প্যারাডক্সিকাল সাজিদঃ “আয়েশা (রাঃ) ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা” থেকে প্রশ্ন ও আমার জবাব

এর আগের পোস্টে বলেছিলাম, আরিফ আজাদের ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদ’ থেকে জবাব দেব একএক করে। ইচ্ছে ছিল ক্রমান্বয়ে সব অধ্যায়ের জবাব লিখবো। কিন্তু সেটার ব্যতিক্রম করতে হলো। ২য় অধ্যায়ের নাম- ‘তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি- স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত?’। লেখাটা পড়ে আমার আর ইচ্ছে হলো না উত্তর লেখার। যদি কখনো স্পৃহা জাগে, তবে লিখবো। এখন বরং,অন্য কোন টপিকে যাই। ১৫ তম অধ্যায়ে। অধ্যায়টার নাম, ‘আয়েশা(রাঃ) ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা’। আজ জবাব দেব এই অধ্যায় থেকেই।

লেখক আরিফ আজাদ শুরুতেই খুব সুন্দরভাবে একটা মিথ্যাচার করেছেন। তিনি লেখাটায় উল্লেখ করেছেন, আয়েশার যখন মোহাম্মদের সাথে বিয়ে হয়, তখন তার বয়স ছিল ৯। আর এই ‘নয় বছর তত্ত্বটা’ তিনি বলিয়ে নিয়েছেন একজন সংশয়বাদীর মুখ থেকে। যাতে করে কেউ মিথ্যাটা ধরে ফেললেও তার ঘাড়ে দোষ দিতে না পারে। দেখে নেয়া যাক বইটা থেকেই-

নিলয়দা মুখের রঙ পরিবর্তন করে বড় বড় চোখে সাজিদের দিকে তাকালো। বললো, “একজন পঞ্চাশোর্ধ বুড়া লোক ৯ বছর বয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে করলে দোষ নেই, তা নিয়ে কথা বললে দোষ হয়ে যায়?”
এরপর দেখা যায়, লেখাটার আরেকটা অংশে নিলয়’দা বলছেন, “তো? সামাজিক বন্ধন ধরে রাখতে ৯ বছরের কিশোরী বিয়ে করতে হবে?”

উল্লেখ্য, এই অধ্যায়ে নিলয়’দাকে খানিকটা সংশয়বাদী রুপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে লক্ষণীয়, পুরো লেখাটায় সংশয়বাদী নিলয়দা বলছেন, আয়িশার বিয়ের সময় বয়স ছিল নয়। কিন্তু মুসলিম সাজিদ কক্ষনো ৯ বছর কথাটা উচ্চারণ করেনি। সে যেহেতু মুসলিম, তার জানার কথা ছিল, বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ছিল ছয়বছর, নয় না। নিচের হাদিস দুটিতে একটু চোখ বুলিয়ে নেই-

“A’isha (Allah be pleased with her) reported: Allah’s Apostle (may peace be upon him) married me when I was six years old, and I was admitted to his house when I was nine years old.”- Sahih Muslim Book 008, Number 3310
Narrated ‘Aisha: that the Prophet married her when she was six years old and he consummated his marriage when she was nine years old, and then she remained with him for nine years”- SahihBukhari volume 7, book 62, number 64

কিন্তু বিশ্বাসী সাজিদ একবারও এই ভুলটা ধরিয়ে দেয়নি। সাজিদ যদি ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে বলত, “বিয়েটা হয়েছে তাঁদের, যখন আয়িশার রাঃ এর বয়স ছয়। কিন্তু আয়িশা মোহাম্মদের সংসারে প্রবেশ করেছেন নয় বছর বয়সে।”– তাহলে মেনে নেয়া যেত। কিন্তু সেটা না করে, বরং নয় বছর ধরে নিয়েই তর্ক যুক্তি চালিয়ে গেছে। শুধু যুক্তি চালিয়েই যায়নি, তর্কে জিতেও গেছে! যেটা একধরণের মিথ্যাচার। গোটা বইটায় সাজিদ অন্যের ভুল ধরে থাকে। তবে এই সামান্য ভুলটা শুধরে দিল না কেন? আয়েশার বয়স তিন বছর বাড়িয়ে নয় করে দিয়ে কি আরিফ আজাদ মোহাম্মদের বিয়েকে বৈধতা দিতে চাচ্ছেন?নাকি নয় বছর বয়সে আয়িশা’র বিয়ে হয়েছে- এই তথ্য পাঠকের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছেন সচেতনভাবে চাতুরী করে? অবশ্য জাকির নায়েক বলেছেন, বিয়ের সময় আয়িশার বয়স ১৯ ছিল। যদি জাকির নায়েকের কথা সত্যি হয়, তবে উপরের মুসলিম ও বুখারির হাদিস দুইটা মিথ্যা! অথচ আমি জানি, বুখারি আর মুসলিম এইদুটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিস!
যাক গে, সংখ্যাগত তর্ক ছেড়ে তাত্ত্বিক কথায় চলে আসি।

আরিফ আজাদ মোহাম্মদ আর আয়েশার বিয়ের সাথে হুমায়ূন আহমেদ আর শাওনের বিয়ের তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, (সাজিদ নিলয়’দাকে বলছে) “দাদা, মনে আছে তোমার? আমি তখন সবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। …। এক সন্ধ্যায় হুমায়ূন আহমেদের মেয়ের বয়সী শাওনকে বিয়ে করার ব্যাপারটা নিয়ে যখন আমি আপত্তি তুলেছিলাম, তুমি কি বলেছিলে? তুমি বলেছিলে, “বিয়ে একটা বৈধ সামাজিক বন্ধন। যখন তাতে দুটি পক্ষের সম্মতি থাকে, তখন সেখানে বয়স, সামাজিক স্ট্যাটাস, কোনকিছুই ম্যাটার করে না। হুমায়ূন আহমেদের বেলায় যে কথাগুলো প্রযোজ্য, সে কথাগুলো মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বেলায় প্রযোজ্য হবে না কেন?”

এবং তিনি হুমায়ূন আহমেদ ও শাওনের বিয়েকে শরিয়া ও রাষ্ট্রীয় আইনসম্মত কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যে কথাগুলো হুমায়ূন আহমেদের বেলায় প্রযোজ্য সেগুলো মহাম্মদের বেলায় কেন প্রযোজ্য নয়, তাই বলছি এখন। আপনি হয়তো বাগড়া দেবেন এটা বলে যে, ১৪০০ বছর আগে, মোহাম্মদের সময়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার প্রথা ছিল, এমনকি একশ’বছর আগেও ছিল ইত্যাদি। এটারও জবাব আছে। পড়তে থাকুন, জবাব পেয়ে যাবেন।

মেহের আফরোজ শাওনের জন্ম ১৯৮১ সালে, যখন তিনি হুমায়ূন আহমেদকে বিয়ে করেন তখন তার বয়স ২৪। সালটা ২০০৫। হুমায়ূন আহমেদ ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন শাওনকে। তাদের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাছাড়া বিয়ে করার ব্যাপারে ২৪ বছরের একটা মেয়ে যথেষ্ট ম্যাচিউর। শাওন স্বাধীন ছিলেন। বিয়ের আগেই তিনি নাম কুড়িয়েছেন অভিনয়ে। শাওন তো হঠাৎ করে বিয়ে করে বসেননি বাবার বয়সী একজন লেখককে। তিনি শিক্ষিতা- অনেক বিচার বিবেচনা করেই বিয়েতে মত দিয়েছিলেন, যখন তিনি জানতেন এটা নিয়ে তোলপাড় লেগে যাবে সারা দেশে। একজন শিক্ষিতা মেয়ে, নিজের ইচ্ছায়, ভালবেসে বিয়ে করেছেন তার দ্বিগুণ বয়সী একজন লেখককে- এতে তো বিতর্কের কিছু দেখছি না, পাচ্ছি না সমালোচনা করার মত কিছু। বিশেষত, যখন তিনি ম্যাচিউর। শাওনের বয়স যদি তখন কম হতো, তিনি যদি হতেন কিশোরী, বা এমন বয়সের- যে বয়সে বিয়ে করলে শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাহলে বিতর্ক করার মত অনেক কিছুই থাকত। আপনি তখন হুমায়ূনকে প্রাণভরে গালি দিলেও আমি অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে কিছু বলতাম না। কিছুদিন আগেরেলমন্ত্রী মজিবুল হক ৬৭ বছর বয়সে ২৭ বছর বয়সী হুফা আক্তার রিতাকে বিয়ে করলেন। সেখানেও পাইনি আপত্তি করার মত কিছু। কারণ রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শিক্ষিতা, ম্যাচিউর।শান্ত মনে চিন্তা করার সক্ষমতা তার আছে। বিয়েতে অমতও ছিল না তার। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রীর বয়সের পার্থক্যও অনেক। লোকে ট্রাম্পকে তার অল্প বয়সী স্ত্রীর জন্য ট্রল করতে পারে, কিন্তু সমালচনা করতে পারে না। কারণ, তিনিও ১৮ এর নিচের কাউকে বিয়ে করেননি।

অন্যদিকে মোহাম্মদ ও আয়েশার ব্যাপারটা একটু ভালভাবে খতিয়ে দেখলেই ফাঁকটা ধরা পড়ে যায়। নবি মোহাম্মদ যখন আয়েশা’কে বিয়ে করলেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় আর মহাম্মদ তখন পঞ্চাশের উপরে (৫৩/৫৪)। আয়িশা না ছিলেন সে শারীরিক ভাবে ম্যাচিউর, না ম্যাচিউর মানসিকভাবে! একটা মেয়ের যখন পুতুল খেলার কথা, যখন তার মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শোনার কথা, তখন সে হয়ে গেল একজনের স্ত্রী! ছয় বছরের একটা বাচ্চাকে যাই বোঝানো হবে, যাই শেখান হবে,তাই বুঝবে সে, তাই শিখবে। তাই যখন আয়িশাকে মহাম্মদের সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছিল, আপত্তি করতে পারেননি তিনি। তিনি বলেছিলেন, “যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়, তাহলে এটাই হবে।” তার বয়স ২০-২৫ হলেও হয়তো আপত্তি করতেন না। কারণ তার পিতা আবু বকর তখন মহাম্মদের প্রেমে মজে গিয়েছেন। মোহাম্মদকে ধরে নেয়া হতো আল্লাহ দূত। আপত্তির তো প্রশ্নই আসছে না।কিন্তু এই হয়ততে আমরা যাচ্ছি না। প্রাকটিকালি আয়িশা ছিলেন ৬ বছরের একজন বালিকা! ১৮ বছর বয়সের নিচে কোন মেয়েই বিয়ের যোগ্য না। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার ভয়ের সাথে আছে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি।

শাওনের বয়স ছিল ২৪, আয়িশার ৬। বয়সের ডিফ্রেন্স আঠারো বছরের। গণিতের হিসেবে শাওন আয়িশার চেয়ে ৪ গুণে বড়। শাওন যেখানে ছিলেন ম্যাচিউর- চিন্তা করতে সক্ষম, সেখানে আয়িশার বিয়ে নিয়ে, দাম্পত্য নিয়ে, নিজের ভালমন্দ নিয়ে চিন্তা করার মত বয়সই হয়নি।

আরিফ আজাদের মতানুসারে যদি নয়ও ধরে নেয়া হয় আয়েশার বয়স, তাহলেও উক্ত কথাগুলো খাটে। নয় বছরের একটা মেয়ে বড়জোর রান্না করা শিখতে পারে, এযুগের মেয়ে হলে পড়ে ক্লাস টু বা থ্রি তে। ন’য়ের একটা মেয়ের ম্যাচিউরিটি কতোটা? বিয়ের জন্য সে কতোটা ফিট?

হুমায়ূন-শাওন আর মোহাম্মদ-আয়েশার বিয়েকেতাহলে এক পাল্লায় মাপা যায় কীকরে? আমি আল্লাহতে বিশ্বাস করি না, আমার কোন ওহী বা অলৌকিক তত্ত্বে আস্থা নেই। কিন্তু আমার চিন্তা করার মত একটা মাথা আছে, মানুষ হিসেবে একটা বিবেক আছে, বিচার করার সক্ষমতা আছে। আমি সোজা সরল চোখে সব দেখি, সব বুঝতে চাই। এখন,জনাব আরিফ আজাদ, আপনি আমাকে বোঝান, কীকরে এই দুই বিয়েকে আমি এক নিক্তিতে ওজন করবো? এক বিয়েকে তো মাপতে হচ্ছে সেন্টিমিটার স্কেলে, আরেকটা মাপছি বাধ্য হয়েই কিলোমিটারে- কীকরে তবে করবো তুলনা? কেন দুইজনকে দুইভাবে ট্রিট করা হবে না? হুমায়ূন আহমেদ অন্তত বাল্যবিবাহ করেননি।

এবারে আরেকটা প্রশ্নে যাই। আরিফ আজাদ বলেছেন, “প্রথমে বলে রাখি, যারাই রাসূল সাঃ আর আয়েশা রাঃ এর বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলে, তাদের প্রথম দাবী- মুহাম্মদ সাঃ নাকি যৌন লালসায় কাতর ছিলেন। সেজন্য তিনি নাকি কিশোরী আয়েশা রাঃ কে বিয়ে করেছিলেন।”

“তাদের এই দাবী যে কতোটা বাতুলতা আর ভিত্তিহীন, তা ইতিহাস থেকে আমরা দেখবো। আমরা জানি, মুহাম্মদ সাঃ বিয়ে করেছিলেন ২৫ বছর বয়সে। হজরত খাদিজা রাঃ কে। বলা বাহুল্য, যখন মুহাম্মদ সাঃ ২৫ বছরের একজন টগবগে তরুণ, ঠিক সেই সময়ে তিনি বিয়ে করলেন চল্লিশোর্ধ একজন মহিলাকে। খাদিজা রাঃ যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন মুহাম্মদ আর কোন বিয়ে করেননি। খাদিজা রা এর গর্ভেই মুহাম্মদ সাঃ এর অধিকাংশ সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করেছিলো। বলো তো দাদা, তোমাদের ভাষায় যিনি একজন যৌন কাতর মানুষ, তিনি কেন পুরো যৌবনকাল একজন বয়স্ক, বয়োবৃদ্ধ মহিলার সাথে কাটিয়ে দিলেন?”

এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার আগে, আমি একটা প্রশ্ন রাখতে চাই। আরিফ সাহেব এখানে আয়েশাকে ‘কিশোরী’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। আমার যতটুকু জ্ঞান, তাতে জানি, teenager বা adolescent হলো এর প্রতিশব্দ। ১৩-১৯ বছরে ছেলেমেয়েদের কিশোর-কিশোরী বলা হয়। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের গ্রোথ বেশি- বায়োলজিক্যালভাবেই। সেটা অবশ্য খুব বেশি নয়। তবে মেয়েদের কৈশোর শুরু হতে পারে ১০ বা এর পর। একজন কিশোরীর যেসব বৈশিষ্ট থাকার কথা- ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, দেহের বিভিন্ন অঙ্গে লোম গজানো, ওজন বৃদ্ধি- এসব ১০/১১/১২ তেই শুরু হতে পারে। কারও বা হয় আরও পরে। কিন্তু আয়িশার বয়স তো দশ-এগারোওছিল না। দশ হতে তার আরও চার বছর, ১৪৬০ দিন বাকি।তাহলে কোন যুক্তিতে তাকেকিশোরী বলা হচ্ছে?নাকি নতুন কোন আইন এসেছে, যাতে ৬ বছরের শিশুকে কিশোরী বলে অভিহিত করা যাবে? শিশু আর কিশোরের মাঝে যে একটা বয়সের দেয়াল আছে, সেটি ভুলে গেলে চলবে কেন?

এবারে প্রশ্নের উত্তরে যাই। আগেই বলে নিচ্ছি,মোহাম্মদকে যৌন কাতর বা কামুক প্রমাণ করার ইচ্ছে নেই এখন আমার। আমি জাস্ট দেখাতে চাচ্ছি, ৪০ এর একজন নারীকে বয়োবৃদ্ধা বা বয়স্ক বলা যায় কিনা।
এঞ্জেলিনা জোলির বয়স কত? জেনিফার লোপেজ? শাকিরা? সামলা হায়েক? জানা না থাকলে বলি, এঞ্জেলিনা জোলির বয়স ৪১, জেনিফার লোপেজ এর বয়স ৪৭, শাকিরার বয়স ৪০, সালমা হায়েকের বয়স পুরো ৫০! আচ্ছা হলিউডে না যাই। পাশের দেশের ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের বয়স কত জানেন? ৪৩। আমাদের দেশের জয়া আহসান এর বয়স জানেন? না? জয়া আহসানের বয়স৪৩! বিলিভ ইট অর নট। (উইকিপিডিয়া দ্রষ্টব্য)

এদের কাউকে দেখে কি আপনার বয়স্কা, বয়োবৃদ্ধা বলে মনে হয়? মনে হয় এরা বুড়ি হয়ে গিয়েছেন?আসলে বয়োবৃদ্ধা বা বয়স্ক বলার মত বয়স ৪০ নয়। একজন নারীর ঋতুস্রাব চলতে থাকে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত- ততদিন পর্যন্ত সে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম। সুতরাং আপনি যদি বলেন, মুহাম্মদ একজন বয়োবৃদ্ধা, বয়স্ক নারীকে বিয়ে করেছেন, তবে ভুল ভাবা হবে। খাদিজা ‘ফাতিমা’কে জন্ম দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সে। মোহাম্মদের সাথে তার বিয়ের ৯ বছর পর।

এখন আপনি বলতে পারেন, সালমা হায়েক, জোলি বা শাকিরা- তারা গ্লামার জগতের বাসিন্দা- প্রফেশনের তাগিদেই তাদের ফিট থাকতে হয়, তরুণ থাকতে হয়, যৌনাবেদনময়ী থাকতে হয়। সে তাগিদ তো খাদিজার ছিল না। এর উত্তরে বলবো, আপনি আবার একটা ভুল করছেন। খাদিজা যথেষ্ট সম্পদশালী ছিলেন। সুন্দরীও- মোহাম্মদের সাথে তার বিয়ের আগে তাকে “আমিরাত-কুরায়েশ”(Princess of Quraysh) উপাধি দেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুইবার বিধবা হওয়ার পরও, অনেকেই তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতেন, তিনি অবশ্য সেসব প্রস্তাব নাকোচ করে দেন। প্রশ্নটা হলো, খাদিজা যদি বয়োবৃদ্ধা বয়স্কাই হতেন, তবে তাকে বিয়ের জন্য অন্য পুরুষেরা উদ্বাহু ছিলেন কেন? শুধু কি তার সম্পদের জন্য? একজন পুরুষ হিসেবে জানি, কেউ শুধু সম্পদের নেশায় পড়ে একজন বুড়িকে বিয়ে করতে এগিয়ে আসবে না। প্রাক্টিকালি চিন্তা করুন। ইংল্যান্ডের রানী ২য় এলিজাবেথ যদি আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, আপনি করবেন বিয়ে? (অবশ্য প্রিন্স ফিলিপ বেঁচে আছেন এখনও। হা হা)

আর তরুণেরা যে তাদের চাইতে বয়স্ক নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়, এটা তো কারও না জানার কথা নয়। চল্লিশোর্ধ নারীকে ম্যাচিউর হিসেবে অভিহিত করা হয়। অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তরুণেরা সেক্সুয়ালি ম্যাচিউর নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় কারণ তারা মনে করে, তারা অল্পবয়সী নারীর চাইতে বিছানায় অনেক পারদর্শী, তারা ভালভাবে জানে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে যে কীভাবে একটা রিলেশনশিপকে টিকিয়ে রাখা যায়। ভুলভাবে নেবেন না, আমি শুধু উদাহরণ দেয়ার জন্যই একটা ট্যাবু এখানে উপস্থাপন করছি বাধ্য হয়ে। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে “milf” পর্ন বলে একটা genre আছে। milfএর পুরো রুপ “mom I would love to f**k”। দেখুন- en.wikipedia.org/wiki/MILF । এই ধরণের পর্নে যেসব নারীকে উপস্থাপন করা হয়, তাদের বয়স ৪০ এর উপরে। দেখা যায়, তরুণেরাই এর প্রধান ভোক্তা। তরুণেরা যদি তাদের তাইতে বেশি বয়সের নারীর প্রতি আকর্ষণ বোধ না-ই করত তাহলে এই জনরার পর্নের ছড়াছড়ি হতো না। তাছাড়া আজকাল অনেকেই তাদের চাইতে বেশি বয়সের নারীকে বিয়ে করছেন। উলভারিন খ্যাত অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান ২৮ বছর বয়সে তার তাইতে ১৩ বছরে বড় ডেবরা লি ফার্নেস’কে বিয়ে করেছেন। বিশ্বখ্যাত পপস্টার জ্যানেট জ্যাকসনের স্বামী তার চাইতে ৯ বছরে ছোট!

সুতরাং, এটা যদি বলা হয়, যে, মোহাম্মদ খাদিজাকে, তার চাইতে ১৫ বছরে বড় একজনকে বিয়ে করেছেন, কারণ যৌনতার দিকে তার মনোযোগ ছিল না, কিংবা খাদিজা যৌনাবেদনময়ী ছিলেন না- তাহলে ভুল হবে।
এবারে অন্য প্রশ্নে যাই।

নিলয়’দা (যাকে সেই রচনায় মুক্তমতে বিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে) প্রশ্ন করলেন সাজিদকে, “তাহলে কিশোরী আয়েশাকে রাঃ কে বিয়ে করার হেতু কি?”

