শান্তির ধর্ম ইসলামের সন্ত্রাসবাদী রূপ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ সরকারের ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমি মনোভাব

তথাকথিত শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনই মানবজীবনে শান্তি এনে দিতে পারে নি,ভবিষ্যতেও পারবে না।
পৃথিবীতে যখন থেকে ইসলাম মুহম্মদের হাত ধরে এসেছে,ঠিক তখন থেকেই সমাজে অত্যাচার, বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা,ভণ্ডামো, দখলদারিত্ব, নারী নির্যাতন প্রকট রূপে দেখা দিয়েছে। যার অসংখ্য প্রমাণ কোরআন হাদিসে রয়েছে।

ইসলাম আসার পূর্বে আইয়্যামে জাহেলিয়াত যুগে যেমন বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, নারী নির্যাতন সমাজে বিদ্যমান ছিল,ঠিক ইসলাম আসার পরবর্তীতে সময়েও ইসলাম সেগুলো ছাড়তে পারে নি।

মুহম্মদের সময় থেকে খলিফাদের সময় পর্যন্ত বর্বরতা সমাজে বিদ্যমান ছিল।তার ধারাবাহিকতা এখনো সমাজে আছে।

মুহম্মদের সময়ে কেউ ধর্মের বিধান বা মুহম্মদের কথা না মানলে মুহম্মদ তাকে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং আইন প্রণয়ন করে।

মুহম্মদ নিজেও কয়েকবার বিধর্মী নিধন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে।মুহম্মদের বিরুদ্ধে কবিতা লেখার জন্য দুজন কবিকে প্রকাশ্যে হত্যা করার সাহাবীদের নির্দেশ দেয়।যার উদাহরণ হাদিসে আছে।

মুহম্মদ তার অনুসারীদেরও বিধর্মী নিধনের প্রেরণা দেয়।সে ঘোষণা করে যুদ্ধে মারা গেলে শহীদ।শহীদরা বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করবে।আর জান্নাতে রয়েছে ৭২ জন হুর।সে হুররা সবসময় উলুঙ্গ থাকবে।যখন খুশি তখন তাদের সাথে মিলন করা যাবে।এধরনের লোভ মুহম্মদ তার অনুসারীদের দেয়।

আর ধর্ম যুদ্ধে বিধর্মীদের সম্পদ ও স্ত্রী, কন্যাদের গানিমতের মাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।যেহেতু বিধর্মী নারীরা গানিমতের মাল। তাই তাদের সাথে যৌন মিলন বা তাদেরকে ধর্ষণ করা বৈধ।ধর্ষণ করলে কোন পাপ হবে না।এরকম নষ্টামোর কথা কুরআনে বলা আছে।

মুহম্মদের সময়কালীন যেমন সমাজে বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, নোংরামো, ভণ্ডামো, বিধর্মী ধর্ষণ বিদ্যমান ছিল।ঠিক তেমনি এখনো সমাজে ইসলামের অনুসারীরা তার ধারা অব্যাহত রেখেছে।সেজন্য আমরা দেখতে পারি মায়ানমারে রোহিঙ্গা নারীদের উপর ধর্ষণ,পাকিস্তানিদের হাতে নারী নির্যাতন।

আমি কখনই বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে ইসলাম শান্তির ধর্ম হয়।

আমার জানা মতে,ইসলামের অনুসারীরা যেমন অন্য ধর্ম,মতের মানুষদের উপর অত্যাচার, হত্যা করেছে।তা অন্য কোন ধর্মের বা মতের অনুসারীরা করেনি।তারপরেও নাকি ইসলাম শান্তির ধর্ম।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ :

বর্তমানে বাংলাদেশে সুস্থ্য মস্তিষ্কের মানুষ,ভিন্ন মতাবলম্বী,মুক্তমনা মানুষদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন,সার্বভৌম দেশ।এদেশে সব ধর্মের লোক বাস কারে।

যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বাংলার মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।তার আজও বিন্দুমাত্র পূরণ হয় নি।মুক্তিযোদ্ধাদের চাওয়া – পাওয়া অপূর্ণ রয়ে গেছে।

অনেকেই আমরা আওয়ামীলীগকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে মনে করি।এমনকি তারাও নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে।যদিও আমরা সে ধরনের প্রমাণ আজও পায় নি।

আমার মতে,আওয়ামী সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ যেভাবে মাথা চাড়া দিচ্ছে, অন্য কোন সরকারের আমলে এতটা দিতে পেরেছে নাকি সন্দেহ হয়।তবে অনেকে বলবেন অন্য সরকারের আমলে হয় নি।হ্যা অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু এ সরকারের আমলে মাত্রাধিক।

যার প্রমাণ সরূপ আমরা দেখতে পাই,একের পর এক ব্লগার হত্যা,ধর্ষণ, লুটতরাজ।

যে দেশটি স্বাধীনতার পর অসাম্প্রদায়িক দেশ হওয়ার কথা ছিল।তা কখনই হয় নি।ভবিষ্যতেও হবে নাকি সন্দেহ আছে।

আওয়ামী সরকার যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতো।তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করছে না কেন? তারা কি হেফাজতে ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সংগঠনের মত ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়?নাকি হেফাজতে ইসলাম কে ভয় পাই।

পাকিস্তানি আমলেও মানুষের প্রতি এতটা অত্যাচার নেমে আসেনি।যতটা বা এখন নেমে আসছে।

যেদেশে আল্লামা শফি,বাবুনগিরির মত ভণ্ডলোক প্রকাশ্যে মানুষ মেরে ফেলার হুমকি দেয়।সে দেশে কিসের গণতন্ত্র আছে?

আজ সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে গ্রীক মূর্তি অপসারণের জন্য হেফাজত ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো আন্দোলন করছে।কাল যে শহীদ মিনার,রাজু ভাস্কর্য, মুক্তযুদ্ধের চেতনা বহুল মূর্তিগুলো অপসারণের জন্য দাবি করবেনা।তার কি গ্যারান্টি আছে?

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরাধ করছি,সময় থাকতে আপনি বিষয়গুলো সুনজরে বিবেচনা করবেন।

নয়তো তারা ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের জন্য কয়েকদিন পরে নারী নেত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করবে।

তাই সময় থাকতে ওদের বাধা দিন।নয়তো আপনাকেও পস্তাতে হবে।সেদিন চাইলেও কিছু করতে পারবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 56