ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে….

পৃথিবীতে মাত্র দুইটি দেশ আছে,যারা স্বাধীন হবার আগে নিজেদেরকে স্বাধীন বলে ঘোষণা দিয়েছে।
একটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অপরটি আমাদের বাংলাদেশ।

একসময় বাংলাদেশকে বলা হতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’!
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যানরী কিসিঞ্জারের দেয়া এই অপবাদ থেকে অনেক আগে এদেশ মুক্তি পেয়েছে।

যারা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলো আজ আমরা তাদের ‘তলা’ ঢেকে দিচ্ছি।
বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি যেদেশে পোশাক রপ্তানি করে, সেদেশ হল ঐ হ্যানরী কিসিঞ্জারের যুক্তরাষ্ট্রতে।

এইতো কয়েকবছর আগে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশী পোশাকের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, “Made in bangladeshi shirts are the best in the world”.
উগ্র জাতীয়তাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে যখন শপথগ্রহণ করেন তখন তাঁর পরনে ছিলো ‘Made in Bangladesh’ এর পোশাক।

২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিলের জার্সিতে ‘Made In Bangladesh’ লেখা দেখে গর্বে গা শিউরে উঠেছিলো।

একবার ম্যারাডোনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, “বাংলাদেশ নামে একটা দেশকে চিনেন? যেখানে আপনার অসংখ্য ভক্ত আছে।”
উত্তরে বলেছিলেন, চিনিনা।

মেসি ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার মাটিতে খেলা যাবার পর বলেছিলো, “আবারো বাংলাদেশে আসতে চাই।”

প্রায় ১৯০ বছর উপমহাদেশে শাসন করেছে ব্রিটিশরা।
আজ বাংলাদেশীরা তাদের পার্লামেন্টের এমপি হয়ে শাসন করছেন তাদের নির্বাচনী এলাকা।

এইতো ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্রিটিশদেরকে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় করে দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা ব্রিটেনের প্রায় সবগুলো সেক্টরে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তা দেখে অনেকেই মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে এদেশীয় বংশোদ্ভূত কেউ ইংরেজ সিংহাসনে (প্রধানমন্ত্রী) বসবে।

ব্রিকলেনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো স্থাপনা এবং রাস্তার নাম ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলায়ও লেখা।
ব্রিকলেনের মার্কেটগুলোকে কেউ কেউ আবার ঢাকার নিউমার্কেট বলে ভুল করেন।

বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটের সবগুলো ফরম্যাটে (টেস্ট, ওয়ানডে,টি-টোয়েন্টি) #১ অলরাউন্ডার হবার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের নায়নের মণি সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের পরিবারগুলোর পারিবারিক বন্ধনটা সবচেয়ে আকর্ষণিয়।
পৃথিবীর এমন কেনো দেশ নাই, যেদেশের পরিবারে একজন উপার্জন করেন আর বাকিরা তা ভোগ করেন।
বাংলাদেশের একজন উপার্জনক্রম একজন ব্যক্তির উপর কমপক্ষে ও ৭ জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।

আজ পৃথিবীর সবগুলো ভাষায় কথাবলা ভাষাভাষী লোকগুলো নিজেদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভাষাসচেতন হয়ে উঠার পেছনে স্মরণ করছে বাঙ্গালীদের ভাষাপ্রীতি।
একুশ শতকের প্রথমবর্ষে সমগ্র পৃথিবী একসাথে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার সাথে স্মরণ করেছে বাঙ্গালীদের বীরত্বগাথা কাহিনী।

সর্ববৃহৎ মানব পতাকা বানিয়ে এবং লাখো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছি আমরা।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্বমঞ্চের নায়কদের কথা বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয়:
→ বিশ্বসেরা অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা একাডেমী Khan Academy ‘র প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সালমান খান।
→Youtube এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম।
→বিজ্ঞান মহলে চমক সৃষ্টিকারী, ক্ষুদে আইনস্টাইন খ্যাত সুবর্ণ আইজ্যাক।

ক্রিকেটের বড় আসর বিশ্বকাপের সফল আয়োজক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।

কয়েকবছর আগে ধারণ করা একটা ভিডিও তে দেখেছিলাম ইউরোপের বিভিন্ন দেশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে,”বাংলাদেশ কে চিনেন?”
বেশিরভাগই না সূচক উত্তর দিয়েছেন।
এতসব অর্জনের পরও যদি তারা বাংলাদেশকে চিনতে না পারে,তবে তো সে ব্যর্থতার দায়ভার তাদের!

গতকাল(১৯ মার্চ) আবার টাইগাররা দেখিয়ে দিলো,ক্রিকেট মাঠে কেবল সিংহই থাকেনা,বাঘ ও থাকে।

ও পৃথিবী তোমায় জানাই..
………….স্বাগত এই দিনে।।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − = 33