বিশ্ববিদ্যালয় না কিন্ডারগার্টেনঃ প্রসঙ্গ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম।

দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ড্রেসকোড এর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ড্রেসকোড মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বছরের ১ম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে লেখা হয়েছিলো, ও-তে ওড়না চাই। এই শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি ওড়নাকে মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে!

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, তারা মনে করেন না, এটা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ”আমি মনে করি যেটা ইভটেজিংয়ের জন্য উষ্কানীমূলক হতে পারে, সেটা হওয়া উচিৎ না!” মানে তিনি মনে করেন ওড়না না পড়া ইভটেজিংয়ের কারণ, তাই মেয়েদের ওড়না পড়তে হবে! এটা একজন উপাচার্যের বক্তব্য, যিনি কিনা আবার পিএসডি! এই রকম মন্তব্য আমরা ইভটেজারদের মুখেও শুনতে পাই। মাননীয় উপাচার্য মহাদয়ের কাছে থেকে আমার জানতে ইচ্ছে করছে, স্যার, হিজাব পড়া, বোরকা পড়া নারীরা যে ইভটেজিংয়ের শিকার হয়, তার কারণ কি?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা এমনিতেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বেশি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এর মাত্র আরও বেশি। র‍্যাগিংয়ের নামে, কিংবা অন্য নামে প্রতিনিয়ত তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এসবের দিকে নজর না দিয়ে, পোশাককে এর জন্য দায়ী করা নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

নারীদের ড্রেসকোডকে কেউ কেউ সমর্থনও করতে পারেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমি একে সমর্থন করি না। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আরোহনের উন্মুক্ত মঞ্চ। এখানে কোন প্রকার বিধি নিষেধ আরোপ করা কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় আঘাতের সামিল। তাছাড়া যে সকল কারণ দেখিয়ে এই ড্রেসকোডের বিধান, সেটাও আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। নারী নিপীড়নের জন্য তার পোষাক নয়, পুরুষের লোলুপ দৃষ্টিই দায়ী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে তারা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী নয়, অচিরেই এসকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা এটা বুঝতে পারবে এবং ড্রেসকোডের বিধান তুলে নিবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 31 = 33