তিন হাজার জ্যান্ত লাশের খোঁজে একজন মূর্খ

তিন হাজার জ্যান্ত লাশের খোঁজে একজন মূর্খ

কেউ কি আমারে বুঝায় কইবেন বিএনপি ক্যান হেফাজতের কয়জন মইরলো হেইডা লইয়া চিল্লাইতাছে ? বিএনপি’র আন্দোলনের নয়া ইস্যু ( হিসু পইড়েন না ভাইলোগ) কী এইডা প্রমাণ করা ৫ মে দিবাগত রাইতে ২/৩ হাজার হেফাজতি বেহেস্ত নিবাসী হইয়াছে । যদিও তাহারা সঠিক সংখ্যা অদ্যাবধি বলিতে অপারগ হইয়াছেন ।

একডা অনিবন্ধিত অরাজনৈতিক এসলামী সংগঠন কইলো তাহারা ডাহা শহর অবরোধ কইরা ফালাইব তাহারা তাই করিল, তারপর কইলো মতিঝিল এ শাপলার আসে পাশে সমাবেশ করিবে তাহারও অনুমতি মিলিলো । তাহাদের দোয়া কর্মসূচি ৫ টার মইদ্ধে শ্যাশ করিবার জইন্ন বলা হইলো । তাহারা ৫ ঘটিকা অতিক্রম কইরা আলোচনার নামে ন্যাংটা ভাষায় গালি – গালাজ, বিষদগার চালাইয়া যাইতে লাগিল । দ্যাশের নামকরা টি ভি তে দেহা যায় ইমুন মানুষদের পাইকারি দরে মুরতাদ, নাস্তিক, শাহাবাগি, মুনাফেক, ইবলিশ বলিয়া যার তার ফাঁসির দাবী জানাইতে শুরু করিয়া দিলো। ভাইলগ, আপনারা কেহ শুনিয়াছেন ইহারা যুদ্ধাপরাধী’ দের বিচার দাবী করিয়া একটা কথা বলিয়াছে ? এর আগে তাহাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র জামাত – শিবির কুলাঙ্গার সহযোগে অগ্ন্যুৎসব শুরু করিয়া একে একে লাল ঝাণ্ডাধারী কম্যুনিস্টদের অফিস, ব্যাংক, বীমা, সরকারি গাড়ি, হকারদের দোকান- পাট, সোনা – রুপার দোকান, বই – পত্রের দোকান এবং পবিত্র কোরান শরীফ আগুন লাগাইয়া দিয়া উন্মত্ত ন্রেত্ত শুরু করিয়া দিলো । আমরা আতঙ্কগ্রস্থ হইয়া পড়িয়া ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করিতে করিতে ভাবিতেছিলাম দ্যাশ কী এই পাঞ্জাবী, পাইজামা, টুপি ধারী ভীষণ ধার্মিক লোকদিগগের হস্তগত হইয়া যাইতেছে ? হেফাজতিদের মঞ্চ হইতে বলা হইতে লাগিল তাহাদের ১৩ দফার রফা না হওয়া পর্যন্ত তাহারা শাপলা ফুলের সুবাস ছাড়িয়া কোথাও জাইবেনা তাতে আম আদমির দফারফা হইলেও কিচ্ছু করিবার নাই । এইর মইদ্ধে শুনিতে পাইলাম ম্যাডাম বলিয়াছেন, হেফাজতি ভাই বিরাদার দের খেদমত করিতে হইবে, তিনি সকলকে ঘর হইতে বাহির হইয়া শাপলার দিকে রওনা করিতে বলিলেন এবং এই জালেম সরকারের কবজা হইতে দ্যাশ কে মুক্ত করিবার আহবান জানাইলেন । আমরা মূর্খ পাবলিক উদ্বিগ্ন হইয়া প্রমাদ গুনিলাম এইবার কাম সারছে, নেত্রী’রে বাঁচায় কোন শ্যালা ! কিন্তু দেখিলাম, টি ভি ক্যামেরার বাড় বাড়ন্ত এই কালে ডাহার সব রাস্তা তহন টি ভি’র মইদ্ধে সান্দাইছে । অবস্থা ইমন কেউ বগল চুলকাইতে চুলকাইতে অন্য হাতের তর্জনী ও বুইরা আঙ্গুল সংযুক্ত করিয়া নাকের সুরঙ্গ হইতে গোটা কয় লোম তুলিয়া ফালাইলেও তাহার লাইভ দ্যাখায় । দেখিলাম রাইত যতো বাড়িতে লাগিল রাস্তা ঘাট ফাঁকা হইতে শুরু করিল। কোথায় আদমি, শূন্য রাস্তার অলি – গলিতে তখন কুকুর কুকুরীদের সরব আনাগোনা, তাহারা হাড্ডি লইয়া অপর পাড়ার কুত্তাদের কে ডাইরেক্ট একশানে আসিতে বলিতেছে । ওদিকে ম্যাডামের কথায় একটুও পাত্তা দিলোনা ডাহা বা আশে পাশের জনতা , ইমন কি তাহার নিজ দলের বিপ্লবী ক্যাডার দের একটা কেও ঘর হইতে বাহির হইতে দ্যাহা গ্যাল না । কী আজব কারবার কন তো ? ওদিকে হেফাজতিরা তাহাদের অশ্লীল তাণ্ডব নর্তন কুর্দন কিছু খ্যান্ত দিয়া স্লোগানে গলা ফাটাইতাছে । এইদিকে সময় গড়াইয়া জহন রাত পৌনে তিনডা বাজিল তহন দ্যাহা গ্যাল ডাইরেক্ত বিষয়ডা আসলে কী । দুইন্নার তিন ভাগ পানি আর একভাগ মাটি এই কথা হেফাজতি’দের মাইকে মনে করায় দিলো র্যা।ব,পুলিস,বিজিবি । তাহারা অতো রাইতে সলিল সমাধি বরণ না করিয়া মাটির পৃথিবী ধরিয়া পলায়ন করাকেই ইহকালিক ডিমানড জ্ঞান করিলেন । এবং শাপলা সুবাস ছাড়িয়া যাইতে তাহাদের ১০/১৫ মিনিটের বেশি টাইম লাগিল না । সকালবেলা যাহারা মন্ত্রী মিনিস্টার হইয়া দ্যাশটার পশ্চাৎ এ ঘা বানাইব তাহারা আওয়াজ বোমা, পানি কামান আর কিছু মরিচের গুঁড়ার স্প্রে’র ভয়ে তাড়া খাওয়া নেড়ি কুত্তার মতো ল্যাঞ্জা গুটাইয়া, প্যাজামার দড়ি না বান্ধিয়া, লুঙ্গীর গিঁট খুলিল কি খুলিলনা ইত্যাদি বিচার না করিয়া যেভাবে ১০০ মিটার দৌড় শুরু করিয়া দিলো তাহা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহিন । হতভম্ব হইয়া যৌথ বাহিনী আবিষ্কার করিলো মশা মারিতে তাহারা কামান নিয়া আসিয়াছে ।
ঘটনা এইখানেই শ্যাশ তয় শ্যাশ হইয়া ও হইলনা শ্যাশ … লাশ এর সংখ্যা লইয়া নয়া রাজনীতি শুরু হইয়া গ্যাছে। এইডা কয়দিন মার্কেটে চালু থাকে হেইডা দ্যাহার বিষয় । ওদিকে শাপলার সুবাসের সাথে সাথে ক্ষমতার অবৈধ সুবাস হারাইয়া বিএনপি’র অবস্থা ভাদ্র মাসের একটি বিশেষ প্রাণীর মতো । জিহবা বাহির করিয়া আপাতত হাঁপানো ছাড়া এবং কোনও রুপ প্রমাণ বেতিত গণহত্যা গণহত্যা বলিয়া ঘেউ ঘেউ করা ছাড়া এবং সপ্তাহে দু’ একটি হরতাল ডাকিয়া নাকে সরিষার তৈল দিয়া দিবা – রাত্র ঘুমানো ছাড়া আপাতত তাহাদের কোনও কাম নাই ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “তিন হাজার জ্যান্ত লাশের খোঁজে একজন মূর্খ

  1. আমি যত দূর জানি, কুক্কুরী
    আমি যত দূর জানি, কুক্কুরী মানে মোরগ।

    আর ম্যারাথন হচ্ছে ধীর গতির দৌড়। Sprint শব্দটা ব্যাবহার করলে যথার্থ হত।

    1. ধন্যবাদ ” ক্লান্ত কালবৈশাখী
      ধন্যবাদ ” ক্লান্ত কালবৈশাখী ” আপনাকে
      —— কুক্কুরী না ওখানে হবে কুকুরী আর ‘’ ম্যারাথন রেস ‘’ এর স্থলে ১০০ মিটার দৌড় লেখা হল । আপনার সতর্ক পড়া’কে সাধুবাদ জানাই। একজন মূর্খ যেহেতু লাশ খুঁজতে নেমেছে তার কিছু ভুলচুক হতেই পারে । মনোযোগ দিয়ে পাঠ করার জন্য আবারো ধন্যবাদ ।

  2. মূর্খের মতই লিখেছেন। ভাল
    মূর্খের মতই লিখেছেন। ভাল হয়েছে মজা পাইলাম। ধন্যবাদ পোস্টের জন্য…. :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

  3. মতিঝিল শাপলা চত্বরে যে বিশাল
    মতিঝিল শাপলা চত্বরে যে বিশাল শাপলার পাশে ঝিল আছে, ৬ মার্চের পর থেকে সেখান থেকে এমোনিয়ার্( বুঝে নেন কি বলতেসি) গন্ধ বের হ​য়। কিন্তু এই পাবলিক ট​য়লেট ব্যবহারের জন্য কোন হেফাজতি একটা টাকাও দেয়নাই। এই জরিমানা কেউ চাইতেছে না ক্যান?

  4. কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি
    কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি করলো তার ক্ষতিপূরণ না চেয়ে পাবলিক টয়লেটের জরিমানা চাইলেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =