বাস্তবতায় ভালোবাসা….

সোডিয়াম বাতির অালোয় হলদে হয়ে যাওয়া রাস্তাটা দিয়ে অফিস শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল অর্ঘ্য।
হঠাৎ করে তার চোখে পড়ল সেই কফি হাউজটা।যেখানে রোজ সাত কিলো রাস্তা পেরিয়ে রিমিকে নিয়ে কফি খেতে অাসত অর্ঘ্য।রিমি বলত এই কফি হাউজে অাসলে নাকি সে
অন্যরকম ফিল করে।এই কফি হাউজের কফি নাকি রিমির খুব ভালো লাগত।
তাই প্রতিদিন এখানে একবার ঢু না মারলে রিমি অার অর্ঘ্যের চলত না।
রিমি অর্ঘ্যের গার্লফ্রেন্ড ছিল।এখন অবশ্য রিমির বিয়ে হয়ে গেছে।মা
বাবার চাপের কারনে রিমি অন্যজনকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল।
বিয়ের অাগে রিমি বলেছিল সে নাকি অর্ঘ্যকেই ভালোবাসে।বিয়ের
পরও নাকি সে অর্ঘ্যেরই থাকবে।মা বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারবে না
বলে অন্যকাউকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল।অর্ঘ্য সে কথা বোকার মত
বিশ্বাস করেছিল।বিয়ের পর রিমির সাথে দিনকয়েক ফোনে যোগাযোগ
হয়েছিল অর্ঘ্যের।তারপর একসময় রিমি অর্ঘ্যের সাথে যোগাযোগ ধীরে
ধীরে বন্ধ করে দিতে থাকে।একসময় সম্পূর্নরূপে বন্ধ করে দেয়।সে তার
পূরোনো নাম্বারটাও অফ করে দেয়। অর্ঘ্য ভেবেছিল হয়ত কোন কারনে
রিমি যোগাযোগ করতে পারছে না। অর্ঘ্যও মাসকয়েক অাগে মায়ের
চাপাচাপিতে অহনাকে বিয়ে করেছে।বিয়ের পর থেকে একটি
বারের জন্যও মেয়েটার সাথে ভালোভাবে কথা বলেনি অর্ঘ্য।ঘনিষ্ট
হওয়াতো দূরের কথা।কারন অর্ঘ্য রিমিকে ভালোবাসত।
অর্ঘ্য কফি হাউজটাতে ঢুকল।কফির অর্ডার দিয়ে রিমির সেই পুরোনো
নাম্বারটাতে ফোন দিল।নাম্বারটা বন্ধ।মাঝে মাঝেই বন্ধ নাম্বারটাতে
ফোন দেয় সে।যদিও প্রতিবার হতাশহতে হয় তাকে।
ওয়েটার কফি নিয়ে অাসল।কফিতে চুমুক দিতে দিতে অর্ঘ্যের একজোড়া
যুগল যুগলীর কথোপকথন কানে অাসল। মেয়েটি ছেলেটিক বলছিল,
“বিয়ের অাগের সব কিছু অামার কাছে দুঃস্বপ্নের মত।এখন তুমিই অামার সব।
অার কেউ না।তোমাকে অনেক ভালোবাসি সৌরভ।”
মেয়েটার কন্ঠ অর্ঘ্যের কেমন যেন পরিচিত মনে হল।খুব পরিচিত।
তবু অর্ঘ্য সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে
পুরোনো কথাগুলো মনে করছিল।খাওয়া শেষে ওয়েটারকে বিল পে করে তার
হাতে কিছু টাকা বকশিশ গুজে দিয়ে অর্ঘ্য উঠে দাড়াল।তার নজর সেই ছেলে
মেয়েটার দিকে গেল।মেয়েটাকে দেখতেই অর্ঘ্য বুকে যেন কেউ হাতুড়ি
দিয়ে অাঘাত করল। মেয়েটা রিমিই ছিল।সাথে ছিল তার
স্বামী।রিমি অর্ঘ্যকে দেখেও কেমন যেন অচেনার মত ভাব করে উঠল।রিমির
চোখে অর্ঘ্য কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।তারপর ঘুরে গিয়ে অাস্তে
অাস্তে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল অর্ঘ্য।বাইরে বেরিয়ে ফুটপাতের
উপর বসে পড়ল সে ।চোখের পানি মুছে তার স্ত্রীর অহনার কথা মনে করল।যেই
রিমির জন্য সে তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে এক মিনিটের জন্যও সময় দেয়
নি।কথা পর্যন্ত ঠিক করে বলে নি। চোখের পানি মুছে ফুটপাত থেকে
উঠে দাড়াল সে।রিক্সায় করে বাসায় গেল।কলিং বেলে চাপ দিতেই অহনা
দরজা খুলে দিল।মাথা নিচু করে একপাশে দাড়িয়ে গেল অহনা।তারপর
নিচু স্বরে অর্ঘ্যকে বলল “হাতমুখ ধুয়ে অাসুন।অামি খেতে
দিচ্ছি।” অর্ঘ্য ফ্রেশ হয়ে খেতে বসেই অহনাকে
জিজ্ঞেস করল, “তুমি খেয়েছ?”
অহনা অর্ঘ্যের দিকে একপলক অবাক দৃষ্টিতে তাকাল।কারন এই প্রথম অর্ঘ্য
অহনাকে তুমি বলে সম্বোধন করল।অহনা বলল
“অাপনি খেয়ে নিন।
“তারপর অামি খাব”।
অর্ঘ্য বলল, “এখন বস।একসাথে খাব।”
অহনা অর্ঘ্যের কথা মত খেতে বসল। রাত তখন সাড়ে এগারোটা।অহনা
ছাদে দাড়িয়ে অাকাশের দিকে বিমর্ষ চোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে
রইল।হঠাৎ অর্ঘ্য ছাদে অাসল।অহনা অর্ঘ্যকে দেখে গুটিসুটি মেরে মাথা
নিচু করে দাড়িয়ে গেল।অর্ঘ্য ধীরে ধীরে এগিয়ে অাসল।অহনার হাতটা
চেপে ধরল।তারপর মৃদ্যস্বরে বলল,
“অাই এম সরি!তোমাকে অবহেলা করার জন্য।অামি তোমাকে ভালোাসি।”
সাথে সাথে অহনা একরাশ অভিমান মিশ্রিত অশ্রু নিয়ে অর্ঘ্যেকে জড়িয়ে
ধরে ফুফিয়ে কেদেঁ উঠল। “এতদিন অামার সাথে এরকম করলে
কেন?”অহনা বলল।
অর্ঘ্য বলল,
“মিথ্যে মরিচিকার পিছনে ছুটেছিলাম।তাই।মাফ করে দাও।অার
হবে না।” এই বলে অর্ঘ্য অহনাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। খুব শক্ত করে……

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 12 =