এলিট ফোর্স SWAT

এলিট ফোর্স SWAT/ সোয়াত’ সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য।

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র আদলে তৈরি হওয়া ফোর্স স্পেশাল উইপন্স এন্ড ট্যাক্টিকস (সোয়াত)। কোনো হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি সন্ত্রাসীদর হাতে জিম্মি হলে বা বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হলে আক্রান্তদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের কাজ করে এ টিম।

আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের এন্টি টেরোরিজম এসিসটেন্স প্রোগ্রামের আওতায় প্রশিক্ষণ নেয়।

এই টিমের প্রতিটি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ২৮ থেকে ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছে। সোয়াতকে আটটি এম-৪ রাইফেল, আটটি গ্লোক-১৭ পিস্তল ও অর্ধলাখ রাউন্ড গুলি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে সোয়াত টিম এলিট ফোর্স হিসেবে বিবেচিত। যেসব অভিযান সাধারণ পুলিশের পক্ষে পরিচালনা সম্ভব নয় সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালায় এ টিম। কোনো হাই প্রোফাইল ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হলে বা বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হলে অক্রান্তদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের কাজ করে সোয়াত টিম। ভারতের তাজ হোটেলে জঙ্গি হামলা এবং বোস্টনে একটি বিমান সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়লে অভিযান চালায় সে দেশের সোয়াত সদস্যরা। এ লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে গঠন করা হয় সোয়াত। শুরুতে এর সদস্য ছিলেন মাত্র ২৪ জন। এর মধ্যে ছিলেন দুইজন সহকারী কমিশনার, দুইজন ইন্সপেক্টর, ছয়জন সার্জেন্ট ও এসআই এবং বাকিরা নায়েক এবং কনস্টেবল পদমর্যদার। এখন বাংলাদেশ পুলিশে এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জন। ৫৫ জনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার, দুইজন সহকারী কমিশনার, তিনজন ইনস্পেক্টর এবং বাকিরা এসআই, সার্জেন্ট ও নায়েক-কনস্টেবল পদমর্যদার।

জিম্মি ব্যক্তিকে উদ্ধার, জঙ্গি হামলা মোকাবেলা ও ছিনতাই হওয়া বিমান উদ্ধার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিলেও গত চার বছরে এ টিম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ, পহেলা বৈশাখ এবং বিজয় দিবসসহ রার্ষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সোয়াত টিমের তৎপরতা অহরহ চোখে পড়ছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আদলে তৈরি করা হয় সোয়াতকে। এফবিআই যেভাবে অপারেশন চালায় ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের সোয়াতকে গড়ে তুলছে আমেরিকা। সোয়াতের পুরো ব্যয় বহন করছে আমেরিকা। আমেরিকা থেকে আসা ভিআইপিসহ অন্যান্য নাগরিকদের সোয়াত আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তার পাশাপাশি দেশে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সোয়াতকে তলব করা হয়।

সোয়াতের প্রশিক্ষণে জনপ্রতি ২৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কারও কারও পেছনে খরচ হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। এর পুরোটাই ব্যয় করেছে আমেরিকা। জঙ্গিসহ দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি লোকজনকে উদ্ধারে সোয়াত টিমের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। তারা নিজেরাই বোমা ফাটিয়ে যে কোনো স্থাপনায় প্রবেশ করে জিম্মি নারী, শিশুসহ লোকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম। তাছাড়া কোনো ছিনতাই হওয়া বিমান যদি বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাহলে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে বিমান উদ্ধার করে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “এলিট ফোর্স SWAT

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 1