একজন মুসলমান জঙ্গি হতে পারেনা?

শুরুটা হয়েছিল রাজীব হায়দারকে হত্যার মধ্য দিয়ে। সেটা ২০১৩ সালের কথা। এর পর পর্যায়ক্রমে ঘটতে থাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যাকান্ড। ব্লগার, মুক্তচিন্তাবিদ, পুরোহিত, চার্চের ফাদার, স্কুল শিক্ষক; শেষ পর্যন্ত বাদ যায়নি মসজিদের ইমাম। তখন, অনেকেই যুক্তি দিয়েছে যে, ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলে এমনি হবে। তাদের হত্যা করা ঠিক বলেও অনেকে ফতোয়া দিয়েছেন।



শুরুটা হয়েছিল রাজীব হায়দারকে হত্যার মধ্য দিয়ে। সেটা ২০১৩ সালের কথা। এর পর পর্যায়ক্রমে ঘটতে থাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যাকান্ড। ব্লগার, মুক্তচিন্তাবিদ, পুরোহিত, চার্চের ফাদার, স্কুল শিক্ষক; শেষ পর্যন্ত বাদ যায়নি মসজিদের ইমাম। তখন, অনেকেই যুক্তি দিয়েছে যে, ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলে এমনি হবে। তাদের হত্যা করা ঠিক বলেও অনেকে ফতোয়া দিয়েছেন।



কিন্তু যখন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জমায়াতে হামলা হল, তখন তারা চুপ। নিজ ধর্মের মানুষকে হত্যার জন্য, স্বধর্মের মানুষেরা জিহাদি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার ১লা জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর “জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের” বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে। ততক্ষণে এই জঙ্গিবাদের সুপ্ত বীজ পরিপক্ব হয়ে গেছে, ফল দিতে শুরু করেছে। প্রশ্ন হল, রাজীব হায়দার, অনন্ত বিজয়, দ্বীপন, অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডের সময় চুপ ছিলেন কেন? তখন, কেন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়নি? আগাছা গুঁড়ি থেকে উপরে ফেলা উচিত ছিলনা কি? যখন দেয়ালে এসে গা লেগে যায়, তখন বুঝি প্রতিরোধের সময় হয়?

সিলেটের শিববাড়িতে অবস্থানরত জঙ্গিরা পুলিশকে বলছে; “তোমরা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে। ” কোথাও জঙ্গি হামলা হলে, “আল্লাহ আকবর ” বলে হুঙ্কার দেয়া হয়। তারা নিজেদের ইসলামের নামে জিহাদি বলে দাবি করে। কিন্তু, বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক সংগঠন; হেফাযতে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামায়ে কেরাম লীগ, চরমোনাই পীড়েরা চুপ। তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন বিবৃতি শোনা যায় না। তারা কখনো, এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু তারা এটা বলে যে, কোন মুসলিম জঙ্গি হতে পারে না। তাহলে প্রশ্ন হল, যারা জঙ্গিবাদ করে; তারা কি হিন্দু, খ্রিস্টান, বুদ্ধ কিংবা নাস্তিক? নিশ্চয়, উত্তর না আসবে। তাহলে, আসলে কি কোন মুসলিম জঙ্গি হতে পারেনা? আমি বলি শুধু মুসলিম কেন, সব ধর্মের মানুষই জঙ্গি হতে পারে। কিন্তু, একজন ভাল মানুষ কখনো জঙ্গি হতে পারেনা। সে সনাতন, ইসলাম, খ্রিস্টান, বুদ্ধ; যে ধর্মেরই হোক। ভাল মানুষ কখনো জঙ্গি হয় না। কখনো কোন নাস্তিককে দেখেছেন ছুঁড়ি নিয়ে কাউকে হামলা করতে? নিশ্চয় দেখেননি?

তবে, হিন্দু, মুসলিম উভয়কেই সন্ত্রাসী হামলায় যুক্ত থাকতে দেখা যায়। সে বাংলাদেশের মুসলিম বা ভারতের হিন্দু হোক না কেন।

এখন প্রশ্ন হল, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো চুপ কেন? তাদের দায়িত্ব কি শুধু সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য সরানো বা শহীদমিনারে ফুল দেয়াকে শিরক ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? তারা কি শুধু ভিন্ন ধর্মালম্বীর দোষ খোঁজায় ব্যস্ত? কেউ ধর্ম অবমাননা করল কিনা, সেই সুবাদে বাড়িঘরে আগুন লাগানোই তাদের কাজ?

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ কি ধর্ম অবমাননা নয়? আল্লাহ আকবর বলে হামলা করা কি ধর্ম অবমাননা নয়? হয়ত, এর উত্তর মিলবেনা, তাই এখন চুপ।

আপনি যদি প্রকৃতই মুসলিম হয়ে থাকেন, আপনার উচিত ধর্মের নামে সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করা। তা না হলে, আপনার সামনেই আপনার ধর্মের নিরপরাধ মানুষকে জঙ্গি বলে অপবাদ দেয়া হবে। তখন, কিছুই করার থাকবেনা। শুধু জঙ্গিবাদ নয়, যেকোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করুন, সবকিছুকে ধর্মের গন্ডিতে আবদ্ধ করে; নিজের চিন্তাভাবনা ছোট করে রাখবেন না।

একটা কথা মনে রাখবেন, একজন ভাল মানুষ হওয়ার জন্য ধার্মিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, ধার্মিক হতে হলে, আপনাকে ভাল মানুষ হতে হবে। কারণ, ধার্মিক ব্যক্তি ভাল মানুষ না হলে, সে তার ধর্মকে বলাৎকার করে দেয়।
একজন ধার্মিক জঙ্গি হলেও, একজন ভাল মানুষ কখনো জঙ্গি হয় না।

ভাল থাকুক পৃথিবীর সব ভাল মানুষ,
নিপাত যাক ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − = 40