আন্দোলন

এলাকায় সাহেবের বিশাল নামডাক। বিভিন্ন কারণে তার নামডাক। দান-ধ্যান করে সবাইকে। শত্রুরেও সে দেয়, এরকম সুনাম তার বহুদিনের। সংসার নিয়েও তার সুনাম আছে। তিন বউ নিয়ে এরকম গোছানো সংসার লোকে খুব কমই দেখেছে। বিবিদের রুপের প্রশংসাও করে অনেকে। প্রশংসা পর্যন্তই, সহজে কেউ চোখ উঠাইতে সাহস পায় না।বিবিদের আগুন ছাইচাপা থাকে বটে, তাই বলে তাদের চোখ অবশ্য বন্ধ থাকে না। লোকালয়ে বাধ্যসুপ্ত থাকে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, বেশি তাপ জমা হলে নির্জনে গিয়ে জ্বলে ওঠে তা গোপনে, উঠবেই। সুক্ষ্ম দৃশ্যমান কোনো সৌন্দর্য নেই, আছে শুধু আয়োজন, লোক দেখানো সংযম, আর লাগামহীন গোপন স্থুল ভোগের আয়োজন।

এলাকায় সাহেবের বিশাল নামডাক। বিভিন্ন কারণে তার নামডাক। দান-ধ্যান করে সবাইকে। শত্রুরেও সে দেয়, এরকম সুনাম তার বহুদিনের। সংসার নিয়েও তার সুনাম আছে।
তিন বউ নিয়ে এরকম গোছানো সংসার লোকে খুব কমই দেখেছে। বিবিদের রুপের প্রশংসাও করে অনেকে। প্রশংসা পর্যন্তই, সহজে কেউ চোখ উঠাইতে সাহস পায় না। বিবিদের আগুন ছাইচাপা থাকে বটে, তাই বলে তাদের চোখ অবশ্য বন্ধ থাকে না।
লোকালয়ে বাধ্যসুপ্ত থাকে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, বেশি তাপ জমা হলে নির্জনে গিয়ে জ্বলে ওঠে তা গোপনে, উঠবেই। সুক্ষ্ম দৃশ্যমান কোনো সৌন্দর্য নেই, আছে শুধু আড়ম্বর, লোক দেখানো সংযম, আর লাগামহীন গোপন স্থুল ভোগের আয়োজন।

– আজকে একটু তোমার সাথে গল্প করতে মন চায় সাহেব।

– তুমি আমারে ‘তুমি’ কইরা ডাকলে আমার বেশ ভালা লাগে। হাহাহাহাহা, আমার বড় বিবির বড় মাইয়া তো তোমার চাইতে বড় হইব মনে অয়। তয় তোমার মত আধুনিক মাইয়া আমি খুউব কম দেকছি। শর্ট কার্ট পইরা ঘুরে বেড়ায় যে মাইয়াডি অরা তোমার লগে অন্দরে কিছুই পাইরা উঠব না বিবি।

– তুমি কি মনু জিনিস বাগাইতে ভুল করো কিছু! শোনো, পাঁচ লাখ টাকা লাগবে।

– পাঁচ লাখ! এই সময় পাঁচ লাখ টাকা দিয়া তুমি কী করবা ছোট বিবি?

– দুবাই যাব।

– কেন? হঠাৎ দুবাই যাইতে তোমার মন চাইল কেন? মাস দুই পরে আমার লগেই যাইও। ঐহানে আমগো ফ্লাটটা তো অহনো ঠিক অয় নাই। রংচং করা চলতাছে। অইলেই যাইও আমার লগে। আগাম যাইয়া কী করবা?

– ছেলের জন্য সামান্য শপিং করব। ৫ মে আব্রহামের জন্মদিন, তুমি জানো না?

– জানি তো। হানি, তুমি বাংলাদেশে বইসা ঐ নাম কইও না। ঐইডা বাইরে তোমার ক্রিস্টান ফেন্ডগো লগে গিয়া ডাইকো। এহানে তুমি আমি যে নাম থুইছি ঐডাই কইও।

– ঠিক আছে। চেক লিখে দাও। কালকেই যাব।

– সাথে কেডায় যাবে?

– সাথে কে যাবে তুমি জানো না? সাথে লাগবে কীসে? আমারে কি ফিডার খাওয়াতে হবে? মনু, কথা বাড়াইও নাতো। তোমার বয়স হইছে, ধর্ম কর্ম লইয়া থাকো। লাগবে যখন আসবা, এখন দ্রুত চেকটা লিখে দাও।

– ব্যবসা বাণিজ্য বর্তমানে খুব খারাপ। একাউন্টের অবস্থা ভালা না। তাছাড়া শোনছনি, আমগো ব্যাংক সরকার লয়ে লইছে, অহন ট্যায়া যা আইব রাখবানে কোনআনে?

– তাহলে একটা বুদ্ধি দিই, শোনো, চিকিৎসার নাম করে কিছু টাকা সিঙ্গাপুরে রাখো। ওখানে গেলে তো আমাদের খরচ হয়। ভাড়া দেয়া যায় এমন একটা কিছু ওখানে কিনে রাখা যায়।

– ছোট বিবি, সত্যিই তুমি খাসা মাল। শিক্ষিত মানুষের বুদ্ধিই আলাদা। আচ্ছা, বিবি কও দেহি তোমারে ছাড়া আমি বেস্তে ক্যামনে যামু?

– তোমার কি মনে হয় আমি বেহেস্তে যাবো না?

– কী যে কও! তুমি নিজেই তো আস্তা একখান বেস্ত। আমি তো সারাক্ষণ বেস্তেই আছি।

– মেজ বিবি ডাকতাছে। যান তাড়াতাড়ি, তাবু টানায়ে আটকানো যায় না বুড়ো, যাও য্যামনে পারো পাওনা মিটায়ে আসোগে। তাড়াতাড়ি চেকটা দিয়ে যাও।

– কী যে কও হানি! তোমারে থুয়ে আমি কই যামু, ও ডাইকে মরুগ্গে। নেও, এত যহন কইতাছ চেকখান লিইখ্খা দিই। এরপর তোমার নামে ভাবতাছি মাসে মাসে লাখ খানেক কইরা রাইখা দিমু তোমার একাউন্টে যাতে তুমি ইচ্ছে হইলেই লগে লগে উঠায়ে খচ্চাপাতি করতে পারো।
বিবি ট্যায়াডা দিতাছি, তয় কইবা নাকি তোমার লগে কে যাইব আর? আমি কিন্তু গন্ধ পাইতাছি। সেইরাম নাক আমার, গন্ধ পাই। ঘ্যারান পাই। নেও নেও, চেকহান ব্যাগে ঢুকায়ে রাহো।
[মনে মনে] মাগি চেক ঢুকাইছস তো ব্যাগে, কী ঢুকাইতে যাইতাছস দুবাই! আমার ঘাড়ে পা দিয়া নাচন কুদন। আর চলতে দিমু না …

– মনু, তুমি খুব ভালো। দেশ উল্টায়ে দিয়ে আমারে ভালোবাসতেছ।

– [মনে মনে] হ, দ্যাশটারে আমি মাটির ডিব্বা ঝাকায়ে পয়শা বাইর করার মতন ঝাকাইতেছি, ঝন ঝন ঝন ঝন করে পড়তাছে ট্যায়া, সে ট্যায়ার রসে তুই টইটুম্বুর।
তোরে আর একলা খাইয়া পারতেছি না আমি। তাই বলে তরে বরগা দিতে পারুম না। দুবাই থেইকে আয়, শ্যাষবারের মতন ঢুকায়ে ল, এরপর … টস টস করতাছে, যা তরে আর ছুইতাছি না… তুই চলে যা, শ্যাষবারের মতন ঢুকায়ে আয়।

– হঠাৎ থেমে গেলে যে। পাঁচ লক্ষ টাকা তোমার কাছে কি কিছু, এত দুঃখ পাইতেছ যে? কালকেই তো শুনলাম, বিশ লাখ দিয়ে গেল সরকার পক্ষের লোক।

