অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব ও আমিত্ব

১)
আমি নাস্তিক নই, অজ্ঞেয়বাদী হয়েও আমি একজন আস্তিকঃ

“Know thyself”. আমি নিজেকে জানার চেষ্টা করলাম বাইরে থেকে। কারন মায়ের পেট থেকেতো নিজেকে জানার চেষ্টা সম্ভব হইনি যদিও মায়ের পেটই ছিল তখন আমার জগত।
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই নিজেকে জানার চেষ্টা করলাম _জগতকে বুঝতে- বুঝতে কিংবা জানতে-জানতে জানতে পারলাম যে, জগত মূলত দুইটি বিপরীত শক্তি তথা সত্তার ভারসাম্যমূলক অবস্থান যার লব্ধি শূন্য। Something exists in nothing. But we don’t know what’s nothing.

ধর্মতত্ত্বে এই শূন্যতার স্থান দখল করেছে ঈশ্বর, ব্রহ্ম কিংবা অনুরুপ সত্তা। বিজ্ঞানে এই শূন্যতাকে বলে কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়াম। Zero is not zero. Something exists in zero.

আমি জগতকে জানতে জানতে বুঝতে পারলাম জগতের শূন্যতাকে। আমিও জগতের অংশ। তাই নিজের ভেতরেও নিজেকে পাচ্ছিনা। তথাপিও আমি আমার আমিকে অনস্তিত্ব ঘোষণা করতে পারছিনা। পারছিনা বলেই আমি আছি, আমি অস্তিত্ববান।

আর একারনেই আমি নাস্তিক নই, অজ্ঞেয়বাদী হয়েও আমি একজন আস্তিক।

২)
অস্তিত্ব,অনস্তিত্ব ও আমিত্ববোধ

গতির সঙ্গে অস্তিত্বের সম্পর্ক। বিপরীতে স্থিতির সঙ্গে অনস্তিত্বের সম্পর্ক। গতি ও স্থিতির আপেক্ষিকতায়ই জগত। শুধু গতি অস্তিত্বের চরম প্রকাশ, শুধু স্থিতি অনস্তিত্বের চরম প্রকাশ। চরমে বাস্তবতা নেই, বরং বাস্তবতা হলো উভয়ের সমন্বিত ফল।

আমার মতের প্রকাশ মানে আমার অস্তিত্বের প্রকাশ। জগতের প্রতিটি সত্তাই গতিয়মান হয়ে স্ব-স্ব অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। অস্তিত্ব মানে সত্তার আমিত্বের ঘোষণা। প্রতিটি সত্তারই আমিত্ববোধ ক্রিয়াশীল। জড় ও জীবের আমিত্ববোধের পার্থক্য হলো পরিমানগত,রূপগত এবং কিংবা গুনগত। যে সত্তার আমিত্ববোধ নেই তার কোন অস্তিত্বও নেই। আমার এই মতের আপনার বিপরীত অবস্থান মূলত আপনার অস্তিত্বকেই জানান দেয়।
একটি ইলেকট্রন কিংবা অতিপারমানবিক কণিকারও আমিত্ববোধ রয়েছে যা ভৌত জগতের নিয়ামাবলীর নির্নায়ক, নির্ধারক ও নিয়ামক। তদ্রুপ একটি একটি পরমানু, একটি বিন্দুজীব কিংবা জটিলতম জীব মানুষেরও আমিত্ববোধ ক্রিয়াশীল। কিন্তু সত্তার আমিত্ববোধের গুনগত, রূপগত ও পরিমানগত পার্থক্যের কারনেই কোন সত্তা জীব, কোনটি অজীব অথবা কোনটি জড়, কোনটি অজড়।

অস্তিত্ববান থেকে কোন সত্তার আমিত্ববোধ বিলুপ্তি অসম্ভব। একক সত্তা বহু সত্তায় বিভক্ত হয়ে বহু আমিত্ববোধের সৃষ্টি হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ঐ একক সত্তার বিভক্তির সাথে সাথে উহার আমিত্ববোধের বিলুপ্তি ঘটবে। এই বিলুপ্তি মূলত বিভক্ত সত্তা সমূহের আমিত্ববোধে সঞ্জালিত হওয়া।

ধর্মতত্ত্বে সর্বক্ষেত্রে এক বৃহৎ “আমি” স্বীকার্য্য। এই বৃহৎ আমিই ঈশ্বর, ব্রহ্ম কিংবা অনুরূপ সত্তা।

বিজ্ঞানে এই “আমি”কে স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনটিই করেনা কারন উহা অইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,অপরিমাপ্য,অনির্নেয়_জাগতিক-অজাগতিক,শূন্য-অশূন্য, বাস্তব-অবাস্তব সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 72