জঙ্গিবাদের লড়াইয়ে বাংলাদেশে চারটি ফ্রন্ট: একটি আপাত দর্শন



হাইপোথিসিস বৈজ্ঞানিক সত্য হিসাবে প্রমাণিত হতেও পারে, নাও পারে। তবে হাইপোথিসিস তৈরি হবার পেছনে শক্ত কারণ থাকলে সত্য হবার সম্ভাবনাও প্রকট। এরকম একটা সম্ভাবনাময় হাইপোথিসিস আপনাদের জন্যে:

অবস্থাদৃষ্টে প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠতে যাচ্ছে যে জঙ্গিবাদের লড়াইয়ে বাংলাদেশে চারটি ফ্রন্ট তৈরি হচ্ছে:

এক. ‘সব থেকে খাঁটি’ ইসলামের অনুসারি বলে দাবিদার সুন্নী মতাদর্শী আহলে হাদিসের নেতৃত্বে জমিয়ত, শুব্বান, আনসারুল্লাহ সহ সমমনা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রায় দুই ডজন দল। এদের জঙ্গীবাদী দৃষ্টিভঙ্গী প্রথম থেকেই প্রকট এবং আদ্দিকাল থেকেই সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। আইসিসের সাথে নিবিড় যোগাযোগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আফগান, ইরাক ও সিরিয়া ফেরত আইসিসরা এদের আদর্শের সাথে সব থেকে বেশি খাপ খাইয়ে নিতে পারবে বলে ব্যক্তিগত আশঙ্কা। জামাত এদের আদর্শগত শত্রু ছিলো, এখন এ ব্যাপারে অনেকটা উদার। এদের টার্গেট র্যাব, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সাধারণ মানুষের সমাগমস্থল এবং পীরবাদী মুসলমান সহ অন্যান্য সামান্য মতপার্থক্যের মুসলমান সাধারণ জনগোষ্ঠী । অস্ত্র ও টাকা পাবে মধ্যপ্রাচ্য ও ***।

দুই: চরমনাইের পীর, শফি হুজুর এবং আরও ওরকম অর্ধশতাধিক দল। এরা অনেকেই সুন্নী মতাদর্শী হানাফি মতাবলম্বী এবং ভারতবর্ষের অন্যান্য পীরদের সাথে শক্ত যোগাযোগ। কওমি মাদ্রাসাগুলোর বড় অংশ এদের দখলে। মধ্যপ্রাচ্যে এবং সৌদি আরবের সাথে শক্ত যোগাযোগ। বাংলাদেশি মুসলমানদের ভেতরে সংখ্যায় এরা বেশি। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বিদেশী এবং বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক শ্রমিকদের কাছে এরা খুব শ্রদ্ধেয়। আইসিস ফেরত যোদ্ধাদের এদের সাথে মিশে যুদ্ধ করতে খুব একটা অসুবিধা হবার কথা নয়। অস্ত্র ও টাকা পাবে মধ্যপ্রাচ্য, স্থানীয় জনগন ও ***। এদের টার্গেট থাকবে র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, বিয়ে, জনসভা, আওয়ামিলীগ, বাম, মুক্তমনা সহ বিভিন্ন ইসলামিক মতপার্থক্যের গোষ্ঠীগুলো।

তিন: আওয়ামিলীগের নেতৃত্বে সরকারী পুলিশ, মিলিটারি সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আপাতদৃষ্টিতে আওয়ামিলীগ ২০১৯ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আবারো আসছে এবং রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জঙ্গী দমনের কাজে ব্যাবহার করবে। ক্ষমতায় থাকার কারনে সরাসরি যুদ্ধের ডাক এরা দিতে পারবে না। তবে অনেক ফ্রন্টের টার্গেটে পরিনত হওয়ায় অস্ত্র হাতে এদের নিতেই হবে। শত্রু থাকবে উপরের দুই জঙ্গী এবং মুক্তমনা উভয়। ভারত, রাশিয়া সহ অনেক দেশের দেশের সক্রিয় সমর্থন এবং আর্থিক, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা পাবে। পাকিস্তান যেমন পায় আর কি!

চতুর্থ দল হিসাবে থাকছে তথাকথিত বাম সমর্থিত ইদানিং ‘মুক্তমনা’ উপাধীখ্যাত ডজনখানেক ক্ষুদ্র রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি। এরা খুবই জনবিচ্ছিন্ন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক। বেশ বড় রকম রাশিয়া সহ পশ্চিমা সমর্থন এদের দিকে থাকলেও একতাবদ্ধ না হতে পারার দরুণ সমর্থনটি কাজে লাগাতে পারবে না। স্থানীয়ভাবে সংগঠিত হবার জন্য দল গঠন হয়তো করতে পারবে কিন্তু কারো নেতৃত্ব মেনে শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারবে না। এরা উপরের তিন পক্ষের জন্য সব থেকে সহজ টার্গেট। আক্রমন বা প্রতিরক্ষা কোন ক্ষমতাই এদের থাকছে না। দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারত বা পশ্চিমে পাড়ি দিতে শুরু করেছে ২০১৩ সাল থেকেই, সেটা বাড়বে।

সাধারণ মানুষ যারা পাতেও নেই ভাতেও নেই, দু’বেলা চাকরি করে বাড়ি এসে বোগল বাজিয়ে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখা বাদ দিন। তার চেয়ে গিন্নিকে কর্ত্রী মেনে সিরিয়াল দেখুন। এবারের যুদ্ধটা মাসে গুনলে আঙ্গুলের কর ক্ষয় হয়ে যাবে। বছরে গুনুন। আপনার ছেলের নাতিপুতিও এর ভেতরেই বড় হবে। তখনো ওরা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়বে, পরীক্ষা দেবে, জিপিএ ৬/৭ পাবে মাগার স্বাধীনতা কী জিনিস তা বুঝতে পারবি না। কারণ ত্রিশ বছর আগে আপনি কোন একদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে হঠাত মতিঝিলের কাছে আসতেই কিছু বুঝে ওঠার আগে আপনার গাড়ি আকাশে উড়াল দিছে। তারপর চোখ খুলে দেখছেন কিরামুন কাতিবিন দাঁড়িয়ে বিড়িতে শেষ টান দিচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 1