– [মনে মনে] মাগি তুই তো বহুত কিছ্ছু শুইনে ফালাইছস, এইসব শোনতে নেই তা তুই জানলি না, তুই বুঝলি না।

[এবার কথা বলে] হানি, তুমি এসব শোনো কেন? তোমার যা চাই তাই পাও, বেহুদা এইসব বেইজ্জতি খোঁজখবর রাইখা তোমার কী লাভ হইব? যাও যাও, ঘুইরা আসো, দুবাই তোমারে ডাকতাছে। লম্বা চওড়া বাদশাগো লগে একটু পিরিতে কইরা আসো গে।

– কী বললে তুমি, মুখ সামলে কথা বলো!

– না না না, মজা করত্যাছি। আচ্ছা, বিবি কও দেহি, ঐদিন কী আলোচনা করতেছিলাম, মানে ভাবতেছি বিষয়গুলোর সাথে তোমারে রাহি। তুমি শিক্ষিত সুন্দরী, ব্যবসা বাণিজ্য হিসেব নিকেষ আমার চেয়ে ভালা বুঝবা।

– ঐ যে তোমরা বলতেছিলে, কী যেন একটা আন্দোলন চালিয়ে যাবা। এতে তোমাদের কয়েকে কোটি টাকা আয় হবে। তেমোদের দুই বন্ধুর আলোচনা শুনতেছিলাম।
ঐ শয়তানে বারে বারে তোমার বিবির দিকে উঁকি দিচ্ছিল বলে সরে আসছিলাম। পরের দিনই তো সরকার পক্ষের লোক এসে তোমাকে বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে গেল।
তুমি হিসেব দেখালে যে বিভিন্ন ইউনিটের লিডারদের এক লক্ষ টাকা করে দিয়ে আপাতত আন্দোলন থামিয়ে দেবা। পরে আবার তোমার দোস্তরে বললে, “দশ লাখ টাকা দিয়ে গেছে। তুই এই পাঁচ লাখ দিয়ে ম্যানেজ কর। আপাতত যেন কোনো আন্দোলন না হয়।”

– ভালা, ছোট বিবি, বহুত ভালা, তুমি খুউব জ্ঞানী হইতাছ আজকাল। কামে লাগাবানে।

[মনে মনে] বিছানার থেইকে নাইমা তুই ভুল করলিরে মাগি, দেহডারে জ্বালাইতে পারতি সক্কাল বিক্কাল আরো, বুঝলি না মাগি, বেশি বোঝবার গেলি!

– মনু, তাহলে আমি আসি।

– [মনে মনে] খানকি মাগি কোনো আদব কেতা তোরে শেখাইতে পারলাম না আজও … যা ঠ্যালা খাইয়া আয়গে শ্যাষবারের মত।

[ছোট বিবি দুবাই থেকে ফেরার পর]

আজকে আব্রাহামের জন্মদিনের আয়োজন চলছে। যেহেতু জন্মদিন করা নিষেধ আছে, তাই এটা একেবারে ঘরোয়া আয়োজন। মানুষরে জানতে দেয়া যাবে না। তিন বিবি এবং ঘরের ছোট বাচ্চারা, বড় বিবির ছেলে মেয়েরা এ বাসায় এখন আর আসে না।

বিশাল শপিং করে নিয়ে এসেছে ছোট বিবি। বাসার সকল শিশুদের জন্য কিছু না কিছু কিনেছে। এমনকি কাজের বুয়াদের ছেলে মেয়েদের জন্যও সুন্দর পোশাক কিনেছে।

এদিকে সাহেব প্লান সাজিয়ে রেখেছে। সে কাটা দিয়ে কাটা তুলতে চায়। বড় বিবি এবং ছোট বিবির মধ্যে ঝগড়া। এই সুযোগটাই সে কাজে লাগাতে চাইছে।

খুব ভারি খাওয়া দাওয়া হয়েছে আজকে। সাধারণত সবাই বারোটার দিকে যে যার ঘরে যায়। আজকে রাত প্রায় একটা বাজে এখন। সবাই বেশ ক্লান্ত।
সাহেব বড় বিবিকে ঘরে ডেকে নেয়। সাধারণত সাহেব একাই ঘুমায়। বিবিরাও যে যার রুমে থাকে।

অবশ্য বড় বিবি খুব অভিজ্ঞ বলে সে তার মত করে সব ম্যানেজ করে নেয়। বাইরে তো যায়ই, মাঝে সাজে ঘরেও কাজের উছিলায় লোকজন আসে তার কাছে।
আগ্রহ করে সাহেব অবশ্য আর আসে না। বয়স হলেও বড় বিবি এখনো পড়ে নাই। সে তো অন্যরা দেখে, ঘর বদলালে দুইদিকের দুটো ঘরই তো নতুন হয়।
সাহেব মজে আছে নতুনে, অন্দরে তো আছে এক, বাহিরেও তার কম নেই।

রাত এখন দুটো বাজে। আজকে ঘণ্টা খানেক বড় বিবির সাথে নানান পিরিতের কথা বলেছে সাহেব। যেন নতুন করে প্রেম উছলে উঠেছে। বড় বিবিও এরকম কোনো দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিল।
সম্পদের ভাগ সে কাউরে দিতে রাজি নয়। তার সামনে দিয়েই তরতর করে লাউয়ের ডগার মত বেড়ে উঠেছে সাহেব। কাউরে ভাগ দিতে রাজি নয় সে।

একটা ইনজেকশন ধরিয়ে দেয় সাহেব। বড় বিবি খালি হাতে ওটি নেয়। আগেই দু’জনকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। তারা ঘুমে অচেতন।

বড় বিবি ধির পায়ে গিয়ে কাত শুয়ে থাকা ছোট বিবির নিতম্বের মাঝখানে ইনজেকশনটা ঢুকিয়ে দেয়। ছোট বিবি শুধু কয়েকবার ঘোঙানির মত শব্দ করতে পারে। অর্ধেক ইনজেকশন পুশ করে বাকিটা একইভাবে ছেলেটাকে পুশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে দু’জনেই মারা যায়।

পরেরদিন ঘুমের মধ্যে ছোট বিবি ও তার ছেলে মারা গিয়েছে বলে পুলিশকে জানানো হয়। সাহেব পরিকল্পনা মত থানার ওসিকে সব বলে রাখে। সাত লাখ টাকায় রফা হয়।
ওসি তদন্ত করে বড় বিবিকে দোষী সাব্যস্ত করে। বড় বিবির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় কৌশলে সাহেবকে না ফাঁসিয়ে। বড় বিবিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এক সপ্তাহ হল। বাড়ির সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়েছে। সাহেবের দোস্ত এসেছে আজ আবার। দোস্ত আজকে হাসি ঠাট্টা করছে-
-দোস্ত, মালডারে একবার আমার লগে কিছুদিন রাইখা তারপর সিস্টেম করতা।

– তুই আমারে হাগল পাইছস, তুমি ওইডারে না খাইয়া ছাড়ছনি, হাগল পাইছ আমরে?

– সিরিয়াস দোস্ত, খালি থাপ্পড় খাইছি একদিন। তুই না সিস্টেম করলে আমিই সুযোগমত একদিন লটকায়ে দিতাম।

– বাদ দে। অকাজের কথায় কাম নাই। ব্যবসা পাতির খবর ক?

– খবর ভালো, দুইদিক থেইকাই মাল আসতেছে সমানে, সরকারি লোক দিতাছে তোরে, আমগো সমর্থকরা দিতাছে আমারে, অহন থেইকা কোনো বিতণ্ডা নাই, তুই অইডা আমি এইডা। রাজি?

– রাজি। তয় অহন কি উপাস থাকবরে আমি, খোঁজ খবর কইরা বাহির কর খাসা মাল আর একখান।

এরপর দুই দোস্ত একসাথে পানাহারে মেতে ওঠে। আজকে আর কোনো বিভেদ নেই। মেজ বিবিও যেন হঠাৎ রাজত্ব হাতে পায়। সেও এসে যোগ দেয়। আজকে তো খুশির দিন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 6 = 9