যাদেরকে আমি মা-বাবা ডাকি , তারাই যে আমার প্রকৃত জন্মদাতা , সেটা কি আমি নিশ্চিত ?

মুমিনদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় , আল্লাহ যে আছে তার প্রমান কি ? মুহাম্মদ যে নবী তার প্রমান কি ? প্রায়ই দেখা যায় মূর্খ ও উন্মাদ মুমিনরা তোতাপাখির মত উক্ত প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে। আর ভাবে , এই প্রশ্ন করেই বোধ হয় জিতে গেল । যাইহোক , এবার তাদেরকে উত্তর দেয়া হবে।

মুমিনদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় , আল্লাহ যে আছে তার প্রমান কি ? মুহাম্মদ যে নবী তার প্রমান কি ? প্রায়ই দেখা যায় মূর্খ ও উন্মাদ মুমিনরা তোতাপাখির মত উক্ত প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে। আর ভাবে , এই প্রশ্ন করেই বোধ হয় জিতে গেল । যাইহোক , এবার তাদেরকে উত্তর দেয়া হবে।

১। যাদেরকে আমি মা বাবা ডাকি , তারা যদি আমাদের প্রকৃত মা বাবা নাও হয় , তাতে আমার তো কোন সমস্যা নেই। আমি তাদের প্রকৃত সন্তান না হলেও , তারা আমাকে তাদের ভালবাসা, স্নেহ , মমতা দিতে সামান্য কার্পন্য করে না।

২। আমি যে তাদের সন্তান তার প্রথম সাক্ষী আমার মা। আমার মা জানে আমি তার গর্ভে জন্মেছিলাম। আমার জন্মের সময় যে ডাক্তার , ধাত্রী সাহায্য করেছিল তারা হলো দ্বিতীয় সাক্ষী। তার মানে কমপক্ষে দুইটা সাক্ষী আমার আছে প্রমানের যে আমি আমার মায়ের সন্তান।

৩। যাকে আমি বাবা ডাকি , সে ই যে প্রকৃত পিতা তার প্রথম সাক্ষীও আমার মা। কারন সেই একমাত্র জানে কে আমার প্রকৃত বাবা। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সাক্ষী দরকার। আমার বাবা যদি নিশ্চিত হয় , যে আমার মা দুশ্চরিত্রা না , তাহলে বাবা নিজেই দৃঢ়তার সাথে সাক্ষী দেবে যে সেই আমার প্রকৃত পিতা। কিন্তু এটাকেও চুড়ান্ত সত্য বলে মানা যাবে না। কিন্তু যদি দেখা যায় , আমার চেহারা ,দৈহিক গড়ন , আচার আচরনে আমার বাবার কিছুটা ছাপ আছে তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে , যাকে আমি বাবা ডাকি সেইই আমার প্রকৃত বাবা। অন্য কেউ আমার জন্মদাতা হলে , এরকম কখনই ঘটত না। কারন বিষয়টা জেনেটিক্যাল ও বিজ্ঞান নির্ভর।

৪। যাকে আমি বাবা ডাকি , সে যে আমার প্রকৃত বাবা কি না , তা প্রমানের জন্যে বর্তমানে আমাদের হাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যমান। অতীতে হয়ত ছিল না। আর সেটা হলো ডি এন এ প্রযুক্তি। যদি দেখা যায় , আমার বাবার ডি এন এ এর সাথে আমার ডি এন এ – এর প্রায় হুবহু মিল আছে , তাহলে সেই ডি এন এ প্রযুক্তিই বলে দেবে যে সে আমার প্রকৃত বাবা কি না। আর সেটা ১০০% সঠিক । তার অর্থ এখানে প্রথম সাক্ষী আমার মা , ডাক্তার বা ধাত্রী , দ্বিতীয় সাক্ষী আমার বাবা , আর তৃতীয় সাক্ষী হলো ডি এন এ টেস্ট। যার অর্থ বহু সাক্ষী। অর্থৎ কেউ যদি নিশ্চিতভাবেই জানতে চায় যে যাদেরকে সে মা বাবা হিসাবে চেনে তারাই তার প্রকৃত জন্মদাতা কি না , তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১০০% নিশ্চিত হতে পারবে।

পক্ষান্তরে , আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা যে আছে তার প্রমান কি ? উত্তর হলো – কোন প্রমান নেই , একমাত্র বিশ্বাস ছাড়া। ধরে নেয়া যাক , সৃষ্টিকর্তা আছে , যাকে আমরা এখনও আবিস্কার করতে পরি নি বা জানতে পারিনি। এখন সৃষ্টিকর্তা থাকলেই কি মুহাম্মদ নবী হয়ে যাবে ? দু:খজনকভাবে দেখা যায় , অনেক মুমিনরা বুদ্ধি ও যুক্তিতে এতটাই প্রতিবন্ধি যে , তারা মনে করে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব মেনে নিলেই মুহাম্মদকে নবী হিসাবে প্রমান করা হয়ে যায়।

আচ্ছা , মুহাম্মদ যে নবী , তার প্রমান কি ? তার প্রমান হলো প্রথমত: কোরানে দাবী করা হয়েছে মুহাম্মদ একজন নবী। কোরান কি ? কোরান হলো সৃষ্টিকর্তার বানী। কোরান যে সৃষ্টিকর্তার বানী কে সেটা দাবী করেছে ? মুহাম্মদ নিজেই সেটা দাবী করেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে : : মুহাম্মদ হলো নবী = কোরান দাবী করেছে = কোরান আল্লাহর/সৃষ্টিকর্তার বানী= মুহাম্মদ দাবী করেছে কোরান সৃষ্টিকর্তার বানী= মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করেছে।

অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করা যায় , ৯৯% মুমিনই বিষয়টা ধরতে পারে না যে , কোরানে মুহাম্মদকে নবী দাবী আসলে মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করেছে। এখানে মুহাম্মদের কোনই দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। আমার মা বাবা যে প্রকৃতই আমার মা বাবা , তার যেমন দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাক্ষী আছে , মুহাম্মদ যে নবী , তার প্রথম সাক্ষী ধরে নিলাম ,মুহাম্মদ নিজে বা কোরান , কিন্তু তার কোনই দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। এবার প্রশ্ন হলো , মুহাম্মদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সাক্ষীটা কি বা কারা ?

মুহাম্মদ বা তার কোরান প্রথম সাক্ষী। দ্বিতীয় সাক্ষী হবে , প্রত্যক্ষদর্শী যারা দেখেছে ৬০০ ডানাবিশিস্ট জিব্রাইল নামের কথিত ফেরেস্তা মুহাম্মদের কাছে নিয়মিত আসা যাওয়া করত ও আল্লাহর বানী দিয়ে যেত। মুহাম্মদের তো অনেক সাহাবী ছিল। হাদিস বা সিরাতের কোথাও কি বলা আছে যে তার কোন সাহাবি কখনও ৬০০ ডানাবিশিষ্ট জিব্রাইলকে মুহাম্মদের কাছে আসতে দেখেছে ? না, কেউ কখনও তা দেখে নাই। সুতরাং মুহাম্মদের কোনই দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। তাহলে দ্বিতীয় সাক্ষী ছাড়া কিভাবে প্রমানিত হবে মুহাম্মদ নবী ? আচ্ছা দুনিয়ার কোন আদালতে , দ্বিতীয় সাক্ষী ছাড়া কোন বিচার হয় ? ধরা যাক , কোন চুরির কেসে আমি আসামী হলাম। বিচারক আমাকে জিজ্ঞেস করল – কথিত চুরির সময় আমি কোথায় ছিলাম ? এখানে প্রথম সাক্ষী হিসাবে আমি বললাম – তখন আমি পাশের গ্রামের মামাবাড়ীতে ছিলাম। বিচারক কি সেটা মেনে নেবে ? না মেনে নেবে না। তখন আমাকে দ্বিতীয় সাক্ষী হাজির করতে হবে , অর্থাৎ মামা বাড়ী বা তার আশপাশের দুই একজনকে আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে তাদের সাক্ষ্য দিয়ে বলাতে হবে, চুরি ঘটনার দিনে আমি মামাবাড়ীতেই ছিলাম। আর তখনই বিচারক আমার প্রথম সাক্ষীকে আমলে নিয়ে গ্রহন করবে। অন্যথায় আমার একার সাক্ষী তথা প্রথম সাক্ষী গ্রহনযোগ্য নয়।

মুহাম্মদ যে নবী , সে নিজে ছাড়া আর কোন দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। তাহলে কি কারনে মুহাম্মদকে আমরা নবী মানব?

চতুর মুহাম্মদ সেটা খুব ভালভাবেই জানত। ঠিক সেই কারনেই , সে কোরান ও হাদিসে বলেছে কোরান নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। কোরানের মধ্যেই বলা আছে মুহাম্মদ নবী , তার অর্থ মুহাম্মদ যে নবী সেটা নিয়েও প্রশ্ন করা যাবে না। সে জানত , এসব নিয়ে প্রশ্ন করলেই তার জারিজুরি সব ফাঁস হয়ে যাবে। একই সাথে মুহাম্মদ তার কোরান ও হাদিসে বলেছে যারাই কোরান বিশ্বাস করবে না , তারাই অবিশ্বাসী আর তাদের বিরুদ্ধে কোন কারন ছাড়াই যুদ্ধ করে যেতে হবে , তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে হত্যা করতে হবে। কারনটাও বোধগম্য। যারা ইসলাম ত্যাগ করবে , তাদের সোজা শাস্তি হলো কল্লা কাটা । এটাও কিন্তু বোঝা সহজ। কারন ইসলাম ত্যাগীরা মুহাম্মদের এসব জারি জুরি জেনে গেছে । জেনে গেছে বলেই তো তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে। মুহাম্মদের ভয় ছিল , তারা তার জারি জুরি বাইরে ফাঁস করে দিতে পারে। তাই তাদেরকে কোন প্রশ্ন ছাড়াই হত্যা করতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “যাদেরকে আমি মা-বাবা ডাকি , তারাই যে আমার প্রকৃত জন্মদাতা , সেটা কি আমি নিশ্চিত ?

  1. সহমত পোষণ করছি এবং এ
    সহমত পোষণ করছি এবং এ সংক্রান্ত আমার লেখা তুলে ধরছি যা আপনার চিন্তার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে
    কে আমার পিতা তা না দেখে বিশ্বাস করলে ধর্মে না দেখে বিশ্বাস করতে সমস্যা কেন?
    ধর্মে বিশ্বাস আর জন্মদাতায় বিশ্বাস এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্ষ আছে।

    প্রথমত: জন্মের পর থেকে যাকে পিতা হিসাবে জানি, তিনিই যে আমার সত্যিই পিতা তার পক্ষে প্রমান হল:
    ১. মিথ্যা পিতার মনে সন্তানের প্রতি অগাধ ভালবাসা থাকে না
    ২. মিথ্যা পিতা হলে, তা যতই গোপন করা হোক না কেন সে বিষয়ে কম-বেশি কানাঘুষা হয় যা পিতা সম্পর্কে সন্দেহের সুযোগ করে দেয়। যখন সন্দেহের অবকাশ থাকে তখন যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্ন আসে। আপনি যাকে পিতা হিসাবে তার সম্পর্কে কানাঘুষা হলে আপনি নিশ্চয়ই মনে মনে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের ব্যপারে উদ্যেগি হতেন।
    সাধারণত: সত্য পিতার ব্যপারে এরুপ কানা-ঘুষা হয় না তাই যাচাই ছাড়াই বিশ্বাস করা হয়।
    ৩. পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্ম আছে। সবাই নিজেদের সঠিক আর অপরকে বেঠিক বলে। কিন্তু পিতার ক্ষেত্রে হাজার হাজার মানুষ এসে দাবি করে না যে আমি তোমার পিতা।তাই অনুসন্ধানের প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া যদি এমন ঘটেই যায় যে আমি যাকে আমার পিতা বলে বিশ্বাস করি সত্যিকার অর্থে তিনি আমার পিতা নন, তাহলে এতে আমার কিইবা ক্ষতি আছে?
    ৪. যে বিষয়টি যতবড় গুরুতর তা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ততবড় প্রমানের প্রয়োজন পড়ে।যেমন ধরুন-একজন হাতে একটি বই নিয়ে বলল যে এ বইটি আমি লিখেছি, আপনি সামান্য কিছু পর্যালোচনা বা চিন্তা করে হয়ত বিশ্বাস করবেন বা অবিশ্বাস করবেন। আপনার এ বিশ্বাস/অবিশ্বাস কারো কিছু যায় আসে না। আপনি এ ধরনের কিছু বিশ্বাস করতে খুব বেশি যাচাই-বাছাইয়ে যাবেন না, কারন আপনি জানেন যে উক্ত লোক উক্ত বইয়ের লেখক হিসাবে আপনি বিশ্বাস করলেই আপনার কোন লাভ/ক্ষতি নেই বা অবিশ্বাস করলেও কোন লাভ/ক্ষতি নেই।

    কিন্তু বিষয়টি যদি এমন গুরুতর হয় যে উক্ত বই আপনার জীবন নিয়ে কথা বলার দাবি রাখে, উক্ত বইয়ে বিশ্বাস না করলে আপনার জীবনের বারোটা বাজার সম্ভাবনা আছে, তাহলে কি আপনি বিষয়টিকে এত সাধারণভাবে নিবেন? নিশ্চয়ই তা গভীরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি রাখে, নয় কি?
    ধর্ম মানুষের জীবন নিয়ে কথা বলার দাবি করে। ধর্ম না মানলে পরজগতে কঠিন শাস্তির দাবি করে। বিষয়টি গুরুতর, তাই তা সম্মকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি রাখে। ধর্মের কারনে লক্ষ লক্ষ অর্থ ব্যয় হয়, এমনকি জিহাদের জন্য নিজ জীবন উৎসর্গের দাবি রাখে। সুতরাং ধর্মটা যদি মানবরচিত হয় তাহলে সব মিথ্যা আশায় জীবনটা ব্যয় করা পাগলামি ও বোকামি বৈ কিছু নয়। তাই আগে ধর্ম মানব রচিত নাকি স্রষ্টা প্রদত্ত তা যাচাই বাছাই করে মানাই বুদ্ধিমত্তার কাজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 5