“সাজিদ বললো- “let me finish…. আয়েশা রাঃ কে বিয়ে করার একটা হুকুম রাসূল সাঃ আল্লাহ্‌র কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কারণ, জ্ঞানে গুণে আয়েশা রাঃ ছিলেন তৎকালীন আরব কন্যাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তার সেই প্রজ্ঞা, সেই জ্ঞান, সেই বিচক্ষণতা যাতে পুরপুরিভাবে ইসলামের কল্যাণার্থে ব্যবহার করতে পারে তারজন্য হয়তো এই হুকুম।”
তারপরে সেখানে সাজিদকে জিজ্ঞেস করা হয়, এটা যে আল্লাহ্‌র হুকুম তার ভিত্তি কী। এর উত্তরে সে জানায়, নবিদের স্বপ্নও এক প্রকার ওহী। সে বুখারির একটি হাদিস উল্লেখ করে। হাদিসটা হলো- “রাসূল সাঃ হজরত আয়েশা রাঃ কে একবার বললেন,- ‘(হে আয়েশা) আমি তোমাকে দুইবার স্বপ্নে দেখেছিলাম। একটি রেশমের উপরে একটি কারও একজনের মুখচিহ্ন। আমি যখন রেশমের উপর থেকে রেশমের আবরণ সরালাম, আমি দেখলাম সেটা তোমার মুখাবয়ব। তখন কেউ একজন আমাকে বললো,-‘(হে মুহাম্মদ) এটা তোমার স্ত্রী। আমি(আয়িশা) বললাম, যদি এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়, তাহলে এটাই হবে।’

এবারে আমি আমার মতামতে ফিরে যাই। মোহাম্মদের স্বপ্নগুলোও একপ্রকার ওহী হিসেবে মানে মুসলিমেরা- আর এমন একটি স্বপ্নেই মোহাম্মদ আয়েশাকে বিয়ে করার তাগিদ পেয়েছে। আমি এই ব্যাপারটায় একটু পর আসছি। প্রথমে স্বপ্ন নিয়ে ছোট্ট একটা আলোচনা করে নেই।

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। কোনটা মনে রাখতে পারি, কোনটা পারি না। কিন্তু আমরা প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখি- মনে রাখতে পারি বা না পারি। অনেকেই ক্লেইম করতে পারে যে, তারা একদম স্বপ্ন দেখে না। কিন্তু আসল সত্যিটা হচ্ছে, তারা স্বপ্ন ঠিকই দেখে, কিন্তু স্মরণ রাখতে পারে না। কোন স্বপ্নই স্মরণ করতে না পারার বিভিন্ন কারণের মধ্যে প্রধান হলো- অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ওমস্তিষ্কের সুস্থতার অভাব। প্রচুর গবেষণার ফলাফল থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা যে, মানুষ প্রতিরাতের একটি সুস্থ ঘুমে ৫ থেকে ৭ বার স্বপ্ন দেখে। শিশুরা তাদের ঘুমের ৮০% সময়ে স্বপ্ন দেখতে সক্ষম। ঘুমের অনেকগুলি স্টেজের মধ্যে একটি হচ্ছে REM (Rapid eye movement) stage of sleep। এই REM স্টেজেই মানুষ অধিকাংশ স্বপ্ন দেখে। তবে non-REMস্টেজে যে মানুষ স্বপ্ন দেখে না, তা নয়- তবে খুব কম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ নাক ডাকাকালীন সময়ে কোন স্বপ্ন দেখে না। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, ঘুমানোর কিছুক্ষণ পর ঘুমন্ত মানুষের চোখের পাতা আলতো আলতো নড়ে, বা চোখের নিচে গালে সামান্য নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এই স্টেজটার নামই রেম স্টেজ। এই সময়েই মানুষ অধিকাংশ স্বপ্ন দেখে থাকে। আমরা যখন ঘুমের কোলে ঢলে পড়ি, তখন আমাদের শরীর সবরকম ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়- হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, শ্বসন ক্রিয়া আর মস্তিষ্কের ক্রিয়া চলতে থাকে শুধু। এই মস্তিষ্ক সচল থাকে বলেই আমরা স্বপ্ন দেখি। ঘুমন্ত অবস্থাতেও মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থার মতই কাজ করে।

মানুষ রাতে ঘুমানোর সাথে সাথেই স্বপ্ন দেখে এমনটাও নয়। সাধারণত ঘুমানোর ৯০ মিনিট পর REM স্টেজ শুরু হয়। তখন শরীরের অন্যান্য অংশের যেমন- হাতের, পায়ের, মাথার মুভমেন্ট বা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন শুধু চোখ, চোখের পাতা- অনেক সময় চোখের সামান্য নিচের অংশ কাঁপতে থাকে।

এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা প্রতিদিন স্বপ্ন দেখলেও সব স্বপ্ন মনে রাখতে পারি না কেন। এর উত্তর হচ্ছে, আমরা স্বপ্ন দেখি ঘুমের রেম স্টেজে। এই স্টেজে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তবেই আমরা স্বপ্নটা মনে রাখতে পারি। অন্যথা নয়। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, আপনি যদি রেম স্টেজে স্বপ্ন দেখার ৫ মিনিট পরও জেগে ওঠেন, তাহলেও স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা খুব কম। এমন তো প্রায়ই হয়, আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি, রাতে স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু মনে করতে পারি না কিছুতেই। এর কারণ আমরা স্বপ্নটা দেখার সাথে সাথেই না জেগে একেবারে সকালে উঠেছি! আমরা দুঃস্বপ্নগুলো বেশিরভাগ সময় মনে রাখতে পারি। কারণ দুঃস্বপ্ন দেখার অল্প কিছুক্ষণ পরেই আমরা জেগে উঠি অতিরিক্ত ভয়ের কারণে। আর তখন রেম স্টেজেই ঘুম ভেঙ্গে যায়।

স্বপ্ন মনে রাখার কিছু কৌশলও অবশ্য আছে। যেমন, প্রতিদিন স্বপ্ন লিখে রাখা, স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করা, ভাবা- ইত্যাদি। আসলে আমাদের মস্তিষ্ক কোনকিছুই ভুলে যায় না। একটা মশা কামড়ালেও, সেই মশা কামড়ানোর স্মৃতি মস্তিষ্ক জমিয়ে রাখে। কিন্তু অনেক ক্ষণস্থায়ী স্মৃতির ভিড়ে তা হারিয়ে যায়। তেমনি স্বপ্নের স্মৃতিও আমাদের মস্তিষ্ক মুছে ফেলে না। তাই যদি কোনভাবে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা-কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায় তবে, ভুলে যাওয়া স্বপ্নের স্মৃতিও ফিরে আসতে পারে তখন। (দুর্ভাগ্যক্রমে, একটা মিথ আমাদের মধ্যে প্রচলিত যে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের মাত্র ১০% ব্যবহার করি। কিন্তু এটা শুধুই মিথ। মিথটা ইউরোপ-আমেরিকায় খুব বেশি জনপ্রিয় ছিল (এখনও)- সারাবিশ্ব ব্যাপীএটা ছড়িয়ে পড়ে সুপারহিট সায়েন্স ফিকশন মুভি “lucy” এর মাধ্যমে। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে- আমরা আমাদের মস্তিষ্কের ১০০% ই ব্যবহার করি। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি, মস্তিষ্ক চর্চা। জটিল গণিত সমাধান করা, বই পড়া, সুস্থ ধুমপানমুক্ত জীবন যাপন করা- এসবের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।)

স্বপ্নের আরেকটা দিক হচ্ছে, স্বাভাবিক ঘুমের স্বপ্ন আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না কোনভাবেই। (লুসিড ড্রিম বলে একটা ব্যাপার আছে, যেখানে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তবে সেটা কৃত্রিম)। স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মস্তিষ্কে জমে থাকা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও অবচেতন মন। খুব ছোটবেলার কোন বন্ধুকে আপনি স্বপ্নে দেখতে পারেন; যদিও তার কথা আপনি গত পাঁচ বছরে একবারও মনে করেননি। এটা সম্ভব স্বপ্ন স্মৃতিকে ব্যবহার করে বলেই। আবারস্বপ্নে আপনি আপনার খুব কাছের বান্ধবীকে চুমু দেয়ার দৃশ্যও দেখতে পারেন। এটা হয়তো আপনি ভাবেননি কোনদিন সজাগ অবস্থায়। কিন্তু চুমু দেয়ার ইচ্ছেটা হয়তো লুকায়িত ছিল কোথাও মনের অজানা কোণে, অবচেতনে। তাই দেখেছেন।এটা জাস্ট একটা উদাহরণ- এমন অনেক কিছুই হতে পারে।

এবারে মোহাম্মদ ও আয়েশার কথায় চলে আসি। অনেক বকবক করলাম।
এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে, মানুষ প্রতিরাতের ঘুমে স্বপ্ন দেখে। অন্তত ৫ থেকে ৬ বার। যদি মোহাম্মদের স্বপ্নও আল্লাহ্‌র ওহী হয়ে থাকে, তাহলে নবুয়ত প্রাপ্তির পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, যতবার মোহাম্মদ রাতে পূর্ণঘুম দিয়েছেন, ততবার ৫-৬ টা করে ওহী এসেছে। তারমানে মোট ওহীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৩x৫x৩৬৫= ৪১৯৭৫টি! আচ্ছা, ধরে নিলাম মোহাম্মদ প্রতিদিন রাতে ঘুমাননি। তাই ১৯৭৫ কমিয়ে ফেললাম। থাকছে ৪০,০০০। কিন্তু মোহাম্মদের স্বপ্ন সংক্রান্ত এতো ওহী তো নেই- তাহলে বাকি ওহী গুলোর কী হলো? মোহাম্মদ আল্লাহ কতৃক প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসুল হওয়ার পরও কি এতগুলো ওহী হারিয়ে ফেলেছেন!
ব্যাপারটা কেমন অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে না?

মোহাম্মদ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সাহাবীদের কাছ থেকে স্বপ্নের কথা শুনতেন। নিজে স্বপ্ন দেখলেও তা তাদের বলতেন ও ব্যাখ্যা করতেন। তিনি মাঝেমাঝে নিজের স্বপ্নের কথাও বলতেন- যেদিন তিনি মনে রাখতে পারতেন স্বপ্নগুলো। বেশিরভাগ দিনই নিজের স্বপ্নের কথা না বলে চুপচাপ থাকতেন ও অন্য সাহাবীদের স্বপ্নের কথা শুনতেন।

তারমানে বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে দাঁড়াচ্ছে, মোহাম্মদ যেদিন ঘুমের রেম স্টেজের পরপরই ঘুম থেকে জেগে উঠবেন বা তার ঘুম ভাঙবে, সেদিনই তিনি স্বপ্ন মনে রাখতে পারবেন, আর তাই ওহী হিসেবে পরিগণিত হবে। কিন্তু তিনি যে স্বপ্নগুলো ভুলে যাবেন, সে স্বপ্নগুলো ওহী বলে গণ্য হবে না! কিংবা সেগুলো ওহী হলেও মোহম্মদ সেগুলো তার অনুসারীদের দিয়ে যেতে পারেননি!

এবারে আয়েশাকে নিয়ে মোহাম্মদের স্বপ্নের কথা বলি। তার স্বপ্ন ব্যাখ্যার জন্যই উপরে স্বপ্ন-প্যাঁচাল উপস্থাপন করতে হয়েছে। ব্যাখ্যার আগে একটা উদাহরণ দিয়ে নেই। আপনি হয়তো কোনদিন স্বপ্নে দেখেছেন, আপনি পাশের বাড়ির সুন্দরী “কল্পনার” প্রেম করছেন, বা এমা ওয়াটসনের সাথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটছেন। এটা হতেই পারে। কিন্তু আপনি কোনদিন স্বপ্নে দেখেছেন, আপনি আপনার নিজের বোনের সাথেপ্রেম করছেন বা প্রেমিক প্রেমিকার মত বাইকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? উত্তরটা হলো, না, দেখননি। কিন্তু কেন? এমা ওয়াটসনকে বা পাশের বাড়ির কল্পনাকে দেখতে পারলে নিজের বোনকে দেখবেন না কেন? এর উত্তর হচ্ছে- আপনার অবচেতন মন আপনার অজান্তেই কোনদিন কল্পনার সাথে প্রেম করতে চেয়েছে, এমা ওয়াটসনের সাথে সাঁতরাতে চেয়েছে। কিন্তু আপনি চেতনে তো দূরে থাক অবচেতনেও নিজের বোনের সাথে প্রেম করার কথা ভাবেননি। তাই পাশের বাড়ির কল্পনা আপনার স্বপ্নে প্রেমিকা হিসেবে এসেছে, কিন্তু নিজের বোন আসেনি। একটা কথা মনে রাখতেই হবে, যে বিষয় নিয়ে মানুষ কিছুই জানে না, যে বিষয়ে কোন অভিজ্ঞতাও নেই, যে বিষয় স্মৃতিতে একেবারেই নেই বা বাস্তবে ঘটেনি এবং যে বিষয়ে একবারও কল্পনা করেনি, ভাবেনি- সে বিষয়ে কোনভাবেই স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। এমনকি যে বিষয়ে একটুও অভিজ্ঞতা বা ধারণা নেই- সে বিষয়ে মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। লক্ষ্য করে দেখবেন, ফ্যান্টাসি মুভিগুলোতে যে এলিয়েন দেখানো হয়, গল্প-রুপকথায় যে রাক্ষসকে চিত্রিত করা হয়, সনাতন সহ নানান আদিম ধর্মগুলোয় যে দেবতাদের পূজা আর্চনা করা হয়- সবাই কোন না কোন জীব, উদ্ভিদ বা প্রাণীর মত দেখতে বা আদলে তৈরি। গার্ডিয়ান অফ দ্যা গ্যালাক্সির ‘গ্রুট’ তাই অনেকটা গাছের মত দেখতে আর দেবতা গণেশ দেখতে হাতি আর পেটমোটা আদুরে বাচ্চার মত। জান্নাত-জাহান্নাম কিংবা ইনফার্নো বা স্বর্গ-নরক, কোনটাই তাই ইউনিক কিছু নয়- সবগুলোই পৃথিবীর আদলে কল্পিত!

মোহাম্মদের স্বপ্নে এই অবচেতন মনই কাজ করেছে। মোহাম্মদ নির্ঘাত কোনদিন অবচেতনে ছয় বছরের শিশু আয়েশাকে নিয়ে ভেবেছেন, তাকে বিয়ে করার কথা কল্পনা করেছেন। তাই স্বপ্নে রেশমের পর্দার ভিতরে আয়েশার মুখ দেখা গিয়েছে আর কেউ একজন বলেছে, এটাই তোমার স্ত্রী! মোহাম্মদের এই অবচেতন কামনাকেই মুসলিমেরা ওহী মেনে নিয়ে, ছয় বছরের আয়েশার সাথে মোহাম্মদের বিয়েকে বৈধতা দিতে চাচ্ছে! ভণ্ডামি আর মূর্খতার সীমা কতদূর লঙ্ঘন করলে এসব করা যায়, সেটাই ভাবি মাঝে মাঝে।

সবার শেষে, যে প্রশ্নদু’টা থাকে, সেটা হলো, রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করেছেন অল্প বয়সের মেয়েকে, শেখ মুজিব বিয়ে করেছেন অল্প বয়সের মেয়েকে, আজ থেকে ১০০ বছর আগেও ১০ এর নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার রীতি ছিল। তাহলে রবীন্দ্রনাথকে, শেখ মুজিবকে বাল্য বিবাহের দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হয় না কেন, আর মহাম্মদকে কেন ব্লেইম করা হয়(?)। ২য় প্রশ্নটা হচ্ছে, সে আমলে অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করাকে অপরাধের চোখে দেখা হতো না। অনেকেই অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তবে মোহাম্মদের আয়েশাকে বিয়ে করাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে কেন?

মুসলিমদের মতে, মোহাম্মদের জন্মের আগে মক্কা ছিল বিশৃঙ্খল এক নগরী- পাপে নিমজ্জিত ছিল সবাই, মারামারি করত, কাটাকাটি করত, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, মূর্তি পূজা করত- ইত্যাদি ইত্যাদি। মোহাম্মদ সেই বিশৃঙ্খল নগরীতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া রোধ করেছিলেন, মূর্তিপূজা বন্ধ করে একেশ্বরবাদ ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। অনেক রেভ্যুলুশনারি কাজ করেছেন তিনি- অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন সমাজে। আমার কথাটা হলো, তার হাতে তো ক্ষমতা ছিল, বিশাল এক অনুসারী গোষ্ঠী ছিল যারা তাকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত, তাহলে তিনি বাল্য বিবাহ বা অল্প বয়সে বিয়েকে বাতিল করলেন না কেন? বাল্য বিবাহ যে ক্ষতিকর এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। যেহেতু তাকে সুবিবেচক হিসেবে ধরা হয়, বলা হয়ে থাকে সকল সভ্যতার জন্য, সকল সময়ের জন্য তিনি এসেছেন প্রদীপ রুপে, সুতরাং তার তো জানার কথা ছিল বাল্যবিবাহের কুফল, এর ক্ষতিকর দিক। কিন্তু তিনি বাল্যবিবাহ চিরতরে মুছে ফেললেন না কেন? তার এক কথায় যদি সমস্ত মক্কার মুসলিমেরা দেশ ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে পারে, তাহলে তিনি যদি একবার বলতেন বাল্য বিবাহ বাতিলের কথা, তাহলে কি মুসলিমেরা সেটা মানত না?

তাহলে ধরে নিতে হচ্ছে, মোহাম্মদ বাল্যবিবাহের কুফল বা নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতেনই না। যদি জেনে থাকেন, তবে তো রোধ করতেন, না? যদি তিনি না-ই জেনে থাকেন, তবে তাকে সব কালের জন্য, সব সভ্যতার জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে মানা হবে কেন? যে ব্যক্তি চিরকালীন তিনি তো নিজ কালে আবদ্ধ থাকতে পারেন না। তাকে থাকতে হয় সব কালে, সব সভ্যতায় অমলিন। তাকে যদি আজকের হিসেবে বিচার করি, তবে তো তিনি অপরাধী। তাহলে একজন অপরাধীকে কেন পৃথিবীর সেরা মানব বলা হবে? কেন তার দেখানো পথে সবাইকে চলতে হবে? কেন দেশের নীতি আইন সব বিসর্জন দিয়ে মোহাম্মদের আইনে দেশ-সমাজ-পৃথিবী চালাতে হবে?তাকে কেনই বা আল্লাহ্‌র প্রেরিত পুরুষ বলা হবে? ধরে নিলাম আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, মোহাম্মদ তার প্রতিনিধি- তাহলে প্রশ্ন হলো, সর্বজ্ঞানীর প্রতিনিধি হয়েও মোহাম্মদ বাল্যবিবাহের কুফল জানবেন না, এটা কেমনে মানি? তারমানে দাঁড়াচ্ছে এটা, সর্বজ্ঞানী বলে আসলেই কেউ নেই, আর যদি থাকেও, তাহলে মোহাম্মদ তার প্রতিনিধি নন।
আর যদি ধরে নেই, মোহাম্মদ জানতেন বাল্যবিবাহের কুফল, নেতিবাচক দিক, যেহেতু তিনি আল্লাহ্‌র প্রেরিত পুরুষ- তাহলে তো তাকে বাধ্য হয়েই শিশুকামী বলতে হয়! একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তো বাল্যবিবাহের কুফল জানার পর ছয় বছরের বাচ্চাকে বিয়ে করতে পারেন না, নয় বছর বয়সের মেয়ের সাথে সংসারে করতে নামতে পারেন না! তবে? এরপরও বলবেন, শিশুকামী পেডোফিলিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত পুরুষ বললে, শাস্তি হবে?
আরিফ সাহেব মুজিবের কথা তুলেছেন। তিনি আট বছরের ফজিলাতুন্নেসাকে বিয়ে করেছিলেন। এর জবাবটা বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকেই দিব।

“একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স তের বছর হতে পারে। রেণুর(ফজিলাতুন্নেসা) বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, তোমার বড় ছেলের সাথে আমার এক নাতনীর বিবাহ দিতে হবে। কারণ, আমার সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাব।” রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বীর হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধহয় তিন বছর হবে।”
-অসমাপ্ত আত্মজীবনী/ শেখ মুজিবুর রহমান/

শেখ মুজিবকে বাল্য বিবাহের জন্য দোষী বলা হয় না, তাকে শিশুকামী বলা হয় না, কারণ তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেননি, তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি গিয়ে ফজিলাতুন্নেসার দাদাকেও বলেননি, “আমি আপনার নাতনীকে স্বপ্নে দেখছি। আপনার নাতীর সাথে আমার বিয়া দিয়া দেন।” তিনি মোহাম্মদের মত একের অধিক বিয়েও করেননি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, মুজিবকে বলা হয় না, তিনি সর্বকালের সেরা মানুষ। বলা হয় না, মুজিবের দেখানো পথেই জীবনকে চালনা করতে হবে। বলা হয় না, মুজিবের আদর্শই একমাত্র আদর্শ। কিন্তু মোহাম্মদের বেলায় এটাই করা হয়। মোহাম্মদ নিজে বিয়ে করতে চেয়েছেন আয়িশাকে, উপরন্তু তিনি নিজেই দাবী করেছেন- তিনি সর্বকালের সেরা মানব! তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই সাধারণ মানুষ শেখ মুজিব বাল্যবিবাহ করেছেন, আপনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন, গালিগালাজ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর প্রেরিত বান্দা, সর্বকালের সেরা মানব যখন বাল্য বিবাহ করেন, তখন কী করা যায়, তাকে অবিশ্বাস করা ছাড়া?
[ব্যক্তিগত মতামত- যারা মুজিবকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বলছে, তারা আসলে তেল দেয়ার জন্য বলছে এমনটা। ‘বঙ্গবন্ধু’ মুজিবের জন্য পার্ফেক্ট উপাধি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কাউকে বলতে হলে, বিদ্যাসাগরকে বলতে হবে। অন্য কাউকে নয়। যারা বলছে, তারা সুবিধা লোটার জন্য বলছে]

তথ্যসূত্র-
১। উইকিপিডিয়া
২। all about dream
৩। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান
[কোন ত্রুটি চোখে পড়লে (বানান সহ) দয়া করে জানিয়ে দেবেন, শুধরে নেব। অগ্রিম ধন্যবাদ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “প্যারাডক্সিকাল সাজিদঃ “আয়েশা (রাঃ) ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা” থেকে প্রশ্ন ও আমার জবাব

  1. আরিফ আজাদ হুজুরদের
    আরিফ আজাদ হুজুরদের দৃষ্টিভঙ্গিই অনুসরণ করেছেন বইটি লেখার সময়। আর আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুসলমানই যেখানে অন্ধ-বিশ্বাসী, সেখানে তার বই ভাল বিক্রি হয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। 😀

