জঙ্গি উৎপাদনের মতাদর্শিক ভিত্তি চালু রেখে জঙ্গি নিধন সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের একটা দিক

দেশে দফায় দফায় জঙ্গি নিধন করছে সরকার।সরকারের বিরোধী হলেই তাকে জঙ্গি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টাও কম নয়।দুদিন আগেই চট্টগ্রামে সোয়াট বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।সারাদেশে এমাসের শুরুতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অনেক গ্রেফতার করা হয়েছে।আর গ্রেফতারের সাথে আছে গ্রেফতার বাণিজ্যের নিবিড় সম্পর্ক।বর্তমানে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্যের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি।

?1479388723432″ width=”512″ />

রাষ্ট্র একদিকে জঙ্গি তৈরীর মতাদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে অপরদিকে সরকার তার বিরোধীদের দমনের জন্য সেই মতাদর্শিক ভিত্তিকে টিকিয়ে রেখে জঙ্গি নিধনের নামে বিরোধীদের দমন করছে।১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশে জঙ্গি তৈরীর মতাদর্শিক ভিত্তিকে শাসকগোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে।কখনো ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে আবার কখনো বা ধর্মের নাম করে।

১। বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয়করণের কাজ আগে থেকেই চলছে।যেটুকু ভালো দিক ছিল এবার পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামীকরণ ও ধর্মীয় করণ সেটাকেও শেষ করে দিয়েছে।বইয়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়া হয়েছে।এখন থেকে শিশুরা সাম্প্রদায়িক ও আওয়ামী হয়েই বেড়ে উঠবে।আগেও শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য স্বাধীন কোন শিক্ষা ব্যবস্থা এখানে ছিল না,এখনো নেই।

২। আইনে সবক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন বজায় রাখলে সেখানে জঙ্গি তৈরী হবে এটা স্বাভাবিক।

৩।সমগ্র বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে যেসব আগ্রাসী যুদ্ধ চলছে তার সবই চলছে ধর্মীয় উত্থান তৈরী করে দেশে দেশে লুটপাটের উদ্দেশ্যে। আফগানিস্তান, ইরাক,সিরিয়া,তুরস্কে আইএসকে তৈরী করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এখন সেই আইএস দমনের নাম করে কুর্দি স্বাধীনতাকামীদের উপর হামলা করছে।বাংলাদেশের নতজানু আওয়ামী সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাঁটছড়া বেধে আছে।এখানে জঙ্গির জুজুর ভয় তৈরী করার মার্কিনী এজেন্ডাকে নস্যাৎ না করে জঙ্গি দমন করা যায় না।কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জনগনের সামনে সেই খেলাটি উপস্থাপন করছে যে,জঙ্গিরা যেন অন্য গ্রহের প্রানী,তারা আকাশ থেকে পড়ে।

৪। ধর্মীয় রাজনীতির ব্যবহার খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার নিজেই করছে।শেখ হাসিনা নিজে বলছেন দেশ চলছে মদিনা সনদের ভিত্তিতে।

এইসব কিছুকে টিকিয়ে রেখে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্র চালিয়ে যাচ্ছে।যাকে খুশি তাকে হত্যা করে জঙ্গি সাজানো হচ্ছে।কিছু জঙ্গি মরছে না, তা নয়।কিন্তু এটা তাদের মতাদর্শিক সমস্যা। জঙ্গিদের হত্যা করে জঙ্গি মতাদর্শ কে হত্যা করা যায় না।সাম্প্রদায়িকতার সকল আয়োজন টিকিয়ে রেখে সাম্পদায়িক মানুষকে মেরে সাম্পদায়িকতা দূর করা যায় না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি শুরু থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডকে বৈধতা দিয়ে এসেছে।বিচারবহির্ভূত কোন হত্যাকান্ডই সমর্থনযোগ্য নয়।এসব কথা বলার কারনে অনেকেই হয়তো বলবেন আমি জঙ্গিদের পক্ষ নিচ্ছি।আমি তাদের ভেবে দেখার কথা বলব যে,যে রাষ্ট্র কিনা মৌলবাদের ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছে,সেখানে কিভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তন না করে বিমূর্তভাবে দেশকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তোলা যায়!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

55 + = 59