নারী দি বস !!


দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। সংসদের পাতানো বিরোধীদলীয় নেত্রী কিংবা রাজপথে কোনো এক ঈদের পরে ক্রমাগত আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাওয়া শো পিস মহিলাটাও একজন নারী। আজব আমাদের দেশ, সংসদে স্পীকারও একজন নারী। মানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে বকবক চালানোর সময় একজন নারীরই অনুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন। মুখের উপর মাইক বন্ধ কইরা দিতে পারবেন। এতই যখন ক্ষমতা, তাইলে আলাদা নারী দিবসের দরকার কী? নারীর ক্ষমতায়ন দেইখা তো মনে হয় নারী অলরেডি ইজ দি বস…

বাকী দুনিয়ার কথা জানি না। এইদেশে কেউ একটা উষ্টা খাইলেও মুখ দিয়া বাইর হয়, “ও মা গো”! বাপের নাম কেউ নেয় না। কসম খাইতে গেলেও মানুষ “মায়ের কসম” খাইতে বলে। সবাই জানে, মায়ের নাম নিয়া কোনো দূর্নীতি চলে না, কেউ কইরা ফেললেও তা তার জন্য দুরূহই হয়ার কথা। এই মা কিন্তু একজন নারীই। তাঁর প্রভাব কিংবা ক্ষমতা ব্যাপক।

দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। সংসদের পাতানো বিরোধীদলীয় নেত্রী কিংবা রাজপথে কোনো এক ঈদের পরে ক্রমাগত আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাওয়া শো পিস মহিলাটাও একজন নারী। আজব আমাদের দেশ, সংসদে স্পীকারও একজন নারী। মানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে বকবক চালানোর সময় একজন নারীরই অনুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন। মুখের উপর মাইক বন্ধ কইরা দিতে পারবেন। এতই যখন ক্ষমতা, তাইলে আলাদা নারী দিবসের দরকার কী? নারীর ক্ষমতায়ন দেইখা তো মনে হয় নারী অলরেডি ইজ দি বস…

I just don’t give a damn about these bullshit days. উৎসবের দিনের হিসাব আলাদা, কিন্তু এইসব দিন যেদিন থাকবে না, সেইদিন বলা যাবে যে অধিকার আর হেনতেন নিয়া হাহাকারের আকার ক্ষুদ্র হইছে। যাইহোক, নারী দিবসে সহমর্মিতা জানাইতে কিংবা একাত্মতা ঘোষণা করতে গিয়া অনেকে আমার দৃষ্টিতে হাস্যকর কান্ডকারখানা চালাইতেছেন। উনারা এখন নানাভেস্টের জায়গায় ব্রা আর আন্ডারওয়্যারের জায়গায় স্যানিটারী ন্যাপকিন পইরা বইসা থাকেন নাকি কে জানে। লোক দেখানো সমবেদনা, লোকদেখানো ভালোমানুষীর সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য হয়ে দাড়াইছে এইসব নানা দিবস, যা আবার অধিকার, মানবাধিকার, নির্যাতন নিপীড়নের সাথে সম্পর্কিত। অন্তরে অসুর হইলেও উপরে উপরে অনেকেই দেবতাভাব চমৎকারভাবে ফুটাইয়া তোলার ক্ষমতা রাখেন।

যাইহোক, দুনিয়ার অবস্থা নিয়া ভাবি না। আমি সামান্য মানুষ, দেখার গন্ডি সীমিত। এইদেশে কিংবা উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার মনে হইছে নারীর প্রধান শত্রু নারী। নারী দিবস টাইপ কিছু থাকাটাই অসম্মানের যা দিয়া আমরা আসলে বুঝি নারীর অধিকার নাই, অধিকার বঞ্চিত, মাইর খায়া পেত্নী হয়া যাইতেছে। কিন্তু এইদেশের বেশিরভাগ পরিবার চালায় নারী। মায়ের কথার উপর কোনো কথা চলে না। এমনকি মা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করলে পোলা মাইয়া যতই অবাধ্য হোক, লাইনে আইসা দাড়াইয়া যায়। সবাই এমন না, কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারেরই একই অবস্থা। এইসব মায়েরাই যদি আগে নিজেদের পরিবর্তন করতেন, তাইলে দুনিয়া পাল্টাক না পাল্টাক, আমাদের দেশ অনেকটাই পাল্টাইতো। নারীর অধিকার নিশ্চিত করার দায় পুরুষের না। যার যা অধিকার, যে যেইভাবে বাঁচতে চায় তার জন্য তাদেরই কথা বলতে হবে আগে। কেবল নিজেরটা নিয়া গলা উঁচু না কইরা নিজের প্রজাতির অন্যদেরটা নিয়াও ভাবা জরুরী।

এইদেশে কিংবা উপমহাদেশে কিছু অদ্ভুত প্রথা আছে, সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্যের অংশ বানাইয়া ফেলা হইছে ওইসব অসম্মানজনক প্রথাকে। বিয়ের সময় একটা মেয়েকে খুটাইয়া খুটাইয়া দেখার কাজ সবচেয়ে আগ্রহ নিয়া করেন অন্য নারীরাই। আমার মনে হয় এই ব্যাপারে পুরুষের আগ্রহ কিছুটা কমই। নারী নির্যাতনের অনেক কাহিনি পড়ি, দেখা যায় যে এর পিছনেও থাকে নারীদেরই ইন্ধন, উস্কানী। স্টার জলসা, জি বাংলার শাশুড়ি বউয়ের কাইজ্জা,কূটনামী আসলেই বাস্তব। কোনো পোলা কোনো মাইয়ার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে ধরা খাইলে কিংবা আবেগের বশে যৌন সম্পর্ক কইরা ধরা খাইলে ছেলের কিছু হয় না। নিজ বাড়ির মা বোন খালা চাচী ফুপুরাই দুইদিনে ভুইলা যাবেন। কিন্তু নিজের মেয়েই যদি করে ঐ একই কাজ, লাইফ শেষ। একই কাজের জন্য আলাদাভাবে নিজেদের বিচার তো নারীরাই করেন। সতী অসতী নিয়া মাথাব্যথা কিংবা ওই মেয়ের সাথে কারো পিরিতি ছিল নাকি এইসব খুঁজতে অতি আগ্রহী হন নারীরাই। নিজেদের পোলা, ভাই কিংবা মামা চাচার দুই চারটা কেন, দশটা পিরিতেও তাদের সমস্যা থাকে না, তাইলে তাদের নারীচোখেও হয় ডিমান্ডঅলা পোলা। এই দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাবে কে?

কর্মক্ষেত্রে আমার বেশ অনেকজন মহিলা কলিগ আছে, সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু আমাদের তাদের কে কি কইরা বেড়াইতেছে তা নিয়া যতটা না আগ্রহ, তাদের আগ্রহ আর চর্চা অনেক বেশি। এই স্বভাবগুলা প্রকৃতিপ্রদত্ত নাকি কে জানে।

আমার খুব আপন, কলিজার টূকরার মত এক ভাস্তির কথা বলি। আমি চাচ্চু হইলেও যার সাথে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মত। আমার নিজের অংশ মনে হয় ওরে। তার যখন প্রথম পিরিয়ড হইলো, সে ব্যাপক ভয় পাইছিলো। তার মা উচ্চশিক্ষিত, মাস্টার্স পাস ঢাকা ভার্সিটি থেকে। এত শিক্ষার পরেও উনি উনার কন্যারে দেখাইছিলেন ভয়। ব্যাপারটা যে স্বাভাবিক সেইসব না বুঝাইয়া বলছিলেন ছেলেদের থাইকা দূর থাকতে। কেউ যাতে না ছুঁইতে পারে। আমাকে যেহেতু সবই বলে, তাই এইটাও বলছিল। আমি কিছু করি নাই ওর জন্য। কেবল কিছু লিঙ্ক ধরাইয়া দিয়া বলছিলাম পড়তে। আজকালকার বাচ্চারা স্মার্ট। পড়লে বুঝে, আর এইসব নিয়ে সুলিখিত কন্টেন্টের অভাব নাই যা ছোটরাও বুঝতে পারে। নিজেদের ন্যাচারাল প্রসেস নিয়া শিক্ষিত হওয়ার পরেও নিজের মেয়েকে বোঝাইতে কেন এমন ট্যাবু, মাথায় আসে না। অশিক্ষিত পরিবারে তাইলে কী হয়? এইসব ব্যাপারে সচেতন তো মেয়েরাই করবে আরেক মেয়েকে। একটা ছেলে মেয়েদের এইসব বুঝাইতেছে তা এই অতি আধুনিক সময়েও অস্বস্তিকর। এইসব ব্যাপারও কিন্তু একঅর্থে অধিকারের অংশ। সম্পূর্ণ নারীর হাতে ব্যাপারটা।

নারী পুরুষ কখনোই প্রতিপক্ষ না। কিন্তু এই দিবসে সবকিছু এমনভাবে প্রেজেন্ট করা হয় যেন নারীর প্রধান প্রতিপক্ষ পুরুষ। সরি টু সে, নারী জীবনেও পুরুষ হইতে পারবে না, যেমন কইরা পুরুষও নারী হইতে পারবে না। নারী পুরুষের আলাদা কিছু ব্যাপার আছে। শারীরিক যোগ্যতার বিচারে পুরুষ অবশ্যই শ্রেয়তর। একজন পুরুষ কুলি একজন মেয়ে কুলির চেয়ে কম সময়ে অবশ্যই বেশি মাটি কাটতে পারবে। আমার কিছু শৈল্পিক সুক্ষ কাজ জীবনেও পুরুষরে দিয়া হবে না। আবার সন্তানপালন একজন নারী যেইভাবে করবেন, যেই মমতা নিয়া করবেন, সেইটা একজন পুরুষের পক্ষে কোনোক্রমেই সম্ভব না। বাচ্চা পি করে দিলে দেখা যাবে যে বাপ আধ ঘন্টা আউল লুক দিয়া রাখছে। আমাদের ডিজাইনার বইলা কেউ অদি থাকেন উনি আমাদের ওইভাবেই বানাইছেন। কোমল নারী কর্কশ বেকুব পুরুষের পরিপূরক। একজন আরেকজনকে কমপ্লিমেন্ট করে। আমি ভাব সংসারে যদি আমি আমার বউরে প্রতিপক্ষ ভাবি, কিংবা আমার বউ অধিকারের দাবীতে অনশনে যায়, ওই সংসার আমি করব কিভাবে? নিম্নবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত যেই ঘরই হোক না কেন, সাধারণত দেখা যায় যে বউয়ের কিংবা মায়ের উপর কথা চলে না। নারী শক্তির কাছে পুরুষ আদতেই অসহায়।

এখন কেউ যদি বউ পিটানো, এসিড মারা, নারীরে আফগানী বোরখার ভিতর রাখতে বাধ্য করা কিংবা মেয়েকে বাদ দিয়া ছেলেকে পড়তে দেয়ার উদাহরণ দিয়া বলেন কোথাও নারীর অধিকার নাই, তাইলে হয় এইগুলার অধিকাংশই দেশের আইন অনুসারে ক্রাইম কিংবা অবশ্যই অপসংস্কৃতি। আর এই অপসংস্কৃতির বেশিরভাগই ধইরা রাখছেন নারীরাই। এইগুলা ঝাটাইয়া দূর করতে একমাত্র নারীরাই পারবেন, কোনো পুরুষ বাঁধা হইতে পারবে না। দেশ কিংবা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বাঁধা নাই, আইনে বাঁধা নাই। সরকারী চাকরী কিংবা শিক্ষার ব্যাপারে নারীর আলাদা কোটা। সাধারণ কোটায় সবারই সমান অধিকার। মানে সরকারের নীতির সুবিধাভোগী নারীরাই বেশি। কিন্তু অনেক নারীই মা হইতে গিয়ে বা হওয়ার পরে চাকরী ছেড়ে দেন। এইটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিংবা স্বামী স্ত্রীর বক্তিগত ব্যাপার যা তারা নিজেদের ভালোর জন্য যেটা ঠিক মনে হয়, তাই করবেন। মানবসভ্যতা আরও লক্ষ বছর পার হইলেও সন্তানের লালনপালন আর মানসিকতা গঠনের জন্য মা বাদে কেউ অধিকতর যোগ্য হইতে পারবে না। আমার অবশ্য স্ত্রী চাকরীজীবি হওয়াটাকেই বেশি ভাল মনে হয়। সবাই সারাদিন কাজ করবে, দিনশেষে একসাথে থাকবার সময়টা হবে আনন্দময়। নারী কিংবা পুরুষ, কেউ যদি বাসায় একা একা সময় কাটায়, তাইলে মাথায় কুচিন্তা আসে বেশি, গুটিচালাচালি বেশি চলে। যৌথ পরিবার ব্যাপারটা আমার খুব পছন্দের। সবাই সবাইকে দেখতেছে। বাসাতেই একগাদা বাচ্চা, আলাপ করবার মানুষ কিংবা হেল্পিং হ্যান্ডের অভাব থাকে না। আমাদের চারতলায় এমন একটা ফ্যামিলি আছে। আমার খুব ভাল্লাগে। দাদী বলে যাকে ডাকি, উনি ওই ফ্যামিলির হেড। অণুপরিবার বিশ্বায়নের যুগের, মোবাইল আমলের দাবী। তবে কিছু ব্যাপার আগের মত থাকলেও হইতো। আনন্দ কিন্তু ভাগ করলে বাড়ে, কষ্ট ভাগ করলে কমে। যাইহোক, জয়েন্ট ফ্যামিলি ভেঙ্গে যাবার পিছনেও কারণ প্রধাণত মেয়েলি দ্বন্ধ, আমি যতটা বুঝি আরকি সেইমতে। আমি ভুলও হইতে পারি। এই ব্যাপারে যুক্তি পরের ব্যাপার, নিজের দেখাটাই আসল।

আমি পুরুষ দিবস চাই না, কিন্তু নারী দিবসও জলদি নিপাত যাক, এইরকম কিছু থাকা অসম্মানের। আর যে যাই বলুক, নারী তো এমনিতেই দি বস…

নারী দি বস উপলক্ষে একটা কোবতাংশ তুলে দেইঃ

আলাদা করে বুঝি না নামাঙ্কিত দিবসের মানে!
জীবনের রিনিউয়ালে অন্য কোনো গ্রহ কি আজও কেঁপে ওঠে?
সারাৎসারে যে নারী থাকে, এক নয়, ত্রিধা বা বহুধা,
তাদের ধরতে পারিনি বেতার সংকেতে,
হাতের আয়ুতে শুধু জানি বনবাস এলে-
একদিন সান্নিধ্য ভেসে যাবে পুরাতন গানে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 + = 29