে- যার ফলে, অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পায়। তার আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে যায়। সে সমাজ থেকে, বন্ধু থেকে, এমনকি অনেক সময় পরিবার থেকেও নিজেকে গুঁটিয়ে নিতে থাকে। আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়ে। এটা তো গেল মানসিক সমস্যা। শারীরিক দিক থেকে, জোর পূর্বক যৌন কর্মে নিয়োজিত করায়, নারীর ভ্যাজাইনা ও মুখে থেকে ব্লিডিং হয়ে থাকে, যেখানে সেখানে কালশিটে পড়ে যায়। হাড়হাড্ডি ভেঙ্গে যেতে পারে। জরায়ুতে নন-ক্যান্সারাস টিউমার দেখা দিতে পারে। প্রেগ্নেন্সির ভয় থাকে। STD (Sexually transmitted diseases) যেমন এইডস, সিফিলিস, গনেরিয়া ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

উপরের সে সমস্যাগুলোয় একজন ধর্ষিতা পতিত হয়, এর সবই চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিমাপযোগ্য। একজন মানুষ মানসিক ভাবে সুস্থ না অসুস্থ তা জানার জন্য আছেন সাইকলোজিস্ট। সাইকোলজি ব্যাপারটা শারীর-মনোবিজ্ঞানের যৌথ রুপ মাত্র।

বিজ্ঞানের দ্বারা অনায়াসে জানা যাচ্ছে, আপনি কেন দোষী। আপনার ধর্ষণের ফলে যেসব কুফল মেয়েটার জীবনে এসেছে তার একটা লিস্ট আপনার হাতে ধরিয়ে দেয়া যাবে। আপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বিজ্ঞান দেখিয়ে দেবে, কেন আপনার শাস্তি হওয়া উচিৎ মিতুকে ধর্ষণের জন্য।

আরেকটি কথা, বিজ্ঞান কোনদিন দাবী করেনি কোরানের মত যে, সে দাম্পত্য কলহ থেকে শুরু করে গরু চুরির অপরাধের বিচার পর্যন্ত করবে। বিজ্ঞানের কাজ অজানাকে জানা। অজানাকে জানিয়ে মানুষের জানার স্পৃহাকে মেটানো, সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন উন্নত করা। বিজ্ঞানকে আপনি বিচারের কাজে ব্যবহার করতে পারেন, কে দোষী তা জানতে বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু বিজ্ঞান এসে বিচার করে যাবে, এটা ভাবা বাতুলতা। আইন, সংবিধান- এসবের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান সহায়ক, আইন বা সংবিধান যুক্তিযুক্ত কিনা সেটা যাচাইয়ের নিয়ামক। কিন্তু বিজ্ঞান সংবিধান কিংবা আইন নয়।

সবার শেষে, আরিফ সাহেব বলেছেন, আমাদের যাদের বাবামা বলে চিনি, জানি, ভালবাসি তারাই যে আমাদের আসল বাবা মা- সেটা আমরা জানি না। আমরা অন্য কারও ঔরসেও জন্মাতে পারি। কিন্তু আমরা এব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করি না। আমরা চোখ বন্ধ করেই তাদের বিশ্বাস করে নেই। তেমনই বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহকে। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসটাও এমন। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হয়।

কথাগুলো আবেগের। এই আবেগী কথাতেই সাজিদ গলে গিয়ে পরদিন নামাজ পড়তে আরম্ভ করে দেয়। তার জায়গায় আমি হলে নির্ঘাত বলতাম, “বাবা মা, আর স্রষ্টার ব্যাপারটা এক নারে পাগলা। বাবা মা আমাদের লালন পালন করে বড় করেন। আমাদের সব অবুঝ প্রশ্নের উত্তর দেয়। একটা ছোট বাচ্চা যখন একটা কাকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “আব্বু, কাক কা-কা করে কেন?” তখনও বিরক্ত হয় না। হাসি মুখে উত্তর দেয়। তিনি কোনদিন বলেন না, “আমি তো লালন পালন করছি, আমার প্রশংসা কর, আমার জিকির কর”। বাবামা একটা নির্দিষ্ট সময় পর, আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলে। আমাদের উপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণের হাত সরিয়ে নেয়। তারা আমাদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেয়। কিন্তু আল্লাহ তো তার ঠিক উল্টোরে। আল্লাহ আমাদের কোন প্রশ্ন করতে দেন না। তিনি আমাদের দিনে অন্তত পাঁচবার তার গুণগান গাইতে বলেন, একটা মাস তার জন্য না খেয়ে থাকতে বলেন। তিনি আমাদের প্রতি পদে বাঁধা দেন। মেয়েদের সবসময় পর্দার আড়ালে থাকতে বলেন, একটা চুল পরপুরুষ দেখলে তাকে কত কত বছর জাহান্নামের ভয় দেখায়। আল্লাহ তো আমাদের চিন্তা করার স্বাধীনতা দেয় না। আল্লাহ তো নারীকে বলে, পুরুষের সেবা করতে, আর পুরুষকে চারটা বিয়ে দেয়ার পার্মিশন পর্যন্ত দেন। কই কোন বাবাকে শুনেছিস, তার মেয়ে বা ছেলে ভুল করলে বলে, তোকে একশদিন ঘরের ভিতরে বন্দী করে রাখব? তোর আল্লাহর চাইতে আমার বাবামা অনেক বেশি দয়ালু।

তাই বাবামাকে নিয়ে আমি প্রশ্ন করি না। তাও যদি বলিস, প্রশ্ন করার কথা, তাহলে শুনে রাখ- ডিএনএ টেস্ট করলেই জানা যায়, কে কার সন্তান। যে বাবামাকে আজ বাবামা বলে ডাকছি, তারা আসল কিনা জানা যেতেই পারে। কিন্তু তোর আল্লাহকে কোন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করবো রে? আমরা কিন্তু বাবামা আসল কিনা জানতে পরীক্ষা করি না। কারণ তারা আমার উপর বোঝা হয়ে নেই। বোঝা হয়ে আছে আল্লাহ। তার কারণে আজ পৃথিবীতে এতো এতো যুদ্ধ- কত কত মানুষের জীবন নিচ্ছে মুসলিম জিহাদিরা। তোর আল্লাহ্‌র নবি নিজেই তো যুদ্ধ করেছেন। শান্তির ধর্ম কীকরে যুদ্ধ করতে, জেহাদ করতে বলতে পারে রে? যেখানে মহাত্মা গান্ধী বলেন, একগালে থাপ্পর দিলে আরেক গাল এগিয়ে দাও, সেখানে মহান করুণাময় আল্লাহ কীকরে এতো অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন? তাই তাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে না পারলে আমার কি দোষ? সত্যিই আল্লাহ থাকলে আর কোরান তার গ্রন্থ হলে, সেখানে তো পৃথিবী সম্পর্কে এতো ভুল তথ্য থাকত না, মারামারির কথা থাকত না, থাকত না নারী বৈষম্যের কথা! তাই আল্লাহ নেই বলে বিশ্বাস করি রে, পাগলা। আল্লাহ বলে কেউ নেই।”

আমার মনে হয়, প্রথম অধ্যায়, ‘একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস’ এর সকল প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পেরেছি। কিংবা পারিনি। যদি আমি সফল না হই, তবে ভুলগুলো দেখিয়ে দেবেন আমাকে। সেব্যাপারে সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেব।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “প্যারাডক্সিকাল সাজিদ থেকে প্রশ্ন ও আমার জবাবঃ ১

  1. বিজ্ঞান আর ধর্মকে নিয়ে অখাদ্য
    বিজ্ঞান আর ধর্মকে নিয়ে অখাদ্য খিচুড়ী পাকানটা খুবই বিরক্তিকর। অথচ এই কাজটিই করবে আমাদের গুনধর নাস্তিক আর মুমিনরা।
    কিভাটে রকেট চলবে, কিভাবে লাইট জ্বলবে, মানূষ কিভাবে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে হাগবে-মুতবে, কিভাবে এটম বোমা বানালে অনেক বেশী মানুষ মারা যাবে- এগুলা হচ্ছে বিজ্ঞানের গবেষনার বিষয় । কিন্তু আল্লাহ , ফেরেশ্তা, স্বর্গ-নরক,মৃত্যু পাপ-পুন্য, নৈতিকতা এসব বিজ্ঞানের বিষয় নয়। তাই এসব বিষয়ে বিজ্ঞান কোন গবেষণা করবে না বা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

    বিজ্ঞান নাস্তিকতার পক্ষে বা আস্তিকতার বিপক্ষে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাই আমার কাছে এসব নিয়ে খিচুড়ী পাকানটাকে নিতান্ত গাধামী বলেই মনে হয়।

    1. এই গাধামী কাজটা মুমিনরা বেশি
      এই গাধামী কাজটা মুমিনরা বেশি করে। বিজ্ঞানের নতুন কোন আবিষ্কারকে কোরানে খঁুজে বেড়ানোর মত গাধামী বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা করে না।

    2. এই গাধামিটা আমারও করতে খুব
      এই গাধামিটা আমারও করতে খুব ভাল লেগেছে, এমনটা নয় কিন্তু। আসলে এই টিপিকাল প্রশ্নগুলোর জবাব অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছেন নাস্তিকেরা- অনেক লেখালেখি করেছেন এখনকার ব্লগারেরাও। কিন্তু তারা প্রশ্ন করছেই অবিরত। যেহেতু খুঁজে খুঁজে তারা লেখাগুলো পড়ছে না, তাই এ লেখাটা দিতে হলো। কতটা যুক্তিসংগত হলো, জানা নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, সে বইয়ের সব প্রশ্নের জবাব নাস্তিকেরা দিতে সক্ষম।

