বাংলাদেশ কি তবে একটি জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে?

?v=3″ width=”512″ />

প্রত্যেকটা হামলার পরেই অনেক মডারেট মুসলমান কিবোর্ড যোদ্ধা হিসেবে হাজির হয়ে যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে। ”ইসলাম শান্তির ধর্ম”, ” ইসলাম এইসব সাপোর্ট করেনা”, ”জঙ্গীরা মুসলিম নয়”, ” এগুলি ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র” ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে মাখিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ মনে করেন কোন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যেই এগুলি কোন সাজানো নাটক। এগুলি লিখে মনের শান্তিতে ইসলামকে রক্ষা করে ফেলেছেন ভেবে শান্তিতে ঘুমাতে যান। তবুও কোনভাবেই ধর্মের দোষ দেয়া যাবে না।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ কি তবে জঙ্গীদের নতুন টার্গেটে পরিনত হয়েছে? গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে চলছে জঙ্গীদের কর্মকাণ্ড। যা বাংলাদেশে এখন অবধি হয়নি, সেই আত্মঘাতী বোমা হামলাও হয়ে চলছে একের পর এক। চলছে পুলিশের উপর একের পর এক হামলা। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা জঙ্গীদের ভাষায় ” তাগুত” বাহিনীর উপরে চলছে হামলা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ। আইসিস এখন পর্যন্ত অনেকগুলি হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। দেশে আইসিসের কর্মকাণ্ড চলছে এটা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। বাংলাদেশে জঙ্গী তৎপরতা বেড়েই চলেছে। এমনকি বিয়ের মাধ্যমে জঙ্গী নিয়োগ চলছে বলে জানা যাচ্ছে। এরা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

?v=3″ width=”512″ />

প্রত্যেকটা হামলার পরেই অনেক মডারেট মুসলমান কিবোর্ড যোদ্ধা হিসেবে হাজির হয়ে যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে। ”ইসলাম শান্তির ধর্ম”, ” ইসলাম এইসব সাপোর্ট করেনা”, ”জঙ্গীরা মুসলিম নয়”, ” এগুলি ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র” ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে মাখিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ মনে করেন কোন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যেই এগুলি কোন সাজানো নাটক। এগুলি লিখে মনের শান্তিতে ইসলামকে রক্ষা করে ফেলেছেন ভেবে শান্তিতে ঘুমাতে যান। তবুও কোনভাবেই ধর্মের দোষ দেয়া যাবে না।

কালকে যদি ২ জন নাস্তিক, ”নাস্তিকতাই শ্রেষ্ঠ” বলে কোথাও আত্মঘাতী বোমা হামলা করে, তখন এই মুমিনরা কাকে দোষ দিবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

কিন্তু একজন নাস্তিক কোন ব্লগে ইসলাম নিয়ে কোথায় কি লিখল, সেটা খুজে বের করে পড়ে, ইস্লামানুনুভুতিতে আঘাত নিয়ে, চাপাতি ধার করতে করতে রাস্তায় গিয়ে ”নাস্তিকদের ফাঁসি চাই” চিৎকার করতে মোটেও কষ্ট হয়না। কিন্তু কাউকেই দেখা যায়না জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল করতে।

আমি গিয়েছিলাম একটি ইসলামিক চ্যাটরুমে। সেখানে নিজেকে মুসলিম সাজিয়ে কিছুক্ষন গল্প করে ইসলাম সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন শুরু করলাম। তারা ভেবেই নিল আমি একজন পাক্কা মুসলমান। তারপর শুরু করলাম জিহাদ বিষয়ক প্রশ্ন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, জিহাদ কি ফরজ। ওনারা বললেন ”হ্যা”। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই যে জঙ্গীরা বোমা হামলা করছে এটা কি ইসলাম সাপোর্ট করে? তারা বললেন, ”না”। সেই আয়াত নিয়ে আসলেন, ”যে একটা মানুষকে হত্যা করল, সে সারা পৃথিবীর মানুষ হত্যা করল”। আমি তখন জিজ্ঞাসা করলাম, ” এই যে ইসলামে জিহাদ নিয়ে ১০০ এর উপরে আয়াত আছে, মুহম্মদ নিজেও বিধর্মীদের হত্যা করেছেন, ইসলামের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে, ইসলামের জন্য শহীদ হতে বলেছেন। জিহাদীরা তো ইসলাম পালন করছে,তো এখানে সমস্যা কোথায়”?

ওনারা বললেন, ” নামাজ পড়ার সময় হয়ে গিয়েছে, পরে একদিন এসব নিয়ে আলোচনা হবে”।

কিন্তু জঙ্গী কি কেবল সশস্ত্র জঙ্গীরাই? ফেসবুকে ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গীদের অনেক সমর্থক দেখা যাচ্ছে যারা আপনার আমার মতই সাধারন মানুষ। কয়েকদিন আগে লন্ডনে যে জঙ্গী হামলা হয়েছে, বিভিন্ন কমেন্টে অনেককেই দেখা গেছে, জঙ্গীর জন্য দোয়া করতে, তাকে সাহসী বীর হিসেবে উপাধি দিতে। বাংলাদেশে একের পর এক জঙ্গী হামলার পরে অনেককেই দেখা গেছে এগুলো সব সরকারের সাজানো নাটক বলে দাবী করতে। অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গীকে না হয় দমন করা গেল, কিন্তু অস্ত্রবিহীন কত জঙ্গী আমাদের ভিতরেই অবস্থান করছে তাদেরকে কিভাবে দমন করবেন?

আমার সোনার বাংলা জঙ্গীদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, দিন দিন একটি জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমি চাইনা, আমার প্রিয় বাংলা আরেকটি পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানে পরিনত হোক। এখনি সময় এদের রুখে দাঁড়াবার।

মুক্তচিন্তার জয় হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 4