রুপকথাঃ জেনে নিন পহেলা বৈশাখের প্রচলনের পিছনে মুসলমান নির্যাতনের করুণ ইতিহাস

যেইসব ধর্মপ্রাণ মানুষ মনে করেন ১লা এপ্রিল মুসলমানদের জন্য একটি বেদনাবিধুর দিন, তাদের জন্য আমার সমবেদনা রইলো। অঢেল বেদনা বুকে ধারণ কইরা চলা মানুষগুলারে দেখলে মায়াই লাগে।

না, তাদের আমি গর্ধব কিংবা নির্বোধ ভেড়া বলব না; তাদের বিশ্বাস সরল। সরলতা কিংবা সরল মনে ধারণ করা বিশ্বাস নিয়া উপহাসের কিছু নাই। আমার কৈশোরে আমিও সরলমনে এই কাহিনি বিশ্বাস করে ফেলছিলাম, একে তাকে বলছিও। ধীরে ধীরে চিন্তাভাবনা জটিল হইলো, গালগল্পগুলা আসলেই কী সেইটা নিজেই জানার চেষ্টা করতে গিয়ে বুঝলাম মোল্লারা সাহিত্যের রূপকথা উপধারায় খুবই দক্ষ। আমার আবার রুপকথারে সবসময় গাঞ্জাখুরি লাগে, আমারই মানসিক সমস্যা।

যাইহোক, এইসব নিয়া বড় কইরা লেখার প্রয়োজন নাই, অনেক লেখা আছে, বিশ্বাসীদের যেইগুলা পড়ার পরেও চরম অবশ্বাসই কাজ করবে। বলবে, সব ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্র, টাকা খাইয়া দালাল হইয়া মিথ্যা কাহিনি বানাইতেছে মুসলমানদের অপসংস্কৃতির দিকে নিয়া যাইতে। ভাবতেছি ১লা বৈশাখ নিয়া রুপকথা লেখা যায় নাকি। ধরেন লিখলাম, আকবরের আগে পুরা উপমহাদেশে আরবী সন প্রচলিত ছিলো, আকবর নিজেই ধর্ম বানানোর পর ইসলামের নাম নিশানা মুছতে নয়া সন বানাইলো আর যেইসব ধর্মপ্রাণ বান্দা এই সন মানতে চায়নাই তাদের শরীরের চামড়ারে প্যাপিরাস ভাইবা ওইখানে চাক্কু দিয়া চিরা বাংলাসনের দিন তারিখ খোদাই কইরা দিছিলো, মাসের নামগুলা লিখছিলো গালে আর কপালে। স্যাড বাট ট্রুথ, এইটাই কিন্তু সত্য। যদি বিশ্বাস না করেন, তাইলে আপনার ধর্মের উপর বিশ্বাস নিয়া আমার সম্পূর্ণ ডাউট আছে… রূপকথার আইডিয়া বলার ছলে আমি কিন্তু সত্য কথাই বলছিলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “রুপকথাঃ জেনে নিন পহেলা বৈশাখের প্রচলনের পিছনে মুসলমান নির্যাতনের করুণ ইতিহাস

  1. মহোদয়,
    মহোদয়,
    হ্যা ইতিহাসেরর নীরিখে, কিছু ইতিহাস না জানা মুসলমানদের দাবীর কোন সত্যতা নেই,কিন্তু এপ্রিল ফুল এর ইতিহাসের কোন গুরুত্ব ও আমি দিতে পারছিনা। বুঝলাম মোল্লারা বোকাচোদা।কিন্তু আপনি কোন পর্যায়ের চালাক হয়ে এই উৎসবটি পালন করবেন?
    এটার ইতিহাস কি আপনার ঐতিহ্য সংস্কৃতির কোন অংশ বা পৃথিবীর ইতিহাসে কোন বড় ধরনের গুরুত্ব রাখছে? ধরুন অংশ নয় তবুও ভালো লাগে তাই অথবা মোল্লাদের বিরোধীতা করে করলেও করবেন।
    মনে করুন নতুন বছরের নতুন দিন কিংবা যিশুখ্রীস্টর জন্যহ্যাপি নিউ ইয়ার পালন করি আমরা,মুসলমানরা পালন করে মহানবীর জন্মদিন তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে,আবার বাঙ্গালী মাত্রই কিছু নির্দিষ্ট দিবস পালন করে এবং এর উপলক্ষ ও আছে।কিন্তু এপ্রিল ফুল এর কোন উপলক্ষ আছে কি?
    এবং এটা যে পালন করতেই হবে না করলে মোল্লা এর কোন যৌক্তিকতা আছে?
    এই রকম মনে করলে আপনিও এক প্রকার মোল্লা হবেন।এখন আপনি বলবেন আমি এসব কিছু বলেছি কি!এই প্রশ্ন যদি করেন তাহলে এই পোস্ট মুছে ফেলতে হবে, কেননা এই পোস্ট এর উপলক্ষ “মোল্লাদের এপ্রিফ ফুলএর বিরোধীতা নিয়ে”।এই লেখাটি আপনার পূর্বের লেখা গুলোর সাথে মানায়না,পূর্বের মৌলিক লেখাগুলো পাঠে আমি আমি অভিভূত হয়েছি। ধন্যবাদ। শুভ কামনা।

    1. ভাই, আমিও চালাক না,
      ভাই, আমিও চালাক না, বুদ্ধিশুদ্ধি সাধারণ মানের। আর এই সাধারণমানের বুদ্ধিতে বুঝি যে উৎসব পালন করি আর না করি, যারা করতেছে তাদের করলে সমস্যা নাই কিংবা যারা করতে চায় তাদেরও করতে সমস্যা নাই। আবার যারা চায় না যে করি, আর সেই কারণে এইসব নির্মমতার বানোয়াট ইতিহাস বানাইতেছে, তাঁরা কি হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণাই ছড়াইতেছে না?

      এইবার আসি উপলক্ষ্যের কথায়। ইটালি, ফ্রান্স এইসব জায়গায় টমেটো চোড়াছুড়ির উৎসব হয়, টনকে টন টমেটো নষ্ট হয়। মানুষ না খাইয়া মরে আর এরা খাদ্য পায়ের তলায় পিষে। আবার এইসব উৎসবের জন্য কিন্তু সবাই আগ্রহ নিয়া অপেক্ষা করে। ছড়াইতে ছড়াইতে একসময় বৈশ্বিকও হইতে পারে, যেমনটা এখন ইংরেজী নববর্ষ।

      এপ্রিল ফুল পালন করতেই হবে সেইটা আমি কোথাও বলিনাই, এমনকি নবুর্ষ পালন করবে নাকি করবেনা কেউ, সেইটাও তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। তবে আমার মনে হয় করলে ক্ষতি নাই। এইদিনে কেউ ক্রাইম করে না, নিছক মজা করে, রসিকতাও। এইসব মানুবজীবনের অংশ। জীবনে বৈচিত্র আনার জন্যও এইরকম অনেককিছুর দরকার আছে, ইচ্ছা করলে পালন করেন, নাইলে নাই। কিন্তু মিথ্যাচার দিয়া কেন এইটাকে খারাপকিছু প্রমাণ করতে হবে?

      ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কারো যদি অন্যরে বোকা বানানোকে ঠিক মনে না হয়, তাইলে সে তার মত চলুক, অন্যেরটা অন্যে করবে। আমি ধর্ম মানিনা, আবার ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, তাই আমার মধ্যে অনেক দ্বিরাচারী নীতি আছে, কিন্তু যেইটা ঠিক মনে হয় সেইটাই বলি। আর এই পোস্ট মোল্লাদের নিছক এপ্রিল ফুলের বিরোধীতা নিয়ে না, মিথ্যাচারের মাধ্যমে এপ্রিলফুলকে ঘৃণা, হিংসা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এইসব ছড়ানোর বিরুদ্ধে। তাই আমি মনে করিনা পোস্ট মুছার দরকার আছে।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =