আপনার মধ্যে জঙ্গী হওয়ার উপাদান নেই তো!

কোথায় যে জঙ্গী লুকিয়ে আছে সে আপনি আমি ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারব না। তারা আসে আমাদের সামনে খুব স্বাভাবিক সাধারন মানুষের রুপে। যেমন এসেছিল আতিয়া মঞ্জিলে। সামান্য চাকরিজীবী , মাস শেষে বেতন পায়। এ আর এমন কী ক্ষতিকর! যখন বুঝতে পারলাম এ তো মহামারি আকার ধারণ করছে তখন হায় হায় করতে লাগলাম! খুব কমন প্রশ্ন কিন্তু এখন সবাই বলা বলি করছে, “ জঙ্গী চিনব কীভাবে”?

বেশ কঠিন প্রশ্ন! কাগজ পত্র দেখিয়েও যদি বাসা ভাড়া দেন তাহলেও সে জঙ্গী হবে না তার নিশ্চয়তা কী? অথবা ভাল একটা পরিবারের ভেতরেই যে জঙ্গী গড়ে উঠছে না সেটাও বুঝবো কীভাবে? চোখবাধা একটা সমাধানই চোখের সামনে আসে, “সরকারকেই নির্মুল করতে হবে”
কিন্তু সরকার ১২টা বেজে গেলেই কঠোর হয়, সময় থাকতে কঠোর হওয়ার পরিবর্তে বরং “শোধারানোর সুযোগ” দেওয়ার অঙ্গীকার করে। এখন সরকার যেহেতু খাল কেটে কুমির এনেছে সেহেতু নিশ্চয়ই আমরা কুমিরের সাথে বসবাস করবো না! তাহলে উপায়?

উপায় বের করার আগে নিজের দিকে একটু তাকাই আমরা। “জঙ্গী চাই না , জঙ্গী নির্মুল করো” বললেই নির্মুল হয়ে যায় না। আপনিও যে একদিন জঙ্গী হবেন না এটার নিশ্চয়তা কী? সেটার নিশ্চয়তা আপনার সহনশীলতা।

আমরা যারা জঙ্গী হচ্ছি না তারা কেন হচ্ছি না? এমন তো না যে যারা জঙ্গী না তারা সবাই নাস্তিক। বরং বন্ধু বান্ধব অনেকেই আস্তিক, ধর্ম মানে ও পালন ও করে , তারা কিন্তু জঙ্গী হচ্ছে না। কারণ তাদের সহনশীলতা। তারা তাদের নিজস্ব বিশ্বাস এবং চিন্তা নিয়ে আছে বলে অন্য কারো মন্তব্যে কিছু যায় আসে না। কোনো প্রতিক্রিয়া দেয় না, বা কাউকে বলতেও যায় না যে আমি যা মানি তোমাকেও তা মানতে হবে। বিশ্বাসে বাধ্যবাধকতা থাকে না।

#পরিবার থেকে কিন্তু জঙ্গীবাদের শিক্ষা দেওয়া হয় না! আদৌ কি দেওয়া হয় না? যেমন ধরুণ, কোথাও জঙ্গী হামলা হলে যদি আপনি বলে বসেন, “এগুলোর সাথে ধর্মের সম্পর্ক নেই, ধর্ম এগুলো করতে বলে নাই, বা এসব আদৌ নাটক কিনা” তখনই আপনি জঙ্গী হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেন, এবং আপনার পরিবারকে উৎসাহী করেন জঙ্গীবাদে। এমন চিন্তাকারীকে খুব সহজেই জঙ্গীবাদে আশক্ত করা যায় সামান্য একটু ব্রেন ওয়াশ করলেই। জঙ্গীরা কিন্তু মায়ের পেট থেকে জঙ্গী হয়ে আসে না। তাদের বানানো হয়। আপনার এমন মন্তব্য , কর্মকান্ড খুব পরোক্ষ ভাবে সহয়তা করছে।

#আপনার ধর্ম নিয়ে কেউ কিছু বললেই যদি আপনি উত্তেজিত হয়ে যান তার মানে আপনি ভবিষ্যৎ জঙ্গী হুওয়ার লাইনে আছেন। আমার এক আত্নীয়র সামনে একবার সৌদি আরবের গীবত গাইছিলাম, সে এমনই রেগে গেলো যে গাড়ি থেকেই বের হয়ে গেলো, এবং আমাকে ফেসবুকে ব্লক মারলো। এটুকু সমালোচনা সে সহ্য করতে পারে নাই। আমি ভয়ে আছি হয়ত কোনোদিন আমাকে রাগের বশে কোপায় ফেলবে। এমন মানুষ ধর্ম নিয়ে এতই সেনসেটিভ যে তারা ভাই বোন বাবা মা কিছুই দেখে না। বা দেখার মত মানশিকতা তাদের লুপ্ত হয়ে গেছে।

#লুপ্ত হলো কীভাবে? সঙ্গ দোষে। স্কুল শেষ করে সে যখন কলেজে উঠে তখন কিছু মানুশের সাথে মিশে যারা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে নসিয়ত দিত। এত টুকুন ছেলে সারাদিন ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকে। খেলা নেই আড্ডা নেই, একাডেমিক পড়া নেই। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে তার বাবা মা বাইরে পাঠিয়ে দেয় পড়াশুনার জন্য। কিন্তু সেই ব্রেন ওয়াশ তার রয়েই গেছে। সেজন্য সামান্য কথাও সে এখনো সহ্য করতে পারে না।

#এই বাবা মার মত আপনাদের কিন্তু আপনার সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে। ধর্ম বই নিয়ে মেতে আছে মানেই সে যে ভাল পথে আছে এমন ভাবা মানে ভুল ভাবা। মনে রাখবেন উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা খুবই নাজুক, যে যেমন বুঝায় সে তেমনই বুঝে। পাশাপাশি আড্ডা দেওয়া , অন্যান্য কাজ করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এই স্বাভাবিক ব্যাপার বাদ দেওয়া মানে সেখানে একটা “কিন্তু” আছে। কিন্তুর উৎস খুজে বের করুন। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনুন। নইলে এই সব জঙ্গীদের পরিবারের মত লাশ নিতে অস্বীকার জানাতে হতে পারে। খুব বেশি কিছু না, কাদের সাথে মেলামেশা করছে সে বিষয়ে একটু সজাগ থাকলেই সন্তানকে অকালে হারাতে হবে না।

#ধর্মীয় শিক্ষা কি দিবো না? আপনার ইচ্ছে হলে অবশ্যই দিবেন। তবে উগ্রতা নয়। আমার বাবা মা যে আমাকে ছোট বেলা থেকেই নাস্তিক বানিয়েছে তা কিন্তু নয়। তারা তাদের মত যা করার করে গেছে। কিন্তু কখনো বলে নি “তোমাকে মানতেই হবে” “ না মানলে জাহান্নামে যাবে”। মোটকথা আমাকে আমার মত থাকতে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা তাদের ধর্ম পালন করছে। ঠিক এমনই হওয়া উচিত আপনাদের ধর্ম শিক্ষা। যদি আপনি আস্তিক হন, তবে আপনি সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দিন, কিন্তু তাদের এই শিক্ষা দিবেন না যে এটা না মানলে খারাপ হয়ে যাবে, দোজগে যাবে ইত্যাদি। অথবা অন্যের ধর্ম ছোট , খারাপ, আমাদেরটা ভাল এমন বৈষম্য মুলক শিক্ষা দেওয়া থেকে দূরে থাকুন। অন্যের চিন্তার উপর নিজের ধর্মের বিশ্বাস যেন ক্ষত বিক্ষত না হয়; শিক্ষা দিলে এমনশিক্ষাই দিন। কারো কথা, মন্তব্যে যেন খুনি হতে উৎসাহি যেন না করে।

#যারা বলে বেড়ান এসবের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই এবং যারা ধর্মের সমালোচনায় আহত হন এবং ইনিয়ে বিনিয়ে লেখক হত্যাকারীদের সাপোর্ট দেন তারা কেন জঙ্গীদের বিরুদ্ধেও লাগেন না? লেখকরা শুধু লিখেই সমালোচনা করে , জঙ্গীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছে । অথচ আপনারা খুনিদের বিরুদ্ধে শুধু এক লাইন “সম্পর্ক নেই” বলেই দূরবর্তী অবস্থা নেন। যদি অনুভূতি সত্য আহত হয়’ই তবে ধর্ম ব্যবহার করে খুন করা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন। কলমের আঘাতে যে অনুভূতি এতই উত্তেজিত হয় সেই অনুভূতি জঙ্গীদের বোমায় নিস্তেজ থাকে কী করে?

কালে ভদ্রে নয় এখন অহরহ জঙ্গী কার্যক্রম হচ্ছে। সরকারের উপর দায় তো চাপাবেনই কিন্তু নিজের দিকেও একটু নজর দিবেন। সচেতন হোন, নিজের মধ্য থেকে জঙ্গী হওয়ার উপাদান দূর করুন, পাশাপাশি সন্তানদের মধ্য থেকেও দূর করেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

96 − = 89