বাংলাদেশের স্বাধীনতাঃ নতুন বোতলে পুরোনো মদ

বাংলাদেশ।যে দেশের স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে।জনগনের অংশগ্রহণে এই যুদ্ধ সর্বাত্মক জনগনের মুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত না হলেও জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কখন শুরু হয়েছে কে শুরু করেছে এটা নিয়ে শাসক দলগুলোর খুব মাথাব্যথা রয়েছে।নয়া পরাধীনতার বাংলাদেশের ৪৭ বছর কেটে গেলেও জনগনের কোন ধরনের স্বাধীনতা অর্জিত হয় নি।পাকিস্তান আমলে বা তারও আগে ব্রিটিশ রাজত্বে জনগনের উপর যে নিপীড়ন চলতো তা থামে নি।এখনো চলছে ধারাবাহিকভাবে।৭১ সালে পাক বাহিনী আমাদের মা বোন দের ধর্ষণ করেছে,হত্যা করেছে।কিন্তু তথাকথিত স্বাধীন দেশে তনুরা “স্বাধীন” সেনাবাহিনীর সেনানিবাসে ধর্ষনের স্বীকার হয়ে মারা যায় তার কোন বিচার এখানে হয় না।১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এখানে ধর্ষণের মহোৎসব চলে।এটাই স্বাধীনতার প্রাপ্তি।
যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন বলেন তারা আমকে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

১।বাংলাদেশের জনগনের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হয়েছে কি?
২। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে?
৩।কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়?
৪। এখানে ভূমির সংস্কার হয়েছে?
৫।কৃষক তার জমির অধিকার পেয়েছে?
৬।সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে, সীমান্তে প্রতিদিন ভারত আমাদের দেশের জনগনকে হত্যা করছে।কোন স্বাধীন দেশে এটা ঘটে?
৭।বাংলাদেশের সকল কাজে বিদেশীদের হস্তক্ষেপ আছে নাকি নাই?
৮।বাংলাদেশে ভারতের ভূমিকা কি?
৯।বাংলাদেশে আমেরিকা,রাশিয়া, চীনের ভূমিকা কি?
১০।বাংলাদেশে কারা যুদ্ধ করেছে এর কোন সঠিক ইতিহাস জনগনের সামনে আছে?
১১।বাংলাদেশের সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়া বন্ধ হয়েছে? আগে যা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হত?
১২।বাংলাদেশে মত প্রকাশের কোন স্বাধীনতা আছে?
১৩।বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পরিচালিত হয় কি স্বাধীনভাবে?
১৪।এখানকার সরকারগুলো বিদেশীদের স্বার্থ রক্ষা করে না?

এসব কিছুর উত্তর যদি আপনার কাছে ঠিকভাবে থাকে তাহলে সহজেই বোঝা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নি।বাংলাদেশের জনগন একটা আলাদা ভূখণ্ড পেলেও কোন ধরনের স্বাধীনত তারা পায় নি।স্বাধীনতার নামে এখানে যা বলা হয় তা হলে নয়াপরাধীনতা।১৯৭১ সালে এখানে নব্য দালাল রা ক্ষমতা দখল করেছে।আর এজন্যেই জনগনের মুক্তির সংগ্রাম এখনো চলোমান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =