নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিদিন

বিন্দু থেকেই সিন্ধু। কথাটি পাঠ্যবয়ের পাতায় যখন আমরা প্রথম পড়ি, তখন ঠিক কতখানি বুঝতে পারি তা ঠাওর করতে পারি যখন বাস্তব জীবনে এমন উদাহরণের সামনে পড়েছি বুঝতে শেখার পর থেকে। এমন অনেক উদাহরণের মাঝে আমি আপনার সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে। নাটক, সিনেমা দেখে অশ্রু ঝড়াননি এমন লোক খুব কম আছে এই পৃথিবীতে। যুদ্ধবিগ্রহ, সামাজিক অসংগতি, প্রেম ঘটিত ও মনস্তাত্ত্বিক এমন সব রচনা এমন কি এর নির্দেশক এবং অভিনয় শিল্পীদের সুনিপুণ কর্ম শৈলী নাটক কিংবা সিনেমাকে যেন জীবন্ত করে তোলে।


বিন্দু থেকেই সিন্ধু। কথাটি পাঠ্যবয়ের পাতায় যখন আমরা প্রথম পড়ি, তখন ঠিক কতখানি বুঝতে পারি তা ঠাওর করতে পারি যখন বাস্তব জীবনে এমন উদাহরণের সামনে পড়েছি বুঝতে শেখার পর থেকে। এমন অনেক উদাহরণের মাঝে আমি আপনার সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে। নাটক, সিনেমা দেখে অশ্রু ঝড়াননি এমন লোক খুব কম আছে এই পৃথিবীতে। যুদ্ধবিগ্রহ, সামাজিক অসংগতি, প্রেম ঘটিত ও মনস্তাত্ত্বিক এমন সব রচনা এমন কি এর নির্দেশক এবং অভিনয় শিল্পীদের সুনিপুণ কর্ম শৈলী নাটক কিংবা সিনেমাকে যেন জীবন্ত করে তোলে। একজন সাধারন সিনেমা পাগল মানুষ যেভাবে এটাকে গ্রহন করেন, একজন শিল্প বিশ্লেষক এর বিপরীত বটে। তিনি দেখেন গল্পের ধারা,গল্পের বার্তা,অভিনয় শিল্পীদের কারুকার্য, সিনেমার বাজেট সহ অনেক অভ্যন্তরীণ ব্যাপার গুলো। এই সব মিলিয়ে একজন সিনেমা বোদ্ধা একটি সিনেমা বা টেলিভিশন নাটককে বিশ্লেষণ করে থাকেন।

কিন্তু সাধারণ দর্শক কি দেখে? এই আমার কথাই বলি, ছোটবেলা টেলিভিশন নাটক আর সিনেমার প্রতি প্রচণ্ড পরিমান নেশা ছিলো বলা যায়। কোন সিনেমায় কোন নায়ক নাইকা, কোন ভিলেন, কোন গান, যে সিনেমায়ি দেখেছি সব আমার নখদর্পণে ছিলো। মুখে মুখে থাকতো সিনেমার গান আর নায়ক,ভিলেনের ডায়লোগ। স্কুলে বন্ধুদের আলোচনায় থাকতো ভিলেনদের কুকর্ম গুলো। আর যৌনতা নিয়ে ঠাট্টা। বলা যায় সিনেমা থেকেই যৌনতার সম্পর্কে হালকা পাতলা জানার হাতেখড়ি। শুধু আমার না। ছোটদের বেশীরভাগই সিনেমা থেকেই শেখে এটা। তবে এটা দোষের কিছু বলে মনে হয় না।

কিন্তু সবকিছুর যেমন একটা সীমা থাকা উচিৎ তা সিনেমায় থেকে। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা কিন্তু নয়? এতো গেলো যৌনতার কথা। কিন্তু নির্যাতন? বর্তমানে ধীরে ধীরে নাটক সিনেমায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের দৃশ্য। বিশেষ করে টেলিভিশন নাটক গুলোতে। মেগা সিরিয়াল গুলোতে এমন ভাবে এই নির্যাতনকে প্রকাশ করা হচ্ছে, যেন এটা কিছুই না,শুধু নাটক। আসলে কি এটা শুধুই নাটক? হ্যাঁ এটা শুধুই নাটক শুধু সেই সকল বোদ্ধাদের কাছে, যারা বিশ্লেষণ করেন। কিন্তু সাধারণ দর্শকের মনে কি ধরনের প্রভাব বিস্তার করছেন। কিভাবে তারা ঐ সকল নাটককে নিচ্ছেন মনস্তাত্ত্বিক ভাবে। সেটার বিশ্লেষণ কজন করেন তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েই যায়।

বাংলাদেশে ব্যপাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় কিছু টিভি সিরিয়াল। যার একাধিপত্য বিস্তার বলা চলে বাংলাদেশে। প্রতিটি সিরিয়ালে শুরুতে যত যাক যমক প্রেম কিংবা সামাজীকতা দিয়ে শুরু হয়। সময়ের ক্রমেই তা একই জায়গায় গিয়ে মিলিয়ে যায়। আর তা হলো নারী নির্যাতন কিংবা শিশু নির্যাতন, বহুবিবাহ, কিংবা প্রতারণার ফাঁদ। আর একবার শুরু হলে বছরের পর বছর চলতেই থাকে এই টিভি সিরিয়াল গুলো। এই সকল সিরিয়াল গুলো এমন ভাবেই প্রচার করা হয় যে, আকর্ষন রেখে পরবর্তী পর্বের জন্য চমক রেখে চলতি পর্ব শেষ করা হয়। মানুষ মাত্রই কৌতূহলী মন। তাই এক ধরনের নেশায় পড়ে যায় দর্শক। এবং এগুলোর একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিস্তার করে চলে মনের উপর। এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ খোঁজে। বাংলাদেশে প্রায়ই শোনা যায়। এই নাটকের নামে পোষাক বের হয়েছে, ঐ নাটকের নাইকার নামে পোশাক বের হয়েছে বাজার। বিভিন্ন বড় বড় সামাজিক কিংবা ধর্মীয় উৎসবের সময় সেই ফায়দা লুটে নিচ্ছে ব্যাবসায়ী মহল। উৎসবে পছন্দের সিরিয়ালের নাইকার নামে যে পোষাক বের হয়েছে তা না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে শিশু। সিরিয়াল দেখা নিয়ে পারিবারিক ঝামেলায় প্রান দিতে হয়েছে স্বামী কিংবা স্ত্রীকে। এমন সব ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় পত্র পত্রিকায়।

এই সকল ভারতীয় টিভি সিরিয়ালে দেখানো হচ্ছে কিভাবে কত কৌশলে একজন নারী বা একটি শিশুকে মানুষিক নির্যাতন করা যায়। আপনারা খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন কতগুলো নাটক শিশু শিল্পীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে। আর সেই শিশু শিল্পীর ভূমিকা কি নাটকে? লক্ষ্য করবেন কতগুলো নাটকে নারী শিল্পীর(নায়িকা) ভূমিকা কি ও কি বার্তা দিতে চাইছেন এই সকল নাটকের নির্মাতাগণ? কিছু নাটকের নাম না বললেই নয়।
১। পটল কুমার গান ওয়ালা
২। রাখি বন্ধন
৩। রেশম ঝাপি।
এ সহ আরো কিছু নাটক শিশু নির্যাতনকে সুনিপুণ ভাবে রপ্ত করাচ্ছে দর্শকদের। নারী নর্যাতন তো রয়েছেই।

আগেই বলেছি, সাধারন দর্শক কিভাবে নিচ্ছেন নাটক সিনেমা। তাই এই ধরনের টিভি সিরিয়াল নির্মাতা ও প্রযোজকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই। বিনোদন মানেই শুধু যদি হয় নারী ও শিশু নির্যাতনের কৌশল রপ্ত করানো। তাহলে সংস্কৃতির আদানপ্রদানকে অপসংস্কৃতি ছাড়া আর কিছু বলে অবিহিত করা যায় না। অচিরেই এই সকল নারী ও শিশু নির্যাতন কৌশলী বিনোদন বন্ধ করুন। নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে সমতার বার্তা নিয়ে আসার কথা। তা হবে এক বিশাল বৈসম্যবাদী বার্তা। আজকের এই বিন্দু বিন্দু বৈষম্য, নির্যাতনের বিনোদন বাস্তবে পরিনত হবে।

জানেন তো?
_ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল।
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − 61 =