যারা সোনালী A+ বা A+ পাও নি তাদের অভিনন্দন

গোল্ডেন A+ টা কি সোনালি ডিম? আর সোনালি ডিম পারা হাঁস হওয়ার দৌড় যেন এই শিক্ষা ব্যবস্থা ‘মানুষের মত মানুষ’ হওয়ার জন্যে শিক্ষা কি বিশ্ববাসীকে আমরা প্রথম দেখাতে পারি না?আর কেনই বা সবাই সোনালী ডিম পারতে চাই, মানুষ না হয়ে। যারা A+ পাও নাই তাদের অভিনন্দন, কেননা তোমরা সোনালি ডিম পারা হাঁস হবা না এইটা নিশ্চিত, এখন তোমাদের হাতেই মানুষের মত মানুষ হওয়ার বিরল সুযোগ থাকল। অশেষ – অফুরন্ত শুভ কামনা তোমাদের জন্যে। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে সোনালী A+ পাওয়া দোষের কিনা, বা আমি তা বলতে চাচ্ছি কিনা?

অবশ্যয় দোষের না, আর আমিও তা বলতে চাচ্ছি না। মূল কথা হচ্ছে আজ বিশ্বে যে ধারায় শিশুদেরকে একটা অসম যুদ্ধে স্কুলজীবন থেকে ফেলে দিচ্ছে তা ঠিক না বা সমর্থনযোগ্য না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানব সমাজে আজও সেইভাবে মানুষ তৈরিতে অবদান রাখতে পারে নি। শিক্ষার উদ্যেশ্য হওয়ার কথা মূল্যবোধ সৃষ্টি অথচ তা আজ অর্থ উপার্জনের মেশিন বানাচ্ছে, মানুষ না। আর আজেকের ফলাফলের মধ্যে এই সোনালী A+ পাওয়ারা সেই চক্রে পা রেখেছে। সে এইচএসসি তেও হয়ত তাই পাবে তারপর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা এমন কোন বড় ধরনের অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হবে।

যারা সোনালী A+ পেয়েছে তারা পরিবারের চাপে সংকটের মুখে তাদের মানুষ হওয়ার সহজাত চেতনা বা তাড়নাকে বিসর্জন করবে, পরিণামে অর্থ-বিত্ত-সম্পত্তি-ঐশ্বর্য-যশ-খ্যাতি এইসবের লালসায় লালায়িত করে আজ রাত থেকেই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করবে। যা মানুষের সহজাত অনেক গুণাবলিকে হত্যা করবে শিশুদের বড় হওয়ার সন্ধিক্ষণে।

অপরদিকে যারা সোনালী A+ / A+ পাই নাই তাদের জন্যে নতুন বিশ্বের স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হল। প্রিয় মানব সন্তানেরা মনে রেখ জীবন কোন খেলা নয়, কোন লক্ষ্য নেই এখানে; জগতে ছড়িয়ে পর যা খুশি কর, স্বপ্ন দেখতে থাক মানুষের জন্যে একটা নতুন বিশ্বের জন্যে। কখনই মনে করবা না জীবনে কোন নিয়ম আছে। জীবনে কোন বাধা ও নিয়ম নেই,

“তোমার চিন্তা শক্তিই তোমার জীবনের শেষ সীমানা”

আর

“স্বপ্নই কেবল যথার্থ স্বাধীন”

মধ্যমিকে পড়া কিছু নীতিকথা সবসময় খুব মনে পরেঃ

“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”

আর

“শিক্ষার উদ্দেশ্য মূল্যবোধ সৃষ্টি”

এই সভ্যতা তবেই যথার্থ মুক্ত ও স্বাধীন হবে যখন মানুষ সুশিক্ষিত হবে; আর পুঁজিবাদের তাঁবেদারি যন্ত্র বা মেশিন না হয়ে মানবতার জন্যে কাজ করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “যারা সোনালী A+ বা A+ পাও নি তাদের অভিনন্দন

  1. পাইলেও সমস্যা দেখিনা, না
    পাইলেও সমস্যা দেখিনা, না পাইলেও সমস্যা দেখিনা। ফেসবুকার আর ব্লগাররাই দেখি বেশী টেনশিত এইটা নিয়া। :মানেকি:

  2. কারণ যারা একবেলা চাকরি করে
    কারণ যারা একবেলা চাকরি করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামায় বউ বাচ্চা নিয়ে তথাকথিত সৎ জীবন যাপন করে আর গবাদি পশুর মত কয়েকটা বাচ্চা দিয়ে বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ায় তাদের আমি ভাল মানুষ বলি না! আমি মানুষ বলতে আরও বেশী কিছু মনে করে। এই কাজ অনেক প্রাণীই করে, আমরা শুধু সংখ্যা বাড়াইতে আসি নি এই দুনিয়ায়।
    গাড়ি হবে, বাড়ি হবে, সুন্দর বউ হবে, বছর বছর ট্যুর হবে। অনেক সম্পদের মালিক হব এমন বেশী দুধ দেয়া গাই হতে চাই না! আজকের সভ্যতার যে জ্ঞান আছে তাতে মানুষের চিন্তা-চেতনার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার না হয় অতি সম্প্রতি আমরা বিশ্বের Apocalyptic কিছু দেখে যেতে হবে। সবাই আজ সফল হতে পরালিখা করে মানুষ হতে না। হুমায়ুন আজাদ স্যারের একটা উক্তি খুব মনে পরে গেলঃ
    “ব্যর্থরাই প্রকৃত মানুষ, সফলেরা শয়তান।”

  3. হুম । আজকাল অভিভাবক সমাজ এ এই
    হুম । আজকাল অভিভাবক সমাজ এ এই সোনালি এ + / এ + নিয়ে যে ভুল ধারনা তা. সত্যিই অনেক দুঃখজনক । দেশের গ্রেডিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে

    1. ভাই আমি কিন্তু শুধু দেশের
      ভাই আমি কিন্তু শুধু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলি নাই, আমি চাই গোটা দুনিয়াতেই শিক্ষা ব্যবস্থার যে সর্বগ্রাসী রুপ নিয়েছে তার পরিবর্তন দরকার!!
      মানবতা রেজাল্ট চাই না মানুষের কল্যান চাই… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

      বিশ্বের সাথে তাল মিলানোর জন্যে এর বিকল্প নাই!!
      আমি গোটা দুনিয়ার পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =