আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মুল্যবোধ,কৃষ্টি-কালচারের অধিকারী। আপনিও কি?

প্রত্যেক জাতীরই স্বকীয়তা, মুল্যবোধ ও নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার আছে ।উক্ত জাতীর কোন নেতা উক্ত জাতীকে যখন আহ্বান করেন যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা, মুল্যবোধ ও নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার রক্ষায় প্রয়োজনে জীবনের সবকিছু বিলিয়ে দেব, তখন কথাগুলো অত্যান্ত মধুর মনে হয় এবং আবেগপ্লুত হই ।নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার রক্ষায় কে না শরীক হতে চাই? আপনিও কি তাদের দলে?

সকল জাতীর সকল কৃষ্টি-কালচারই কি শ্রেষ্ঠ ও মানবতার জন্য কল্যাণকর? যদিও প্রত্যেক জাতী নিজস্ব কৃষ্টি-কালচারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে প্রাণাপন লড়ে চলছে, আপনিও হয়ত তাদের দলে নাম লিখিয়ে থাকবেন। প্রকৃতপক্ষে কোন জাতীর কৃষ্টি-কালচারের ৮০% ভাল, আবার কারো ৭০% আবার কোন কোনটির ৫০% ভাল।আপনি জাতীয় কৃষ্টি-কালচারের সংকীর্ণতার মধ্যে পড়ে থাকলেও আমি কিন্তু নই।

মানবতার জন্য যা কিছু ভাল ও কল্যাণকর তাইই আমার স্বকীয়তা, কৃষ্টি-কালচার। আপনার কৃষ্টি-কালচারের যতটুকু ভাল সেটুকু আমারও কালচার ।আজ আমি যেটাকে ভাল বলে মনে করছি আগামিকাল যদি তা প্রমাণীত হয় ভূল হিসাবে, তা আমি সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান করি । ভূল প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে সেটা আর আমার কালচার নয়। সুতরাং আমার স্বকীয়তা, কৃষ্টি-কালচার হল সকল জাতী, ধর্ম ও বর্ণের লোকদের মধ্যে লালিত-পালীত কৃষ্টি-কালচারের মধ্যে যেটুকু ভাল ও যা কল্যাণকর সেটুকুই আমার স্বকীয়তা ও আমার কৃষ্টি-কালচার।অর্থাৎ ’ক’ জাতীর কালচারের ৮০% ভাল হলে উক্ত ৮০% আমার কালচার বাকি ২০% আমার নয়, ’খ’ জাতীর ’৭০%’ ভাল ও শ্রেষ্ঠ থাকলে উক্ত ’৭০%’ ও আমার কালচার।

কোন জাতীর শ্রেষ্ঠ কোন কিছু গ্রহণ করলে আমার স্বকীয়তা হারানোর কোন লজ্জা বা ভয় নেই । কারন আমি আগেই বলেছি যে যা ভাল ও কল্যণকর তাইই আমার কৃষ্টি-কালচার। তাই আমি জাতীয় বা ধর্মীয় সংকীর্ণতার মধ্যে থেকে নিজের খারাপটুকুকেই শ্রেষ্ঠ প্রমানের জন্য লজ্জাজর প্রচেষ্টা করতে হয় না ।অতএব আমার কৃষ্টি-কালচারই পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।

স্বকীয়তা, মুল্যবোধ ও কৃষ্টি-কালচার বলতে কি বোঝায়?
স্বকীয়তা: স্বকীয়তা মানে নিজস্বতা।একটু সহজ করে বললে বলতে হয়- আপনি যদি মোল্লা হন তাহলে আপনার এই মোল্রাগিরি আর চৌধুরী হন আপনার চৌধুরীত্ব হল আপনার স্বকীয়তা। আপনার কৃষ্টি-কালচারও আপনার স্বকীয়তার মধ্যে পড়ে ।ফকীরের স্বকীয়তা তারা যে পদ্ধতিতে ভিক্ষা-বৃত্তি করে থাকে।

মুল্যবোধ: মুল্যবোধ বলতে মুল্য সম্পর্কে বোধ থাকা । যে জিনিস যতটুকু মুল্যবান ততটুকু মুল্যে বুঝতে পারা বা মুল্য দেয়া।এটিও জাতীভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে ।যে জাতীর কালচার যেটি সে জাতীর লালিত কালচারকে মুল্য দেয়াই সাধারণত মুল্যবোধ বোঝায়।

কৃষ্টি-কালচার: দীর্ঘদিন ধরে লালিত অভ্যাস,রীতি-নীতি ইত্যাদি কৃষ্টি-কালচার বলে পরিচিত।কৃষ্টি-কালচার একটি জাতী-গোষ্ঠির পরিচয় বহন করে।মনে রাখবেন সতীদাহ প্রথাও কৃষ্টি-কালচারের অন্তর্ভূক্ত ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 3