প্রয়োজন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালে দেশে মোট বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার মেগাওয়াট, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এ জন্য আগামী ২৩ বছরে আরও ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থাপন করতে হবে প্রয়োজনীয় উৎপাদনকেন্দ্র। তবে বিপুল এই উৎপাদনের জন্য কোনো একক জ্বালানির প্রতি নির্ভর করা সমীচীন হবে না। জ্বালানির ধরন এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হিসেবে এ জন্য কয়লাকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। দেশে বড় বড় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হলেও জ্বালানি সংগ্রহে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে কোম্পানিগুলো। কারণ আপাতত দেশীয় কয়লা উত্তোলন না করে আমদানিকৃত জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সমস্যাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির পরিকল্পনা এবং নকশা প্রণয়ন বিভাগের প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহসান। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় কয়লার ব্যবহারের সংকট মোকাবেলায় কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজনীতা নিরুপিত হয়েছে ঐ গবেষণায়। গবেষণা পত্রের পরামর্শানুসারে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে কয়লা কিনে দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করলে পাওয়া যাবে আর্থিক সুবিধা, একই সঙ্গে কমে আসবে প্রশাসনিক ব্যয় ও জটিলতা। প্রতিদিন দেড় হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে ১৫ টন কয়লার দরকার হয়। বছরে এই কয়লার পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন টন। এভাবে ২০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে দৈনিক ২২০ টন কয়লা দরকার হয়। এভাবে বছরে কয়লার দরকার হবে ৮০ মিলিয়ন টন। বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানির জন্য বিশেষ বন্দর নির্মাণও প্রয়োজন। তবে সরকার ইতোমধ্যে দুটি কয়লাবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর একটি বন্দর নির্মিত হবে জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে, অন্যটি পায়রাবন্দরে। জ্বালানি সংগ্রহকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে। কেননা কেন্দ্রের সংরক্ষণ যথাযথভাবে করা হলে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন করতে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে কোনো কোনো সাবক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০ বছর ধরে উৎপাদনে আছে। যেখানে আমাদের এখানে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সময়সীমা বিবেচনা করা হচ্ছে মাত্র ২৫ বছর। দক্ষ তদারকিতে কেন্দ্রের উৎপাদনে থাকার সময়সীমা বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের দামও অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দূষণ প্রতিরোধ। এ জন্য ‘জিরো লিক্যুইড ডিসচার্জ’ এর উপর গুরুত্বারোপ করে সরকারের কঠোর নিয়মনীতি থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া কয়লা আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, পরিবহন, হ্যান্ডলিং এবং দেশের মধ্যে জ্বালানি পরিবহনের প্রতিও বিশেষ নজর দিতে হবে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগে আগামীতে দেশের কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ উৎপাদনে দূর হবে বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান সংকট – এটাই প্রত্যাশিত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − = 54