জাকির নায়েক এবং পুরুষের অধিক বিবাহ করা উচিত সংক্রান্ত মিথ্যাচার

ড.জাকির নায়েককে এক ভদ্রমহিলা একবার প্রশ্ন করেছিলেন ইসলাম ধর্ম একজন পুরুষকে চারটা বিয়ে করার অধিকার দিয়েছে। এটা কতটুকু সঠিক? ড.জাকির নায়েক তার স্বভাব সুলভ চালবাজিকর উত্তর দেন। তিনি বলেন



ড.জাকির নায়েককে এক ভদ্রমহিলা একবার প্রশ্ন করেছিলেন ইসলাম ধর্ম একজন পুরুষকে চারটা বিয়ে করার অধিকার দিয়েছে। এটা কতটুকু সঠিক? ড.জাকির নায়েক তার স্বভাব সুলভ চালবাজিকর উত্তর দেন। তিনি বলেন

পৃথিবীতে নারী আর পুরুষ সমান সমান অনুপাতে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পুরুষরা বেশিদিন survive করতে পারে না। অর্থাৎ বাচে না। তাই পৃথিবীতে নারীর সংখ্যা বেশি। শুধু আমেরিকা তেই যদি প্রত্যেক পুরুষ একটি করে বিয়ে করে তাহলে প্রায় 78 লক্ষ নারী অবিবাহিত থাকবে। এখন এই নারীগুলো হবে জনগণের সম্পত্তি।(অবিবাহিত বা কুমারী থাকবে এই বাক্যটা বলতে বোধহয় পৃথিবীর শেষ্ঠতম ভদ্র ইসলামিক স্কলারের রুচিতে বেধেছে) তাই প্রত্যেক নারীর তার husband কে একের অধিক বিবাহ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

বক্তব্য সঠিক। কিন্তু পুরো বক্তব্যে রয়েছে শুভঙ্করের হিউজ পরিমাণ ফাঁকি। তো আমরা একটু দেখি ফাকিটা কোথায়?

পৃথিবীর সব দেশের জনসংখ্যার পুরুষ এবং মহিলার অনুপাত প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকায়
এই খানে মহিলার অনুপাতে পুরুষের হিসাব করা হয়েছে, চারপ্রকারে। 1) জন্মের সময় পুরুষ অনুপাতে মহিলা
2)15 বছর বয়স অবধি পুরুষ অনুপাত মহিলা
3) 64 বছর বয়স অবধি পুরুষ অনুপাত মহিলা।
4) 64 বছরের উর্ধ্বে পুরুষ অনুপাতে মহিলা

খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে একেবারে প্রত্যেকটা রাষ্ট্রেই জন্মের সময় পুরুষের সংখ্যা মহিলার তুলনায় বেশি থাকে। একই ভাবে 15 বছর বয়স অবধি পুরুষের সংখ্যা মহিলার তুলনায় বেশিই থাকে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত সবদেশেই পুরুষের সংখ্যা 1.05।

অর্থাৎ প্রতি একশ জন নারীর মধ্যে 105 জন হচ্ছে ছেলে। তাহলে এ থেকে বুঝা যাচ্ছে মেয়ের তুলনায় ছেলেই বেশি। এরপর হিসেব করা হয়েছে 15 থেকে 64 বছরের মধ্যে ছেলে এবং মেয়ের অনুপাত। এবার আপনাদের একটা বেসিক প্রশ্ন করি বিভিন্ন রোগে ভুগে মানুষ মারা যায় ঠিক কোন বয়সে? জ্বি। এক শিশু বয়সে এবং দুই বৃদ্ধ বয়সে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি সে পুরুষ হোক বা নারী সে কখনোই তরুণ বয়সে মারা যায় না। কারণ তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এই সময়ে শিশু এবং বৃদ্ধ এই দুই বয়সের তুলনায় থাকে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ যে সমস্ত মানুষ প্রাকৃতিক রোগের বিরুদ্ধে 15 বছর পর্যন্ত সার্ভাইভ করতে পেরেছে নিঃসন্দেহে 30 বছর পর্যন্ত সে সুস্থই থাকবে। দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশেই 30 বছর পর্যন্ত যেটা বিবাহের আসল সময় সেসময় পর্যন্ত পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় বেশিই থাকে। কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই এভাবে ধারণা করার চেয়ে প্রমাণের উপরই বেশি বিলিভ করবেন। লিস্টটাতে 64 বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষ অনুপাত নারীর সংখ্যাও বেশি। আরব আমিরাতে 2.03, যুক্তরাষ্ট্রে 1.07; আর যুক্তরাজ্যে 1.03। অর্থাৎ প্রতি 100 জন নারীতে আরব আমিরাতে 200 জন পুরুষ, জাকির নায়েকের সেই যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি 100 জন নারীর বিপরীতে 107 জন জন পুরুষ আছে। অর্থাৎ 64 বছর বয়স অবধি যদি প্রত্যেক পুরুষ একটা করেও বিবাহ করে তাহলে উল্টো অসংখ্য পুরুষই অবিবাহিত থাকবে। (জাকির নায়েকের ভাষায় এই অবিবাহিত পুরুষগণ কী জনগণের সম্পত্তি হবেন কি না আমি জানি না)। নিশ্চিত ভাবে মনে হতে পারে ভাই জাকির কী তাহলে মিথ্যা বলেছেন? উত্তর হল না। আসলে বিবর্তনের গতিপ্রক্রিয়ায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় যতটুকু বেশি সার্ভাইভ করতে পারেন সেটা পরিলক্ষিত হয় শেষ বয়সে এসে। একজন পুরুষ 60-62 বছর পর্যন্ত বেচে থাকলেও একজন নারী প্রায় 68-69 বছর পর্যন্ত বাচে। তাই 64 বছরের পর নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা কমে যায়। তাই সব দেশেই এই সংখ্যাটা দাড়ায় গড়ে 0.8। অর্থাৎ প্রতি একশ জন ষাটোর্ধ্ব নারীর বিপরীতে থাকবে 80 জন ষাটোর্ধ্ব পুরুষ। তাই বুঝতেই পারছেন দুমুখোদের বলা জোকার নায়েক যে 78 লক্ষ নারীর হিসাব দিয়েছেন তারা কেউই 20, 21 বছরের তরুণী হবেন না। হবেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্কা যাদের হাসব্যাণ্ড হয়তো কিছু বছর আগে মারা গেছে।

এবার একটা কুইজ: জাকার সাহেব মানবদরদী হয়ে বলেছেন নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি। একারণে প্রত্যেক পুরুষ একজন নারীকে বিবাহ করলে আরো অনেক নারী জনগণের সম্পত্তি হতে পারে। তাই বিবাহিত নারীর উচিত অবিবাহিত মেয়েদের সম্পত্তি হওয়া থেকে বাচাতে স্বামীকে অবিবাহিত মেয়েটির সাথে ভাগ করে নেওয়া।কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। তাহলে তো সব মেয়ের বিবাহ হবার পর আরো পুরুষ অবশিষ্ট থাকবে। তবে কী বিবাহিত পুরুষ জাকারের হিসাবে মানবতাবাদী হয়ে তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে ভাগ করে নিবেন? মানবদরদী জাকার এবং তার অনুসারীরা কী বলেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “জাকির নায়েক এবং পুরুষের অধিক বিবাহ করা উচিত সংক্রান্ত মিথ্যাচার

  1. (No subject)
    জাকির নায়েকের সমর্থকরা একটা গুরুত্বপূর্ণ লজিক দিয়েছেন। তাদের মতে এই রেশিওটা মুলত সংখ্যা নয়, এটা একটা ভাগফল। তাই এই রেফারেন্স টা গ্রহণযোগ্য নয়, অন্তত আমেরিকার ক্ষেত্রে তো নয়ই। তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ছবিটা দিলাম, যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালের ৫৪ বছর পর্যন্ত নারী পুরুষ সমান সমান ছিল। আর আদমশুমারীর রিপোর্ট অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে সবসময় অন্তত ৩৮ বছর পর্যন্ত পুরুষের সংখ্যা নারীর চেয়ে বেশি। তো কোন ছেলেটা ৩৮ বছরের পরে গিয়ে বিবাহ করে? আমেরিকার মত দেশে তো অবশ্যই নয়। রেফারেন্স এখানে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 + = 84