  2. আসলে মূল সমস্যাটা অন্য যায়গায়
    আসলে মূল সমস্যাটা অন্য যায়গায়। মুহাম্মদের মৃত্যুর পর মুহাম্মদের স্ত্রীদের মধ্যে ইসলাম প্রচারে সবচেয়ে বেশী অগ্রণী ছিলেন স্ত্রী আয়েশা। যতটুকু যেনেছি ইসলামের মূল হাদীস গ্রন্থগুলোর বেশীরভাগ হাদীসই (প্রায় ১০০০ এর অধিক) আয়েশার মুখ থেকে বর্ননা করা। মুসলিমদের হজ্জ্বের নিয়ম- কানুনের বড় একটা অংশ এসেছে আয়েশার হাদীস থেকে। এমনকি কোরানের অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা আয়েশা থেকে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া মুহম্মদের মৃত্যুর পর ইসলামী রাজনিতীতেও আয়েশার অনেক ভূমিকা ছিল।

    কেউ যদি আয়েশার জীবনী পড়ে তাহলে দেখা যাবে আয়েশা ইসলামের প্রচারে যতটা বলিষ্ট ছিল, মুহাম্মদের অন্যান্য স্ত্রীরা কিন্তু ততটা ভূমিকা রাখাতে পারে নাই। এখান থেকেই মুসলিমরা দাবী করে মুহাম্মদের সাথে আয়েশার বিয়েটা সাধারন না বরং ঐশ্বরীক বিয়ে।
    কিন্তু যে ঈশ্বরকেই বিশ্বাস করে না সে তো এই দাবী মানবে না।

    তাই রাখালের কাছে যেটা পেডফিলিয়া বা শিশুকাম, সেটাই মুসলিমদের কাছে স্বর্গীয় আর ঐশ্বরিক। তাই এসব তর্কের ফলাফল বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শূন্য। যেই লাউ সেই কদু।

    1. শিশুরা সব কিছুই তাড়াতাড়ি
      শিশুরা সব কিছুই তাড়াতাড়ি শিখতে পারে। আয়িশার বেলাতেও তাই হয়েছে। মুসলিমদের কাছে মুহাম্মদই সবচেয়ে বড়শিক্ষনীয় প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই তাই আয়িশা মুহাম্মদের অন্যান্য স্ত্রীদের চাইতে বেশি মুহাম্মদকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে, তার হাদিস অন্যান্যদের চাইতে বেশি ন্যারেট করতে পেরেছে। যতদূর জানি ২২০০ এর মতো হাদিস। এতে অবাক হওয়ার কিছুই তো নেই।
      নিজের মতামতটা প্রকাশ করেছি, শুধু এজন্য যাতে কেউ, অন্তত মুসলিমেরা মুহাম্মদকে নিয়ে একটু খোলামনে চিন্তা করে। একদম হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে না।

      1. নিজের মতামতটা প্রকাশ করেছি,

        নিজের মতামতটা প্রকাশ করেছি, শুধু এজন্য যাতে কেউ, অন্তত মুসলিমেরা মুহাম্মদকে নিয়ে একটু খোলামনে চিন্তা করে। একদম হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে না।

        বেশী চিন্তা করতে থাকলে সমস্যা আরো বাড়তে থাকবে। কোন পেডফাইলের বউ স্বামীর মৃত্যর পর তার আদর্শ প্রচার করবার কিন্তু কথা নয়। বরং রাতের বেলার তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে আত্মহত্যা না হোক স্বামীর প্রতি অন্তত তীব্র অস্রদ্ধা জ্ঞাপন করার কথা। সেটি কিন্তু মুহাম্মদের ক্ষেত্রে হয় নি। যা হোক হাল ধরে থাকুন। দেখা যাক কি হয়।

        1. আয়েশা অনেকগুলো হাদিস বর্ণনা
          আয়েশা অনেকগুলো হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিস বর্ণনা করার মানে কী ধর্ম প্রচার? মুহাম্মদ কোথায় কী করছে, কী বলছে এগুলো।

          পেডোফিলিয়া যে মন্দ একটা ব্যাপার সেটা আয়েশা বোঝার কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে পেডোফিলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরী হচ্ছে। মুহাম্মদের পেডোফিলিয়া নিয়েও ঝামেলা ছিল না যদি তিনি নিজেকে সর্বকালের জন্য আদর্শ বলে ঘোষণা না করতেন।

          1. আয়েশা অনেকগুলো হাদিস বর্ণনা

            আয়েশা অনেকগুলো হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিস বর্ণনা করার মানে কী ধর্ম প্রচার? মুহাম্মদ কোথায় কী করছে, কী বলছে এগুলো।

            পেডোফিলিয়া যে মন্দ একটা ব্যাপার সেটা আয়েশা বোঝার কোনো কারণ নেই।

            ব্রেইন হাটুতে থাকলেই মানুষ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে বোধহয়!!

          2. কোনো কিছু যদি সংস্কৃতির মধ্যে
            কোনো কিছু যদি সংস্কৃতির মধ্যে থাকে তবে এর মন্দ দিকটা সম্পর্কে সচেতন থাকা কঠিন। যখন সতীদাহ প্রথা চালু ছিল তখন ওখানকার মেয়েরা কি এর কুফল সম্পর্কে জানত?

            ব্যক্তি আক্রমণ না করে ঘিলু খাটায়েন।

        2. From the hadith of the Sunan
          From the hadith of the Sunan of Abu Dawud, volume 2, #2116
          “Aisha said, “The Apostle of Allah married me when I was seven years old.” (The narrator Sulaiman said: “Or six years.”). “He had intercourse with me when I was 9 years old.”
          মহাম্মদ ৯ বছরের একজনের সাথে সেক্স করেছেন, এটা মানতে আপনাদের কি কোন প্রবলেম আছে? হাদিস স্পষ্ট তাই বলেছে।
          নয় বছরের একটা মেয়ের যৌনাঙ্গে পঞ্চাশের উপরের কারো শিন্ন প্রবেশ করছে, ভেবে দেখুন। এই যৌন মিলন কি আনন্দের হতে পারে? এটাকে টর্চার বলা হবে না? পিউবার্টি বা কৈশোর শুরু হয় সাধারণত ১০/১১/১২ বা তারো পরে। কারও কারও আরও পরে হয়। প্রিপিউবার্টির কোন মেয়ের সাথে তার চাইতে পাঁচ বছরে বড় কেউ সঙ্গমে লিপ্ত হলে তাকে শিশুকাম বলা হয়ে থাকে। এই সামান্য জিনিসটা বুঝতে প্রবলেম হচ্ছে কীসের জন্য?
          আমি ব্লগটাতে বলেই দিয়েছি, মুহাম্মদ চাইলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারতেন, তার হাতে পাওয়ার ছিল। করেননি কারণ এর কুফল সম্পর্কে জানতেনই না।
          যাক গে সেসবে না যাই। কেন আয়েশা আত্মহত্যা না করে ইসলাম প্রচার করল এটা প্রশ্ন তো? okay….
          আপনারাই বলেন, সেসময়ে বাল্য বিবাহের প্রচলন ছিল। সত্যিটাও তাই। আয়েশা দেখেছিল, তার আশেপাশের যত মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে, সবাই তার মত অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। সেসময় এটাই স্বভাবিক ধরে নেয়া হয়েছিল। মনে করা হতো। আমাদের দেশের অল্প শিক্ষিত বৌয়েরা নির্যাতিত হলেও অনেকসময় স্বামীর বিরুদ্ধে কথা বলে না, বরং তার কথা মতই চলে, এর কারণ কী?
          কারণ, তারামনে করে, স্বামীরা তাদের মারার অধিকার বিয়ের সাথে সাথেই পেয়েছেন। তারা দেখে, তাদের আশে পাশে কেউ প্রতিবাদ না করে মুখ বুজে সইছে। তাই স্রোতে গা ভাসিয়ে চুপ করে থাকে।
          এমনটা আয়েশার বেলা হয়নি, এটা হলফ করে বলবেন কীকরে??? তার সমাজে,তার সময়ে এটাই চল ছিল, এটাই ছিল স্বাভাবিক। তাহলে আয়েশা কীকরে সমাজের বাইরে গিয়ে, তার যৌন নির্যাতনের কথা বলবে? আয়েশা সমাজদ্রোহী নারী, স্রোতের বিপক্ষে কথা বলতেন- এমনটা তো শুনিনি। সবচেয়ে বড় কথা সে এটাকে নির্যাতন মনে না করে স্বাভাবিকই মেনে নিয়েছিল।
          একটা সময় মানুষের ধারণা ছিল না, অল্প বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কে। তখন মানুষ মোহাম্মদের সেই বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করতো? আজ করছে। করছে একারণে যে, মানুষ জানে বাল্যবিবাহ কতোটা ভয়ংকর।
          সেইরুপ আয়েশা যদি জানত, নয় বছরের মেয়ের সাথে সেক্স করা উচিত না, এটা নির্যাতন, এর বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত তাহলে ঠিকই তা করতেন।জানতেন না বলেই করেনি।
          ফেমিনিজম দুনিয়াতে আসার আগে কিন্তু নারী নির্যাতনের কথা শোনা যেত না, তারমানে তখন নারী নির্যাতন হতো না? হতো। কিন্তু এটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছিল বলে, কেউ উচ্চবাক্য করেনি। হিন্দু ধর্মে বিধবা বিবাহ চালুর আগে, অল্প বয়সে বিধবারা কিন্তু সারাজীবন কষ্ট করে গেছে, অথচ কেউ মুখ খুলেনি। কেউ আবার বিয়ে করার কথা চিন্তা করেনি। কারণ,বিধবাদের যে বিয়ে হতে পারে, এই ধারণাই তাদের ছিল না।
          এদের সাথে আয়েশাকে একবার তুলনা করে দেখুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।
          আয়েশা আত্মহত্যা না করে কেন ইসলামের প্রচার করেছে, সেটা বোঝাতে পরেছি কি?
          ২। জনাব রুশদী, অনেকগুলো প্রশ্ন মূল ব্লগটাতে করেছি, যদি পারেন জবাবগুলো দেবেন। বিশেষ করে নবির ৪০০০০ স্বপ্ন কোথায় হারালো তা জানতে চাই।
          আপনার বুদ্ধি বোধহয়, হাটুতে নয়, মাথায় আছে। তো সবগুলোর জবাব দিয়ে দেন।

          1. সেই তো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্যাচাল
            সেই তো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্যাচাল আর তর্র্ক বিতর্র্ক। আয়েশা রা যদি তসলিমা নাসরিন হ​য়ে ঊঠত, প্রতিবাদ করত, পালিয়ে যেত তাহলে খেলা শেষ হ​য়ে যেত।কিন্তু সেটি হ​য়নি। বরং হয়েছে উল্টা। আর তাই আপনার হাজার হাজার যুক্তি আমাদের কাছে অর্র্থহীন । আমাদের কাছে এই বিয়ে প্রফেটিক আর অসাধারন্। আপনার কাছে অপরাধ্। এ এক হাস্যকর চক্র।

          2. আর তাই আপনার হাজার হাজার
            আর তাই আপনার হাজার হাজার যুক্তি আমাদের কাছে অর্র্থহীন ।
            এই না বলেছেন আসল কথা।

  3. আসলে সাজিদ মারাত্মকভাবে
    আসলে সাজিদ মারাত্মকভাবে নাস্তিক দূর্গে আঘাত হেনেছে যুক্তি দিয়ে। শুধু একজন সাজিদ নয়, সামনে হাজার হাজার সাজিদের জন্ম হতে চলেছে। সাজিদ ভাই শুধু পথ দেখালেন মাত্র।
    পৃথিবীর মেয়েরা বোরকা আর হিজাব পরে নিরব প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আর অন্যদিকে সাজিদের মত অনেকেই ইন্টেলেকচ্যুয়ালী নাস্তিক দূর্গে আঘাত হানছে। এক কথায় চমতকার।

    #je suis Sajid.

    .

    1. জনাব পার্থিব, আমি মনে করি, এই
      জনাব পার্থিব, আমি মনে করি, এই অধ্যায় থেকে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। এমন অনেক অনেক নাস্তিক ব্লগার আছেন যারা এটা করতে পারবে কান চুলকাতে চুলকাতে।
      আর, সাদিজ আরও হাজারটা জন্ম নিলে, আরিফ আজাদ আরও লক্ষজন জন্ম নিলেও প্রবলেম নেই। তিনি এট লিস্ট সরল ভাষায় কথা বলেন। না পড়ে কথা বলেন না। আমার মনে হয়, আপনি পোস্টটা পড়েনই নি।

  4. আমি বলতে পারতাম, মদ্যপান,
    আমি বলতে পারতাম, মদ্যপান, বিষন্নতা এবং একটি বালপোস্ট। 😉

    কিন্তু বললাম না। রিপ্লাই যৌক্তিক…

  5. এই বেস্ট সেলার বই কয়েক
    এই বেস্ট সেলার বই কয়েক চ্যাপ্টার পড়ে বুঝতে পারলাম এখানে কোন যুক্তি নেই
    যুক্তি খন্ডনের কোন প্রয়োজনও নেই
    তবে মিথ্যাচার আছে এবং বেশ কিছু উদাহরণ আছে যার আগাও নেই মাথাও নেই

    ধন্যবাদ গুছিয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য

  6. সমস্যা আরও আছে!! যুগে যুগে
    সমস্যা আরও আছে!! যুগে যুগে সত্যসন্ধানী আর সাহসীদেরকে জীবন দিতে হয়েছে কিছু অন্ধ (ধর্মান্ধ) মানুষের হাতে, এখনও হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে, আরিফ আজাদের মতো অন্ধ বিশ্বাসীরাই বেঁচে থাকে, সুতরাং তাদের সংখ্যা বাড়বেই, শূন্য থেকে মহাবিশ্ব না পড়ে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ পড়বে.. পড়ুক, কাসেম বিন আবু বকর নামক লেখকও এক সময় ঢাকা বইমেলায় বেস্ট সেলার হয়েছিলো মনে হয় (হাহাহ) তাই বলে তো সত্যসন্ধানীরা চাপাতি নিয়ে তাদের তাঁড়া করতে যাবে না, সত্য সত্যই,কিছু অন্ধ মানুষের ব্রেইনে সেটা না পৌছালে সত্যের বইয়েই গেল!!

    1. তাই বলে তো সত্যসন্ধানীরা
      তাই বলে তো সত্যসন্ধানীরা চাপাতি নিয়ে তাদের তাঁড়া করতে যাবে না, সত্য সত্যই,কিছু অন্ধ মানুষের ব্রেইনে সেটা না পৌছালে সত্যের বয়েই গেল!!
      সুন্দর বলেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =