নারী নিপীড়ন ও পুরুষতন্ত্র জিইয়ে রাখা কিছু নারী; পুরুষ কখনও নারীর সহযোদ্ধা নয়।

নারী বরাবরই পুরুষের মানহানী করেছে। পুরুষ নারীর কাপড় টেনেছে, নগ্ন করেছে ; নারী মান যায় নি। কারণ নারী মানহীন। সব মানের ডিব্বা পুরুষের অণ্ডকোষে। নারী সত্য বললো তো অমনি অণ্ডকোষ হতে সাদা সাদা আঁঠা বের হয়ে মানহানী হয়ে গেলো!

আজ একজনের সাথে একটা গ্রুপে তর্ক চলছিল। প্রসঙ্গত, লোকটি জানতে চাইলো তসলিমা বিখ্যাত ব্যক্তিদের মানহানী করে লেখালেখি করে। তো এই মানহানী রূপক লেখালেখি কোন অর্থে আমাদের কাছে নারী জাগরণ?

লোকটাকে এত বুঝালাম যে ওই বিখ্যাত লোকগুলো তসলিমার কাপড় খুলেছে, নগ্ন করেছে এক পর্যায়ে ছলনা করে ধর্ষন করতে চেয়েছে আর তা-ই তসলিমা লিখেছে। তো এখানে মানহানী হলো কোথা থেকে! সত্য বললে যাদের মানহানী হয় তাদের তো উচিত কচু গাছে গলায় দড়ি দেয়া। যাই হোক পুরুষের আবার চক্ষু লজ্জা নাই। আঁধারে নারীর কাপড় টেনে আলোতে সাধু। সত্য বললেই, নারী বেশ্যা, মাগী।

একটা ঘটনা বলি, আমার এক ক্লাসমেট, যে একটা ছেলেকে বেশ ভালবাসতো। এক পর্যায়ে ওই ছেলেটা মেয়েটার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে।

এমন বেশ কয়েক বার হয়। তো ধারাবাহিক হওয়ার ফলে মেয়েটা পেগন্যান্ট হয়ে যায়। ছেলেটাকে বিষয়টা বললে ছেলেটা অস্বীকার করে এবং বেশ গালি-গালাজ ও অপবাদ দেয়। এক পর্যায়ে মেয়েটা যখন বিচার ডাকে তখন ছেলেটা সব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে এবং মেয়েটাকে পতিতায় পরিণত করে। গ্রামের মাদবররা ছেলেটার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনার ফলে মেয়েটার বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করে। এক পর্যায়ে মেয়েটা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সত্যিই পতিতার পথ বেছে নেয়। এ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বদ্ধ ঘরে নারীকে নগ্ন করে যৌবনের স্বাদ নিবে আর খোলা আকাশের নিচে আসলে গা ঝাঁকিয়ে সেই নারীকেই বেশ্যা, মাগী বলে গালি দিবে। আর যখনই সত্যি কথা প্রকাশ পাবে পুরুষের মান নগ্ন হয়ে গড়াগড়ি করবে রাস্তায়।

নারী নগ্ন হলে নারীর সতীত্ব যায় কিন্তু পুরুষ যখন নগ্ন হয় তখন কি পুরুষের পুরুষত্ব যায় না!(?) নাকি তিনগুনে বেড়ে যায়!

আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষগুলো বাসে চড়াকালীন সময় বেশ নারী ভক্ত হয়, জানেন কেন? নারীকে দাবিয়ে রাখার প্রক্রিয়াটা আরও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য। কিন্তু যে নারী পুরুষের এরূপ নারী ভক্তি দেখে গলিত হয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে পুরুষের করুণায় ভরা ছেড়ে দেয়া স্থানে বসে তখন কি একবারও ভাবে ওই পুরুষ তাকে কতটা অবজ্ঞা করলো? কতটা দূর্বল, অসহায় মনে করে স্থান ছেড়ে দিলো? ভাবে না। যদি ভাবতো তবে সন্তানের স্কুলের মাঠে বসে গল্প করা নারীদের কেউ বলতো না আমাকে আমার ও স্বাধীনতা দেয়!

ও কেন আপনাকে স্বাধীনতা দিবে!(?) ওর কি অধিকার আছে আপনাকে স্বাধীনতা দেয়ার? আপনার ইচ্ছা শক্তি কি এতটাই দূর্বল যে ও আপনাকে বলেছে বাজারে যাও আর আপনি স্বাধীনতা পেলেন?

বরং ওরা আপনাকে কিছু কিছু সুযোগ দিয়ে আপনার মূল অধিকার, ইচ্ছা থেকে কয়েক শ কিলোমিটার পিছিয়ে দিলো।

একটা সংসারে স্বামী মাস শেষে স্ত্রীর হাতে কয়েক হাজার টাকা গুজে দিলো! এতে কি আপনাকে সে বেশ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছে? মোটেও নয়, বরং মাস শেষে কয়েক হাজার টাকা গুজে দিয়ে বললো, এ টাকা নিয়ে চুপ থাকো আবার আগামী মাস এলে পাবে। এর আগে চুপ করে খেতে থাকো। টু শব্দটিও যেন না শোনা যায়। কিন্তু আমাদের নারীরা! মাসের টাকাটা হাতে পেলো না যেন সংসারে তার কর্তৃত জায়গা করে নিলো। আসলে কি তাই!(?) আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বাঁচিয়ে রাখতে নারীরাই মূখ্য ভূমিকা পালন করে। নারীরা সামান্য কিছু স্বাধীনতা ( যা পুরুষ নিজেদের অধিকার দীর্ঘ করার টোপ হিসেবে ব্যবহার করে) দিয়ে মনতুষ্ট করে পুরুষতন্ত্রকে যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখে। আর অবহেলিত, লাঞ্ছিত নারীরা যুগ যুগ পুরুষতন্ত্রকে বাঁচাতে লাঞ্ছিত, অবহেলিত হতেই থাকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 36 = 42