বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এপ্রিলে উৎপাদনে যাচ্ছে শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্র

আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক উৎপাদনে যাচ্ছে শিকলবাহায় নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নতুন করে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। গ্যাস দিয়ে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। এতে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। নতুন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডুয়েল, ফুয়েল ও কম্বাইন্ড সুবিধা থাকায় দেশের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। জিওবি, পিডিবি ও বৈদেশিক যৌথ অর্থায়নে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কমিশনিং কার্যক্রম শেষে জার্মানির প্রকৌশলীরা একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। উল্লেখ্য, ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে ১৫ টাকা। আর গ্যাসের মাধ্যমে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়ে ২ থেকে সোয়া ২ টাকা। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পাড়া হিসেবে খ্যাত কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে শিকলবাহা এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নির্মিত আরো তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। গত ২০১২ সালে সরকারিভাবে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যন্ত্রপাতি জার্মানি থেকে আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের তৈরি যন্ত্রপাতিও রয়েছে। ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হবে ডুয়েল ও ফুয়েল দিয়ে। পরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত জ্বালানি পুড়িয়ে উৎপাদিত হবে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে শুরুতে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আর ৭৫ মেগাওয়াটের উৎপাদনের ইউনিটটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে আরো ৬/৭ মাস সময় লাগবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিজেল মজুদের জন্য ২টি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্যাংকে ৫০ লাখ লিটার করে ১ কোটি লিটার ডিজেল মজুদ করা সম্ভব হবে। এসব ডিজেল দিয়ে অন্তত এক মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ রুপে চালু হলে দেশের বিদ্যুতের যে চাহিদা তা অনেকাংশে পূরণ হবে বলে আশা করা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এপ্রিলে উৎপাদনে যাচ্ছে শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্র

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =