অপরাজিত

বিভুতিভুষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপন্যাস, রবিশঙ্কর এর সঙ্গীত এবং সত্যজিৎ রায় এর পরিচালনা হলে সেটা তো অপরাজিত হয়েই থাকবে।
মা-ছেলের জীবন সংগ্রামের গল্প ‘অপরাজিত’। স্বামীর মৃত্যুর পর অপুই ছিল মায়ের একমাত্র ভরসা। মায়ের সমস্ত পৃথিবী ছিল একজন অপু। আর অপুর পৃথিবী স্কুরের মাস্টার মশাইয়ের দেয়া একটা গ্লোব। গ্লোবটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে পৃথিবীটাকেও হাতের মুঠোতে করার স্বপ্ন ছিল অপুর। গ্রামের স্কুলের পাঠ চুকিয়ে জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় হলো। উচ্চ শিক্ষার জন্য ১০ টাকার স্কলারশিপও পেল। তাই পড়তে যাবে কলকাতা। কিন্তু সে চলে গেলে মায়ের কী হবে? এই বিষয়ে মা-ছেলের মধ্যে খানিকটা ঝগড়া হওয়ার পর অপুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজি হয়ে গেলেন মা।
অপু উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় চলে গেল কলকাতা।

এরপর প্রথম প্রথম ছুটি পেলে মাকে দেখতে আসতো অপু। কিন্তু ধীরে ধীরে মাকে দেখতে আসাটাও কমে গেল। মা তখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন। কিন্তু অসুস্থতার কথা মা চিঠিতেও লিখলেন না অপুকে। লিখলেন না এই ভয়ে যে, যদি ছেলের পরীক্ষা খারাপ হয়ে যায় তাই। ছুটি পেলে তো অপু মাকে দেখতে আসবেই- এই বিশ্বাসটুকু নিয়েই শুরু হলো ছেলের জন্য মায়ের অপেক্ষা।
মায়ের কাছে আসলে শুধু ঘুম পায় অপুর। পড়াশুনা হবে না তাই আসবে না। অথচ সে তার একটা ছুটি হেলায় কাটিয়ে দিল কলকাতায়। এদিকে ধীরে ধীরে মায়ের মুখ শুকিয়ে যায় কিন্তু চোখগুলো স্থির তাকিয়েই রয় শুধু অপুর অপেক্ষায়। রোজ সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে যায়। রাতে জোনাকি পোকাগুলো অপুকে দেখার জন্য আলো জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু মাকে দেখতে আসার সময় অপুর আর হয় না।
এরপর অপুর যখন আসার সময় হয় তখন মায়ের শ্রাদ্ধ্য করার সময় হয়ে গেছে।
কিন্তু অপু তার মায়ের শ্রাদ্ধ্য কলকাতার কালি ঘাটেই করবে।
তাই পুটলি বেঁধে আবারো কলকাতার পথেই চলল অপু. . . . .

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “অপরাজিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

58 + = 59