নান্দনিক রূপে ঐতিহ্যবাহী ক্বীন ব্রিজ

ক্বীন ব্রিজটির ইতিহাস অনেক পুরাতন। ব্রিটিশ আমল থেকে এই ব্রিজটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার নীরব সাক্ষী। সিলেট সার্কিট হাউজের পাশে বলে দৃষ্টিনন্দন এই ব্রিজের গুরুত্বও অনেক। এই ব্রিজের ওপর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ূব খানকে জুতা ছুঁড়ে মেরে ছাত্র জনতা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৩৬ সালে আসামের গভর্নর মাইকেল ক্বীনের নামে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর উপর এই ব্রিজটি নির্মিত হয়। দিনের আলোয় ব্রিজটি দৃষ্টি কাড়লেও রাতের আঁধারে থাকতো। অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে। তাছাড়া রাতের বেলা ব্রিজের উপর ছিনতাইয়ের শিকার হত পথচারীরা। এ অবস্থার নিরসন ও পর্যটন শহর সিলেটের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিতেই ঐতিহাসিক এই ব্রিজটিকে আলো-ঝলমলে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। ব্রিজ সংলগ্ন সুরমা নদীর উভয় তীরে ‘নগর বিউটিফিকেশনে’র আওতায় ওয়াকিংওয়েসহ মিনি পার্ক গড়ে তুলেছে। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরবাসী এখানে ভিড় করেন। শহরের ভিতরে এই স্থানটি বিনোদনের জন্য অনেকটাই নিরাপদ। ক্বীন ব্রিজের উপর নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি পুল। পুরনো ৩২টি পুলসহ ৫৬টি এলইডি বাল্ব লাগানো হচ্ছে। এলইডি বাল্ব ব্যবহারের মাধ্যমে এরই মধ্যে ব্রিজ ও এর আশ-পাশ এলাকা রাতেরবেলা আলো ঝলমল করছে। সুরমা নদীর পানিতে আলোর প্রতিবিম্ব আরো মোহনীয় হয়ে উঠে। পর্যটন এই শহরকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই আর বলতে চাই সিলেট নগরী সত্যিকার অর্থেই যেন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “নান্দনিক রূপে ঐতিহ্যবাহী ক্বীন ব্রিজ

  1. পর্যটন এই শহরকে নতুনভাবে
    পর্যটন এই শহরকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই আর বলতে চাই সিলেট নগরী সত্যিকার অর্থেই যেন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 9 =