  2. আপনার জবাব পোস্ট ভারসনটা
    আপনার জবাব পোস্ট ভারসনটা ভালো হয়েছে এটা বলবো। আমার ভারসনের মতো না যদিও, ত্রুটি আছে। আমার পেজ https://www.facebook.com/Mussharraf-Hossen-Shoikot-250053562073138/ এ আমার ভারসনটি পাবেন।

  3. “এটা তাদের জন্য যারা বিশ্বাস

    “এটা তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।”

    হুম, কোরানে আসলেই কোনো সন্দেহ আমি দেখি না। সেখানে বলা আছে, ‘এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য।” এই চমতকার গ্রন্থটি বলেই দিয়েছে যে, যারা বিশ্বাস করে, তাদের এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না। বিষয়টা অন্যভাবে বললে দাঁড়ায়, যারা বিশ্বাস করবে না, তারা এটির প্রতি সংশয় রাখতে পারবে।
    এই জিনিসটা কিন্তু কোরানে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে; এখন যার ইচ্ছা এতে বিশ্বাস করতে পারবে, যার ইচ্ছা এতে সন্দেহ করতে পারবে।
    তবে, কোরান খুব আশ্চর্যজন গ্রন্থ; এখানে ‘দিন’ শব্দটা আছে ৩৬৫ বার, মাস শব্দটা আছে ৩০ বার, মাসসমূহ শব্দটা আছে ১২ বার। … এরকম অনেক আশ্চর্য ব্যাপার কোরানে আছে, যাতে আমার মতো সংশয়বাদীও অবাক হয়ে যায়; চিন্তা করতে বাধ্য হয়, এটি রচনায় বহিঃজাগতিক কোনো শক্তির ভূমিকা আছে।

    1. আপনিও এসব আবোলতাবোলে বিশ্বাস
      আপনিও এসব আবোলতাবোলে বিশ্বাস করেন! কোরানে মাস ১২ বার নয়, আরো বেশি, এখানে দেখুন

      https://wikiislam.net/wiki/12_months_miracle_in_the_Quran

      শব্দ মিরাকল
      https://wikiislam.net/wiki/Word_Count_Miracles_in_the_Qur'an

      ১৯ মিরাকল, বাঙলায় http://www.mediafire.com/download/p3o7yp05ll76w3m/nineteen_Shoikot_Ananta-19.pdf

  4. তোরা সব শালারা একি বলদের
    তোরা সব শালারা একি বলদের চোদার ফসল।
    তোরা কোন নাস্তিতিকও না আস্তিকও না তোরা হইলি বলদের চোদায় আবাল।
    তোদের কাজ হল উল্টা পাল্টা বলে বই বিক্রি করা।
    ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করা তোদের কাজ।
    তোদের কে কি শয়তানে চোদে।
    শালারা দুনিয়াতে আর কোন কাজ খুজে পাস না।
    অন্তত রিকসা ত চালাতে পারতি।
    তোদের মত আবালদের জন্য দুনিয়াতে এত অশান্তি।
    তোরা কুত্তার চেয়ে নিকিষ্ঠ।
    তোরা সব কুত্তা এক ।
    তোদের মাঝে কোন কুত্তা ধর্মের পক্ষে বলে ।
    আবার কোন কুত্তা ধর্মের বিজ্ঞানের পক্ষে বলে।
    সব তোদের ব্যাবসা।
    কুত্তার বাচ্ছারা…………

  5. তোরা সব শালারা একি বলদের
    তোরা সব শালারা একি বলদের চোদার ফসল।
    তোরা কোন নাস্তিতিকও না আস্তিকও না তোরা হইলি বলদের চোদায় আবাল।
    তোদের কাজ হল উল্টা পাল্টা বলে বই বিক্রি করা।
    ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করা তোদের কাজ।
    তোদের কে কি শয়তানে চোদে।
    শালারা দুনিয়াতে আর কোন কাজ খুজে পাস না।
    অন্তত রিকসা ত চালাতে পারতি।
    তোদের মত আবালদের জন্য দুনিয়াতে এত অশান্তি।
    তোরা কুত্তার চেয়ে নিকিষ্ঠ।
    তোরা সব কুত্তা এক ।
    তোদের মাঝে কোন কুত্তা ধর্মের পক্ষে বলে ।
    আবার কোন কুত্তা ধর্মের বিজ্ঞানের পক্ষে বলে।
    সব তোদের ব্যাবসা।
    কুত্তার বাচ্ছারা…………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 − 73 =