বাঙালি মডারেট মুসলিমের মন………………………।।

দেশে কোন জঙ্গি হামলা হলেই মডারেট মুসলিমদের চিৎকার শুরু হয়ে যায়- জঙ্গিদের কোন জাত পাত, ধর্ম নেই। আসলেই কি জঙ্গিদের ধর্ম নেই? অবশ্যই আছে এবং তাদের ধর্ম হল ইসলাম।

পৃথিবীর সবকিছুরই নির্দিষ্ট একটা ধর্ম আছে। মানুষের ধর্ম হল মানবতা। মনুষ্য ধর্ম থেকে বিচ্যুত নরপশু জঙ্গিদের ধর্ম হল ইসলাম। এটা বারবার অস্বীকার করতে চান কেন? যারা জঙ্গি হয় তারা কখনো কোরান না পড়ে জঙ্গি হয় নি। তারা কোরান পড়েই জঙ্গি হয়েছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য শুরু থেকেই তরবারির উপর নির্ভর করতে হয়েছে আর অন্য ধর্মীদের রক্ত দিয়েই লেখা হয়েছে ইসলামের ইতিহাস। আপনি ইসলামে বিশ্বাস করেন কিন্তু জিহাদে বিশ্বাস করবেন না কেন? ইসলামের ইতিহাসই তো জিহাদের ইতিহাস। এটা অস্বীকার করবেন কিভাবে?

তারা আল্লাহ্‌র নামেই “নারায়ে তকবীর” বলে মানুষ মারতেছে, যেটা ইসলামের শুরু থেকেই ইসলামী যোদ্ধারা করে আসছে। জঙ্গিদের যদি ধর্ম না থাকে তাহলে ইসলামের খলিফাদেরও কোন ধর্ম নেই। এটা কি আপনারা মানতে পারবেন? তবে ১৪০০ বছর আগে বন্দুক, বোমা ছিল না, তরবারি ছিল তাদের ভরসা। আমাদের এই সমাজ আর ইসলামী সমাজের বিস্তর তফাৎ, এটা তো মানবেন?

জঙ্গিরা যদি একটা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বুকে লালন করে এই সমাজের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে, তাহলে তাদেরকে মুসলিম বলে স্বীকার করবেন না কেন? ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা সুবিধাবাদী ছাড়া যেকোনো ধর্মপ্রাণ মুসলিমের আজীবন লালিত স্বপ্ন। কেউ নিজের জীবন ইসলামের পথে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত আর কেউ নয়। আপনারা বলেন যে আল্লাহ বলেছেন- একজন মানুষকে বিনা দোষে হত্যা করল, সে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল। কিন্তু জঙ্গিরা যাদের মারতেছে তারা ইসলামের চোখে নির্দোষ নয়। শুধু ভালোটুকু নয় খারাপটুকুও স্বীকার করে তা সমাধানের পথ বের করুন, তাতেই এই দেশ, সমাজ, সবারই মঙ্গল।

জঙ্গিরা যখন নাস্তিক ব্লগারদের রক্তে হোলি খেলতেছিল, তখন আপনাদের মনেও তৃপ্তির রেখা ফুটে উঠেছিল। তখন কেউ বলে নি এরা মুসলিম নয়। সবাই বলেছিল- দেশে কোন জঙ্গি নেই এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা আর মুচকি হেসেছিল। আজ কোপটা যখন নিজের ঘাড়ে পড়ার উপক্রম তখন জঙ্গিরা মুসলিম না। কি অদ্ভুত আপনাদের লজিক! জঙ্গিরা মুসলিম না হলে আর আপনারা জঙ্গিবাদ সমর্থন না করলে তখন নীরব ছিলেন কেন? নাস্তিকের রক্তরঞ্জিত নিথর দেহ দেখতে খুবই ভালো লাগে, তাই না?

ভারতে গরুর মাংস রাখার জন্য মহাম্মদ আখলাখকে যারা পিটিয়ে মেরেছিল কিংবা বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারীদের কি ধর্ম ছিল না? হ্যাঁ, অবশই ছিল। তারা ছিল হিন্দু। মায়ানমারের মুসলিম নির্যাতনকারীদের ধর্ম যদি বৌদ্ধ হতে পারে তাহলে রামু বা নাসিরনগরে হামলাকারীদের ধর্ম থাকবে না কেন?

আপনারা অনেকেই বলে থাকেন উগ্র নাস্তিকতার জন্যই জঙ্গিদের উদ্ভব। অনেকে এও বলেন এই দুটাই সমগোত্রীয়। মহান মুখোশধারী মুক্তমনা ব্লগার ইমরান এইচ সরকার এ নিয়ে স্ট্যাটাসও পয়দা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন- এই দুটির উদ্দেশ্য এক। মানুষের মনকে মুক্তি দেয়া আর কোন নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করা, এই দুটির মাঝে যে অনেক ফারাক এটা তিনি ভুলে গেছেন। বাংলাদেশে মুক্তমনাদের অনলাইনে লেখালেখি শুরু হইছে কয়েক বছর হল মাত্র, জঙ্গিবাদ ছিল অনেক আগে থেকেই। বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রাহমান এরা কোন ব্লাগারের লেখা পড়ে জঙ্গি হয় নি, জঙ্গি হইছে কোরান পড়ে। উদীচী হামলা কি অভিজিতদা কিংবা অনন্ত বিজয়ের লেখার পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিল? না, তারা কোরান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই উদীচী হামলা করেছিল।

বাঙালি মডারেট মুসলিমরা এক অদ্ভুত সঙ্কর জাত। তারা না পারে আরবীয় হতে না পারে বাঙালি হতে। তারা মনে প্রানে চায় মধ্যযুগে আটকে থাকতে কিন্তু বর্তমানকে উপেক্ষাও করতে পারে না। তারা নিজেরা প্যান্ট শার্ট পরলেও মেয়েদের রাখতে চায় বোরখার আড়ালে। তাদের বাইরের টা আধুনিক হলেও ভিতরটা পড়ে আছে ১৪০০ বছর পেছনে। তারা মাদ্রাসা শিক্ষা পছন্দ করে কিন্তু গ্রহন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে। তারা ইরাক সৌদিকে সাপোর্ট করলেও জীবন কাটাবে ইউরোপ আমেরিকায়। মডারেট মুসলিমরা এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দে ভোগা গোষ্ঠী। তারা ছালেখার সাথে সংসারও করবে আবার মালেখার সাথে পরকীয়াও করবে।

তাই মোডারেট ভাইদের বলছি- মাছও ধরবেন পানিও ছুবেন না, তা হয় না। নিজেকে মুসলিম হিসেবে স্বীকার করলে এটাও স্বীকার করুন যে- জঙ্গিবাদ বা জিহাদ ইসলামেরই অংশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =