অসাম্প্রদায়িকতা ও সুপ্রিমকোর্টে মূর্তি

বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসাম্প্রদায়িক দেশ।
এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধরা তাদের স্ব-স্ব ধর্ম পালন করছে; ধর্মালয়ে স্থাপন করেছে দেবদেবীর মূূতি।
তাদের ধর্মালয়ে মূর্তি স্থাপন করা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম আপত্তি তথা আন্দোলন করেনি।

কিন্ত,দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী ‘ন্যায়ের দেবী’ খ্যাত ‘থেমিস’ মূর্তি স্থাপন করা হলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশের জনগণ এর বিরোধিতা জানাচ্ছেন।

মাধ্যমিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুদূদন দত্তের লেখক পরিচিতি পড়ার সময় পড়েছিলাম উনারা ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত যান।

→ ব্যারিস্টারি শিক্ষার জন্য বিশ্বের একটা প্রসিদ্ধ কলেজ,ইংল্যান্ডের Lincoln Inn.
সেই কলেজের প্রধান গেইটে লেখা “Mohammad is the greatest lawgiver of mankind.”
অর্থাৎ “মুহাম্মদ হলেন মানবজাতির শ্রেষ্ট আইনকর্তা।”

→১৯৩৫ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট মুহাম্মদ সা. কে ‘Source of law and justice’ (আইন এবং ন্যায়ের সূত্রধর) এবং ‘Great lawgiver of mankind’ নামে আখ্যায়িত করেছে।

আধুনিক বিশ্বের আইন শিক্ষার্থীদের তীর্থস্থান বিলেত তথা ইংল্যান্ডের অন্যতম শ্রেষ্ট আইন কলেজ এবং অমুসলিম ও লিভারেল সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত মুহাম্মদ (সা.) প্রণিত আইনগুলোকে সম্মান এবং স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসাম্প্রদায়িক দেশ।
এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধরা তাদের স্ব-স্ব ধর্ম পালন করছে; ধর্মালয়ে স্থাপন করেছে দেবদেবীর মূূতি।
তাদের ধর্মালয়ে মূর্তি স্থাপন করা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম আপত্তি তথা আন্দোলন করেনি।

কিন্ত,দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী ‘ন্যায়ের দেবী’ খ্যাত ‘থেমিস’ মূর্তি স্থাপন করা হলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশের জনগণ এর বিরোধিতা জানাচ্ছেন।

তাছাড়া, সুপ্রিমকোর্টের পাশে অবস্থিত এদেশের জাতীয় ঈদগাহ;রাষ্টধর্মের ধর্মীয় উপাসনালয়।
রাষ্ট্রীয় ধর্মের উপাসনালয়ের পাশে ঐ ধর্মের সবচেয়ে ঘৃণিত বস্তু স্থাপন করে কি আমরা অসাম্প্রদায়িকতার (!) পরিচয় দিচ্ছি???

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ্‌’ এবং রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’ করা হলে এদেশের চেতনাধারী(!) সুশিলসমাজ বলে উঠেন এটা ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনাবিরোধী’!

তথাপি, যখন গ্রীক দেবীর মূর্তি যা গ্রীকপুরাণ অনুযায়ী তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ন্যায়ের প্রতিকী মূর্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হলো তখন ঐ সব চেতনাধারী মূর্তি আর ভাস্কর্যের বিতর্কে লেগে গেলো!

কিন্ত ইতিহাসে দেখতে পাই, ন্যায়ের প্রতিকী নারী মূর্তি হিসেবে পৃথিবীতে যেসব মূর্তি ছিলো তা ল্যাটিন ভাষায় ‘Justitia’ রোমান ‘Justice’ মিশরীয় ‘Lsis’ এবং গ্রীক ‘Themis’।

সর্বোপরি ঐ মূর্তিটি ঐসব দেবদেবীর পরিচায়ক।
যেখানে অমুসলিম দেশগুলো ন্যায় বিচারের প্রতিক হিসেবে মুহাম্মদ সা. কে গণ্য করে সেখানে মুসলিম প্রধান দেশের আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত হচ্ছে বিধর্মীদের দেবী-মূর্তি!

দেবীমূর্তি অপসারণের দাবি তোলা গোষ্টিকে ‘স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাধীনতার চেতনা কি দেবীর-মূর্তি স্থাপন?
এ প্রশ্ন গোপালগঞ্জের এক প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলে উনি বলেন,
“আমরা মূর্তি স্থাপনের জন্য যুদ্ধ করিনি,এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়।
আমার ইচ্ছা হয় একটা হাতুড়ি দিয়ে ঐ মূর্তিটি ভেঙ্গে দেই..!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

42 − = 33