নারীদের উপর পুরুষদের অশ্লীল আচরণের জন্য নারীরাও কম দায়ী নয়

নারীদের উপর পুরুষদের অশ্লীল আচরণের জন্য নারীরাও কম দায়ী নয়

যে মেয়েরা অশ্লীল পোশাক পরে তারা যখন পুরুষদের অশ্লীল আচরণের শিকার হয় তখন আমার কম খারাপ লাগে। কারণ যে নারী তার শরীরের বিভিন্ন অংশ অশ্লীলভাবে প্রদর্শন করছে সে তা পুরুষদের উত্তেজিত করে তার প্রতি মনোযোগ আনার জন্যই করছে। এমন অবস্থায় কোন পুরুষ যদি উত্তেজিত হয়ে উক্ত নারীর সাথে জোর করে যৌন সম্পর্ক করে ফেলে তবে পুরুষটিকে দায়ী করার তেমন কিছু থাকেনা, আর মেয়েটাকে নিষ্পাপ ভাবারও কিছু নেই।

তাই এই ধরণের মেয়েদের প্রতি আমার সবসময় সমবেদনা কম। হ্যা, তবে আমদের বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মেয়েদেরকে পণ্য বানাতে ব্যস্ত। তাই উগ্র উচ্ছৃঙ্খল মেয়েদের প্রতি একটু দয়া আমার হয়।

অনেক পুরুষ আছে যারা মানসিকভাবে অসুস্থ। এই ধরণের পুরুষদের সামাজিক, পারিবারিক শিক্ষার কথা মনে থাকেনা। তারা সহজেই নারীদের সাথে যৌন আচরণের ক্ষেত্রে বিকৃত রুচির পরিচয় দেয়। শিশু ধর্ষণ পুরুষদের বিকৃত মানসিক অবস্থার ফলাফল। এই ধরণের পুরুষদের ক্ষেত্রে সকল সামাজিক শিক্ষা মিথ্যে হয়ে যায়। এদের শাস্তি অনেক কঠিন হওয়া উচিৎ। কিন্তু যখন পূর্ণ বয়ষ্ক নারীরা কতক্ষণ ক্লিভেজ বের করে, কতক্ষণ অর্ধ পা বের করে মিনি স্কার্ট পরে, কতক্ষণ স্তন বের করে দেখায়, কতক্ষণ ব্রা, পেন্টি পরে দেখায়, কতক্ষণ শরীরের বিভিন্ন অংশগুলো কাটা ছেঁড়া পোশাক পরে দেখাতে ব্যাকুল হয়ে যায় তখন তাদেরকে টাকার লোভীই শুধু বললে ভুল হবে, বলা যায় যে এই ধরণের মেয়েরাই পুরুষদেরকে ধর্ষক বানায় আর নারীদেরকে মূল্যহীন বানায়।

এই ধরণের নারীদের জন্যই পুরুষরা নারীদেরকে স্তন, যৌনাঙ্গ ও সামগ্রিকভাবে যৌন যন্ত্র ছাড়া আর কিছু ভাবতে সক্ষম হয়না। এর ফলাফল স্বরূপ যেসব নারীরা শিক্ষিত, সভ্য হয়ে উঠেছে তারা অনেকক্ষেত্রে অবমূল্যায়িত হতে থাকে এবং পুরুষদের দ্বারা সহজেই যৌন আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

অতি পর্দাপ্রথা নারীদের জন্য যেমন অপমানজনক তেমনি অতি বেপর্দা হওয়া নারীদের মান সম্মান ধ্বংসের একটি কারণ। আমাদের দেশেও অনেক বাঙ্গালী মুসলিম মেয়েরা বর্তমানকালে হলিউডের তারকাদের মত পোশাক আশাকে সেক্সি সেক্সি ভাব আনার চেষ্টা করতে গিয়ে ক্লিভেজ বের করছে, ব্রেস্ট, পেটের সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে নির্লজ্জভাবে। এই ধরণের মেয়েদেরকে পুরুষরা বিয়ে করেনা, শুধুমাত্র ব্যবহার করে। পুরুষরা সভ্য, সাধারণ মেয়েদের বিয়ে করে, কিন্তু স্ত্রীদের নিকট থেকে অসভ্য মেয়েদের মত আচরণ না পেলে আবার অসভ্য মেয়েদের সাথেই গোপন সম্পর্কে লিপ্ত হয়।

সবদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, আমাদের নারীদের পোশাক ও অচরণে শালীন হওয়া সমাজের সবার মঙ্গলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। পুরুষরা সমাজে অনেক নিরাপদ, কিন্তু তারপরও তারা প্রায়ই শালীন পোশাক পরে। নারীরা সমাজে নিরাপদ নয় অথচ তারাই বেশী উচ্ছৃঙ্খল নিজের শরীর প্রদর্শনের ব্যাপারে। এই বিষয়টি অবাক করার মত। সেটি হল নারীরাও পুরুষের সুঠাম শরীরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। পুরুষদের মধ্যেও কাউকে কাউকে সেক্সি বলা হয়, সবাইকে সেক্সি বলা হয়না। কিন্তু তাই বলে বেশীরভাগ পুরুষরাই নিজেকে সেক্সি বানানোর জন্য খালি গায়ে, বুক পিঠ, পেশী দেখিয়ে সমাজে বা নারীদের নিকট সেক্সি ইমেজ তৈরীর চেষ্টা করেনা। ফ্রি সেক্সের দেশেও বেশীরভাগ পুরুষ ভদ্র পোশাক পরে বাইরে বের হয়। কারণ পুরুষরা নিজেদের গুণ ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি বেশী মনোযোগী। কিন্তু বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোতেও নারীরা নিজের সেক্সি ইমেজ সৃষ্টির জন্য নানারকম অশ্লীল পোশাকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটা শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ষড়যন্ত্রের ফল নয় ; বরং নারীদের নিজেদের সস্তা মানসিকতার ফল, নারীর আত্মমর্যাদাহীন হয়ে পড়ার ফল। যেভাবে সমগ্র বিশ্বে নারীদের নগ্নতাকে গ্রহণ করা হচ্ছে তাতে একদিন যৌনকর্মী ও সাধারণ নারীদের মধ্যে কেউ পার্থক্য করতে পারবেনা।
নারী পুরুষের প্রাপ্ত বয়সের শারীরিক সম্পর্কটা স্বাভাবিক। কিন্তু সমাজে আরও কোটি কোটি কাজ আছে যা শেষ করতে নারী পুরুষের মেধা, দক্ষতার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানকালের নারীদের সেদিকে মনোযোগ কমে গিয়ে শুধু যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে যোগ্য করার দিকে মনোযোগ বেশী দিতে দেখা যাচ্ছে। এতে নারীরা চরম ব্যক্তিত্বহীন ও তুচ্ছ হিসেবে সমাজে স্থান পাচ্ছে। আজকাল নেটে সার্চ দিলে আমাদের দেশের বাঙ্গালী মুসলিম মেয়েদের যেসব অশ্লীল ছবি পাওয়া যায় তা লজ্জার।
আমাদের দেশে পূর্বের দিনে শাবানা, ববিতা, কবরীসহ বেশীরভাগ নায়িকারা সুন্দর করে শাড়ী চুড়ি পরে অভিনয় করত এবং তাই দেখে নারী পুরুষ সবাই পাগল হয়ে যেত। এই নায়িকাদের মুখে থাকত নির্মল হাসি, চোখে থাকত শিশুর মত সরলতা, কিন্তু তাদেরকে কম রোমান্টিক কখনোই মনে হয়নি কারও। তারা দেহটাকে অশ্লীলভভাবে প্রদর্শন করতনা বলে সিনেমার দর্শকদের মধ্যে নারীদের প্রতি সম্মানজনক চিন্তাটা হারিয়ে যেতনা কখনও।
তাহলে সেসময়ের নায়ক, নায়িকা, দর্শকরা কি কুরুচিপূর্ণ অশিক্ষিত ছিল -নাকি বর্তমানকালের নগ্ন, অর্ধনগ্ন নায়িকা আর দর্শকরা কুরুচিপূর্ণ, অশিক্ষিত? মানুষের রুচি যত নিচে নামবে তত তাদেরকে নিয়ে অশিক্ষিত কুরুচিপূর্ণ একটা শ্রেণি সমাজে খেলতে থাকবে। আর এই খেলার মাঝে ভদ্র শ্রেণীর নারী পুরুষ অসভ্যতা, বর্বরতার শিকার হবে- যার বিচার করে শেষ করা যাবেনা।

