প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সম্প্রতি দেশে কিশোর-তরুণদের নানা ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত জনপদের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। মাদক ব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নৈতিকতার স্খলনজনিত সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি জঙ্গিবাদেও জড়িয়ে পড়ছে তরুণরা। তরুণ প্রজন্মের এই ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা প্রশমনে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন প্রতিটি পরিবারের মায়েরা। সন্তানদের অপরাধ প্রবণতার বিষয়ে প্রতি প্রতিটি মায়ের সচেতনতার পাশাপাশি সতর্ক নজরদারী প্রয়োজন, আর সম্প্রতি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মায়েদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। তার এই আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কেননা প্রতিটি সন্তানের শিক্ষার শুরু পরিবার থেকে। তথাকথিত আধুনিকতার অন্ধ অনুসরণে পরিবারে আবেগ আর আন্তরিকতার ঘাটতি থাকায় এখন অনেক পরিবারের ছেলেমেয়েরাই একাকিত্বে ভোগে। হারিয়ে যেতে বসেছে আগের সেই সামাজিকতার বন্ধন, পরিবর্তন ঘটেছে মূল্যবোধের। এ ক্রান্তিকালে পরিবারের অভিভাবকরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সন্তানদের উপর তার প্রভাব পড়বেই। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, অপেক্ষাকৃত কমবয়সী ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সন্তানরাই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা না থাকাতে একাকিত্বের কারণেই তারা কোনো না কোনোভাবে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়েছে। এমনকি নারীদেরও দেখা যাচ্ছে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে। এখন সহয় হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে প্রতিটি পরিবারকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে মায়েদের এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে এদেশের মায়েদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। অনেক মাই মৃত্যুঝুঁকিকে উপেক্ষা করে তাঁদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন অনেক নারী। দেশ আবারও এক নতুন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এখন জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে মায়েদের নতুন করে ভূমিকা রাখতে হবে। কেননা পরিবারে মায়েদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাই সন্তানের লেখাপড়া ও মেলামেশার বিষয়ে মায়েদের আরও সচেতন হতে হবে, খোঁজখবর রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি পরিবারকে উঠতি বয়সের সন্তানদের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কিশোররা আর অপরাধ জগতের দিকে পা বাড়াবে না। সামাজিক অনুশাসন আগের মতো কার্যকর করে তুলতে হবে। পারিবারিক অনুশাসন ও পরিবারের সদস্যদের সঠিক দায়িত্ব পালন করে সন্তানদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দায়িত্ব শেষ করা নয়, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে জানতে হবে। কোনো সন্তান যেন অপরাধের পথে পা না বাড়ায় সে জন্য কুশলী গাইডের মতো তাকে পরিচালনা করতে হবে। প্রতিটি পরিবারে মায়েরা কার্যকর ভূমিকা নিলেই আর কোনো সন্তান অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েরা সন্তানদের যোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিলে জঙ্গিবাদের শিকড় উৎপাটন কঠিন হবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 − 8 =