নিষ্পাপের শাস্তি

“এটিই সর্বত্তোম ধর্মগ্রন্থ।এই ঈশ্বরে যারা বিশ্বাস আনেনা; তারা নরকে পতিত হবে। নিশ্চয় এটি’ই সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা।”

প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে কথাটি লেখা আছে। এবং প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ’ই তার ঈশ্বর ব্যতিত অন্য কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস’কে হীন করে দেখে। কথাগুলো ধর্মগ্রন্থতে ভিন্নরূপে থাকে; তবে মূলকথা এটি’ই।

“এটিই সর্বত্তোম ধর্মগ্রন্থ।এই ঈশ্বরে যারা বিশ্বাস আনেনা; তারা নরকে পতিত হবে। নিশ্চয় এটি’ই সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা।”

প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে কথাটি লেখা আছে। এবং প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ’ই তার ঈশ্বর ব্যতিত অন্য কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস’কে হীন করে দেখে। কথাগুলো ধর্মগ্রন্থতে ভিন্নরূপে থাকে; তবে মূলকথা এটি’ই।

একজন শিশু যখন জন্ম নেয়; সে আশেপাশ সম্পর্কে কিছুই জানেনা। মা-বাবা ও পরিবেশ থেকে তারা শিক্ষা লাভ করে। স্বভাবত’ই মা-বাবা’র ধর্ম তারা মেনে চলে। কেননা তারা অবচেতন মনে মা-বাবা থেকে এই শিক্ষা লাভ করে এসেছে।

কোন শিশু জন্মগ্রহন কোথায় করবে তা ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত হয়। ঈশ্বর’ই তাকে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ইত্যাদি পরিবারে পাঠান। সেখান থেকে সে পিতা-মাতা’র ধর্মে অবতীর্ণ হয়। বলা হয় ঈশ্বর পরীক্ষা করতে পাঠান। কিন্তু অবচেতন শিশুকে যখন পিতা-মাতা শিক্ষা দেন তখন তার সেটা’তে বিশ্বাস করা ছাড়া আর উপায় থাকেনা। এখানে সারা জীবন তার এ ধর্ম পালনে দোষ’টা কোথায়? সে তো অবুঝ ছিল। এখন সে যদি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়; স্বভাবত’ই সে হিন্দু হবে। এখন ইসলাম যদি সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হয়; তবে তাকে নর’কে যেতে হবে। এখানে সে’ই শিশুটি’র দোষ কোথায়?

ধরুন আপনি একটি আমের বীজ বপন করেছেন। আপনি সেখান থেকে জাম ফল আকাঙ্খা করলেন। এখন আমের বীজ থেকে স্বভাবত’ই আম গাছ’ই হবে। বড় হয়ে যখন আমগাছ থেকে আম হলো; আপনি তাকে শাস্তি দিলেন। কেন? সেখানে জাম না হয়ে কেন আম হয়েছে তাই। আমগাছ থেকে জাম আকাঙ্খা করা কতোটা যৌক্তিক এবং জাম না হওয়ার কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া কতোটা যৌক্তিক?

ঠিক তেমনি ভিন্ন ধর্মের পরিবারে শিশু পাঠিয়ে; সেখানে আপনার ধর্ম পালন করেনা কেন তার জন্যে শাস্তি দেওয়া কতোটা যৌক্তিক?

প্রশ্ন করবেন; নাস্তিক হয় কিভাবে? আপনারা’ই তো বলেন আমরা নাস্তিকেরা জারজ। আমাদের কথাটা বাদ’ই দেন। প্রশ্ন আসবে ধর্ম পরিবর্তন করে কিভাবে কিছু মানুষ? আপনার ধর্মের মানুষ অনেক সময় ধর্ম পরিবর্তন করে; তখন আপনি তা’কে বলেন জারজ। আবার অন্য ধর্মের মানুষ যখন আপনার ধর্ম মানে তখন বলেন আপনার ধর্ম শ্রেষ্ঠ। যে তার ধর্ম পরিবর্তন করে; নিজ ধর্ম অনুসারে সে জারজ। প্রতিটা ধর্মে’ই কেউ না কেউ ধর্মান্তরিত হয়; তবে কি প্রতিটা ধর্ম’ই শ্রেষ্ঠ?

তাহলে অবুঝ শিশুগুলো যুগে যুগে নিজ ধর্ম পালন করে যাচ্ছে; তাতে তাদের দোষ কোথায়? নিষ্পাপ শিশুগুলোকে তবে কেন শাস্তি পেতে হবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 57 = 63