‘আমার বাবা/দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন’ একথা বলতে লজ্জা পান অনেকেই!

এদেশের ‘সূর্যসন্তান’ যাদের বলা হয় তারা হল, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো যারা। 🙂

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিখ্যাত একটা দেশাত্মবোধক গান আছে, “তোমাদের এই ঋণ, কোনোদিন শোধ হবে।”

গানটি শোনার পর আমাদের অনেকেরই শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠে।
শ্রদ্ধায় মস্তকঅবনত আর গর্বে বুক ফুলে উঠে।

একাত্তরে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের মধ্যে একজনও কি ‘সার্টিফিকেট’ পাবার জন্য অংশগ্রহণ করেছিলো?

দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার তাগিদই তাদের আত্মবিসর্জনের প্রেরণা দিয়েছিলো।

যাঁদের জন্য আমরা পেয়েছি একটা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ, তাদের পরিবারকে সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী করার দায়িত্ব কি আমাদের উপর বর্তায় না?

হ্যা,অবশ্যই।

তার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা আর শিক্ষা এবং চাকুরীক্ষেত্রে ‘কোটা’ চালু করা হয়েছে।

কয়দিন পরপর দেখা যায় কোটা ব্যবস্থা বাতিল/হ্রাসের জন্য একদল আন্দোলন করে, তো মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-নাতিরা আরো সুবিধা প্রদানের আন্দোলন করে।

আল্টিমেটলি দেখা যায়, যারা মেধা কোটায় চান্স পায় আর যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চান্স পায় তাদের মধ্যে বাহ্যিক দিক দিয়ে কোনো পার্থক্য না থাকলেও মানসিক দিক দিয়ে এক প্রকার সংকোচ কাজ করে!

চাকরিক্ষেত্রে বা শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান,নাতি নাতনীরা প্রবেশ করছে ঠিকই, কিন্ত প্রবেশের পর এতগুলো যোগ্য প্রতিযোগীর (বর্তমান সহপাঠী বা সহকর্মী) কাছে নিজেকে অন্যের পরিচয়ে পরিচিতি দিতে ‘ইগো’ তে বাধে।

আশেপাশের অনেক বন্ধুরাই গোপন করে যাচ্ছে যে, তারা এদেশের সূর্যসন্তানদের বংশধর!

এই পরিচয়টা যেনো তাদের ‘নিজেদের’ জন্য লজ্জা।

আসলে তাই নয় কী?

আমার এক বন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাবজেক্ট মাইগ্রেশন হওয়ার পরও ঐ সম্মানজনক সাবজেক্ট নেয় নি।

কারণ,সে নিজের পরিচয়ে বাঁচতে চায়,নিজের পরিচয়ে গর্ব করতে চায়। 😀

লেখক:
আরিফুল ইসলাম
ফকিরাপুল, ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − 64 =