যারা গরীব বা দারিদ্র্যের কারণে খারাপ পেশায় চলে যায় তাদের কথা আলাদাভাবে বিচার্য। কিন্তু যারা টাকা পয়সা, সামাজিক সুস্থ অবস্থান থাকার পরও বিভিন্নভাবে দেহ প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকে তাদেরকে নারীজাতির অবনতির ক্ষেত্রে সহায়ক বলা যায়। এই শ্রেণির নারীদের ক্ষমা করা যায়না। আমাদের সমাজে অনেক সুন্দরী মেয়ে আছে যারা সুন্দর মত পোশাক পরিধান করে, সুস্থ পারিবারিক, সামাজিক অবস্থাকে সম্মান করে জীবনযাপন করে। নারীদের মধ্যে এই শ্রেনিটাই জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, মূল্যবোধে বড়। যারা কাজী নজরুলের কবিতায় ঠাঁই পেয়েছিল “জ্ঞানের লক্ষ্মী,সুষমা লক্ষ্মী ” বলে। এরাই নিজেদেরকে এবং সমগ্র সমাজকে মর্যাদাপূর্ণ করে গড়ে তুলতে পারে। এরাই জন্ম দিতে পারে সেই শিশুদের যারা সকল পাশবিক প্রবৃত্তিকে হার মানিয়ে মানুষের সমাজ গড়ে তুলতে পারে। গড়ে তুলতে পারে নারী পুরুষের সম্মানজনক মিলিত সমাজ।
আজকাল কিছু দেশে নারীদের অতি পর্দানশীল ভাব দূর করার জন্য আইন হচ্ছে। কিন্তু সিনেমা, নেট, বাস্তব জীবনে যে নগ্নতা, অশ্লীলতার চর্চা চলছে সেসব বন্ধের জন্য কোন আইন কেন করা হচ্ছেনা? মানব সমাজকে শুধুমাত্র যৌন চিন্তায় মগ্ন রাখার যত চেষ্টা চলছে তা বন্ধ করা হোক।

বর্তমানকালের নায়িকা এবং অতি আধুনিক নারীরা সমাজকে ভিতরে বাইরে যৌন কারখানা বানানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত। সুস্থ, স্বাভাবিক নারী পুরুষের উচিৎ এই ধরণের নারীদের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং তাদের কুপ্রবৃত্তি প্রতিহত করা যাতে তনুদের মত সকল ভদ্র, পরিশ্রমী নারীরা হেসে খেলে বেঁচে থাকতে পারে ও ভদ্রভাবে পুরুষের দ্বারা মূল্যায়িত হতে পারে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “নারীদের উপর পুরুষদের অশ্লীল আচরণের জন্য নারীরাও কম দায়ী নয়

  1. নারীদের উপর পুরুষদের অশ্লীল

    নারীদের উপর পুরুষদের অশ্লীল আচরণের জন্য নারীরাও কম দায়ী নয়।

    সত্যি বলেছেন।

    *clapping* চালিয়ে যান, সত্যি বলায়ে সাহস লাগে। আপনার তা অাছে। *clapping*

  2. ধন্যবাদ সবাইকে। লেখাপড়া জানা
    ধন্যবাদ সবাইকে। লেখাপড়া জানা লোকের কিছু কথা বলতেই হয় তাতে অন্যের সমালোচনা বা কোন ভয়াবহতার কবলে পড়ার সম্ভাবনা যতই থাকুক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 + = 39