ট্রেনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম

বিগত দিনে রেলের সেবার মান নিয়ে অনেকেই অনেক প্রশ্ন তুলতেন। কিন্তু ইদানিং সে কথা শোনা যাচ্ছে না। এমন এক সময় ছিল যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে একদিনের প্রস্তুতি নিতে হতো। সড়কের পথে পথে দুর্ঘটনা যানজটে নাকাল হতে হতো যাত্রীদের। এমন দিনও গেছে, রওয়ানা হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও চট্টগ্রাম পৌঁছানো যায়নি। আবার রেলপথ সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় এক ট্রেনকে লাইন ছাড়তে গিয়ে পথে পথে অন্য ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল নিত্যঘটনা। তবে এখন সে চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। ডাবল রেললাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতের সময় কমিয়েছে। পাঁচ থেকে সোয়া পাঁচ ঘণ্টাতেই এখন চট্টগ্রাম পৌঁছানো যাচ্ছে। শিগগিরই এই সময় চার ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কিছু অংশে ডাবল রেললাইন চালু হওয়ার পর থেকে রেলের গতি বেড়েছে। লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইনের কাজ শেষ হলে যাতায়াতে আরো কম সময় লাগবে। আবার ডাবল লাইনের কারণে আগের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যাও বেড়েছে। নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক কাজ শেষ হয়েছে, বেশকিছু কাজ শেষ হওয়ার পথে। ঢাকা-চট্টগ্রামের ৩৪৬ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি অংশ ডাবল লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। বেশকিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নও শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত অংশটির ডাবল লাইন সম্পন্ন হলে বিরতিহীন ট্রেনগুলো আরো কম সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করবে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলায় যুক্ত হওয়া নতুন লাল-সবুজ বগি নিয়ে অনেকেই খুশি। রেলের সেবার মান বেড়েছে। রেলে বিপুল বিনিয়োগের সুফল পেতে শুরু করেছে যাত্রীরা। রেলের সেবার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে সময়ের পার্থক্য কমাতে একদিকে যেমন যাত্রীরা উপকৃত হচ্ছে তেমনি যোগাযোগ খাতে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =