ভুলে যাচ্ছি আমরা বাঙালী

আচ্ছা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন? রুমে বা গণরুমে একটু বেশি মশা বা ইলেক্ট্রেসিটি না থাকলে কেমন লাগে?
না ধরুন খুব গরম লাগলো।মনে হয় না যে কি ভার্সিটিতে আসলাম। এত কষ্ট?
ক্লাসে কিছু টিচার থাকে যারা দাঁড় অপমান করে এসাইনমেন্ট,টার্ম পেপার বা অন্য কিছুর জন্য।মনে হয় না যে কিসের বিশ্ববিদ্যালয়? কোনো স্বাধীনতা নেই? নিজের এখনো স্কুল কলেজের মত পড়তে হয়?
অনেক ফ্রেন্ডরা রুমে রাত করে ফিরে।৩ টা বা আরো পরে।যখন নক করে দরজায় তখন রাগ লাগে না? যে কি মানুষ রাতে অন্যদের বিরক্ত করে?
চিন্তা করে দেখলে ব্যাপারগুলো আরো সহজ।অনেকেই এখন রাত জাগি। চ্যাট,গেইম,ব্রাউজিং করি।ধরুন ফ্রেন্ডের গলার আওয়াজের বদলে বুটের আওয়াজ শুনলেন? কি করবেন?
ধরুন আজকে কেউ আর দরজায় টোকা দিলো না?লাথি মারতে শুরু করলো।কি করবেন তখন?
দরজা খোলার পর ব্রাশ ফায়ার করলো সবার উপর। কি করবেন?
বা আমিই কি করবো?
হাত বেঁধে আপনার ১০ টা বন্ধুকে ধরে নিয়ে গেল? গুলি করলো দাড় করিয়ে।আপনিও ঐ ১০ জনের একজন হলেন। কি করবেন?
বা আমিই হলে কি করতাম?
স্বাধীনতা,অধিকার? আজকে যা আছে আমাদের তা শুধু ঐ ২৫ই মার্চে নিহতদের জন্যই আছে।
২৬ই মার্চের শুভেচ্ছা হেন তেন দেখা শুরু হয়ে গেছে।
অথচ ভুলে যাই আজকে ২৫ই মার্চের নাম না জানা নিহতদের কথা।
নিজের পরিচয় ভুলে যাচ্ছি এই আর কি! সবে শুরু। কবে না নিজেকেই ভুলে যাবো।
এই কত শত স্ট্যাটাস, বিনম্র শ্রদ্ধা?আসলেই কতটুকু? নিজের অন্যের সবারটাই জানতে ইচ্ছা করে।
দেশপ্রেম,পতাকার রেকর্ড শুধু কি যেখানে প্রানের ভয় নেই সেখানেই দেখায় না?
আসলেই তাই।
নিজেই সিনেমা হলে মুভি দেখার আগে যে জাতীয় সংগীত হয় তখন দাঁড়াতে অনিচ্ছুক।মুভির জন্যই পাগল।ভাবিও না তার আগে যে নিজের দেশের জাতীয় সংগীত হচ্ছে তা পাওয়ার জন্য কত লক্ষ শহীদ হয়েছিল।
নির্মলেন্দু গুণের “স্বাধীনতা-এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো” কবিতাতে স্বাধীনতা শব্দটি পেয়েছিলাম ৭ই মার্চ।আর শব্দটা পূর্ণতা পেয়েছিল এই ২৫ই মার্চের জন্য।
ভুলে যাচ্ছি সব।
আমি আল আমিন, আমি বাঙালী সেটাও।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 4 =