ধর্মানুভূতি কারে কয়?

এই উপমহাদেশের লোকের ধর্মানুভূতি এত প্রবল কেন? বড় অদ্ভুত অদ্ভুত কারণে তাদের ধর্মানুভূতি খাড়া হয়, আবার কখনও কখনও কিছুতেই খাড়া হয় না। অনেকটা কিছু পুরুষের sexual appetite এর মত। কখনও অতীব সুন্দরী নারী দেখলেও তার যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগে না, আবার রাস্তাঘাটে জরিনা-ছখিনারে দেখলেই দাড়ায়ে যায়! মনোবিদরা বলছেন এর সাথে নারী পুরুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক নানা অনুষঙ্গ কাজ করে। আমার যেমন আমার থেকে লম্বা মেয়ে আমার যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগাতে পারে না। কিন্তু এমন যৌনাকাঙ্ক্ষা বা যৌনানুভূতি যতক্ষন না অন্যের ক্ষতি করছে, নির্দোষ হিসাবেই গৌণ হয়। তেমনি এ অঞ্চলের ধার্মিকগণের ধর্মানুভূতিও নির্দোষই থাকতো, যদি না তা অন্যের ক্ষতির কারণ হতো। আপনার ধর্মানুভূতি আঘাত পেলে, আপনি একটু বেশি কোরআন তেলোয়াত করে নিতেন বা একটু বেশি পূজা অর্চনা করে নিতেন তাহলে কতই না ভাল হতো! কিন্তু বাস্তবে তো তা হচ্ছে না। ইদানিং এই তথাকথিত ধর্মানুভূতি অনেক বেশি সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু কেন?

জানিনা কোন সমাজবিজ্ঞানী আগেই এসব বলেছে কিনা। তবে আমার খুবই মনে হয়, মানুষের তার নিজের ধর্মের প্রতি একদম আত্মবিশ্বাস নেই আজকাল। দিন যতই যাচ্ছে, ততই তা কমছে। ইহজাগতিক নানা কর্মকান্ড করতে তাকে তার ধর্ম বাঁধা দিচ্ছে। কিন্তু আশেপাশেই সে দেখছে নানা মানুষের নানা কর্মকান্ড, যা সে করতে পারছে না। এটা মুসলমানদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। এত বিধিনিষেধ অন্য কোন ধর্মে নেই। এই বাংলাদেশে যদি কোন লোককে বলা হয়, তুমি প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে ঐ গাছতলাতে গেলে এক কলস সোনার মোহর পাবা। এখন বলেন তো কতজন এ কথা তার পাড়া-প্রতিবেশিকে জানাবে? যদি বলাও হয় এটা তোমার দ্বায়িত্ব আরেকজনকে বলা? কিন্তু ধর্মের ব্যাপারে সে সাথে আরেক জনকে নেবার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমি শালা ধর্মকর্ম করবো আর তুমি গায়ে হাওয়া দিয়ে ঘুরে বেড়াবা!

আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করছি। এদেশের মুসলমানেরা ধর্মের বাহ্যিক ব্যাপারটা নিয়েই বেশি চিন্তিত। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো, নীতি নৈতিকতার ধার পাশ দিয়েও তারা যান না। সৎভাবে ব্যাবসা করলো কিনা, মানুষের সাথে কেমন ব্যবহার করে, সমাজে তার অবদানই বা কি- এগুলো ধার্মিকদের নিজেদের মধ্যে একদম অনুপস্থিত। আশেপাশের হুজুরগুলোর দিকে তাকায়ে দেখেন, সত্যতা পাবেন। অধিকাংশ হুজুর শ্রেণীর লোক কিন্তু কিছুই করে না। অনেকটা আগের ব্রাহ্মণদের মত। বয়ান দিয়ে বেড়াবে আর এর ওর বাসায় কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল এর নামে খেয়ে বেড়াবে। আর খুব বেশি গেলে ভুলভাল আরবী আর কোরআন পড়াবে। আমার পরিচিত একজন বড় চাকুরীজীবীর মেয়েকে বাসায় যেয়ে এক হুজুর আরবী পড়াতো। অতীব সুন্দরী মেয়েটা কেবল কলেজে উঠেছে। কিছুদিন পর থেকেই মেয়েটা আর পড়তে চাচ্ছিল না বিধায় হুজুরকে না করে দেয়া হয়। হুজুর তো নাছোড় বান্দা। সে নানা উছিলায় পড়াতে চায়। এমনকি কলেজে যাবার পথে নানা উছিলায় উত্যক্ত করাই শুরু করে। তাতেও কোন ফল না পেয়ে শেষে ঐ মেয়ের বাবা মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়! অথচ ৪০ বছরের হুজুরের কিন্তু বউ বাচ্চা আছে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান ব্যক্তি জীবনে এমনই অসৎ। তা সে দেওয়ানবাগীর কথাই বলেন আর মাসউদ সাহেবের কথাই বলেন। আর চরমনাই পীর কিম্বা হেফাজতের নেতাগুলা তো টাউট বাটপার। অথচ ধর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে যেয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় নৈতিকতার ব্যাপারটি! ধর্ম না থাকলে নাকি নৈতিকতা থাকবে না! কিন্তু একটা নৈতিকভাবে সৎ ধর্মীয়নেতা পাবেন না!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 4