“ব্যাক ফায়ার”

মাওলানা রশিদউদ্দিন তর্কবাগীশ পানটা মুখে পুরেই টিভিতে চোখ রাখলেন। তার মেজাজ অত্যাধিক খারাপ। মেজাজ খারাপ হলে তিনি প্রচুর পান খান। তখন হাল্কা ধূমপানও করেন। তিনি টিভির দিকে চোখ রেখেই একটা বেন্সন ধরালেন। টিভিতে জংগী অভিযান দেখানো হচ্ছে। নামটা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। ইংরেজি নাম। বাংলাদেশের অভিযানের নাম হবে বাংলা নাম, আরবি হলেও চলে। আরবি হচ্ছে মুসলমানের ভাষা। এদেশের শতকরা পঁচানব্বুই ভাগ মানুষ মুসলমান। তিনি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মনে মনে সোবাল্লাহ পড়লেন। তবে বাকী পাঁচ ভাগ কাফেরের বাচ্চাকেও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আনা হবে।

মাওলানা রশিদউদ্দিন তর্কবাগীশ পানটা মুখে পুরেই টিভিতে চোখ রাখলেন। তার মেজাজ অত্যাধিক খারাপ। মেজাজ খারাপ হলে তিনি প্রচুর পান খান। তখন হাল্কা ধূমপানও করেন। তিনি টিভির দিকে চোখ রেখেই একটা বেন্সন ধরালেন। টিভিতে জংগী অভিযান দেখানো হচ্ছে। নামটা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। ইংরেজি নাম। বাংলাদেশের অভিযানের নাম হবে বাংলা নাম, আরবি হলেও চলে। আরবি হচ্ছে মুসলমানের ভাষা। এদেশের শতকরা পঁচানব্বুই ভাগ মানুষ মুসলমান। তিনি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মনে মনে সোবাল্লাহ পড়লেন। তবে বাকী পাঁচ ভাগ কাফেরের বাচ্চাকেও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আনা হবে। এত শান্তিদায়ক জায়গা ছেড়ে মানুষ কী করে অন্য জায়গায় থাকে তা মাওলানা রশিদ বুঝতে পারেনা। তবে সব বুঝাও কাজের কথা না। আল্লাহতায়ালা বেশি বুঝা পাবলিক পছন্দ করেন না। বেশি বুঝতে যাই আজাজিল শয়তান হয়ে গেলো। তিনি মনে মনে নাউজুবিল্লাহ পড়লেন। বেন্সনের টেস্ট নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি মনে মনে অত্যন্ত অশ্লীল একটি গালি দিলেন। যদিও গালি দেয়া ফাসেকি কাজ কিন্তু কাফেরের বাচ্চাদের গালি না দিলে ঈমান মজবুত হয়না। তার ঈমান স্টিলের চেয়েও শক্ত। তিনি পানের পিক ফেলতে ফেলতে হেঁড়ে গলায় ডেকে উঠলেন,

ইয়াকুব, ওই ইয়াকুব।

ইয়াকুব তার ছাত্র। কোরান-হাদিসের জ্ঞান অনেক আগেই মাওলানা তাকে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওসব হচ্ছে থিউরি। এখন তিনি তার কিছু ছাত্রকে প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। ইয়াকুব এসে তার সামনে দাঁড়ালো। ইয়াকুব পূর্ণ বাক্যে সালাম দিলো।

মাওলানা ইয়াকুবকে বললেন,

তোমাদের গত অপারেশন না কামিয়াব হয়ে গেছে। এভাবে জেহাদ করলে খুব তাড়াতাড়ি তোমরা শহীদের মর্যাদা লাভ করবা।

ইয়াকুব চিকচিক চোখে মাওলানার দিকে তাকায়।

মাওলানা ইয়াকুবের চিকচিকে চোখ দেখে বিরক্ত হয়। তিনি আরেকটা সিগেরেট ধরান। এই সিগেরেটটার টান ভালো লাগছে। তিনি এস্ট্রেতে ছাই ফেলতে ফেলতে বললেন,

পরিস্থিতি খুব খারাপ। বাইরে থেইক্যাও রেসপন্স কইমা গেছে। কী যে করি। তা তোমাদের আজকের অপারেশন কই যেন?

আমরা আইজ কিছু ওষুধের দোকানে বোমা মারবো। ওখানে হুজুর বেশরিয়তি জিনিসের সওদা হয়।

বেয়াদপ!!!!!! মাওলানা তীব্র চিৎকারে ফেটে পড়ে। এই চিৎকার শুনে ইয়াকুব ভয় পায়। সে ভয়ে আরেকটু হলে লুঙ্গি ভিজিয়ে ফেলতো। মহা বিপদ হয়ে যেতো। তার কাছে এখন আর কোন লুঙ্গী নেই। লুঙ্গী ছাড়া জেহাদে গেলে নিশ্চয়ই গোনাহ হবে।

মাওলানা জোরে জোরে সিগেরেট টানতে টানতে বলে,

বোমা মারবো এটা আবার কেমন কথা। জেহাদ নিয়ে এইসব বেয়াদ্দপি কথাবার্তা যেন আর না শুনি।

ইয়াকুব সালাম দিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।

মাওলানার মেজাজ এখন আরো খারাপ হয়ে গেছে। এইসব বলদ নিয়ে জেহাদ কামিয়াব হবে কিনা তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন।

মাওলানা রশিদউদ্দিন তর্কবাগীশ কিছুক্ষণ আগে স্ট্রোক করেছেন। তিনি খবর পেয়েছিলেন তার বড় বিবির ঘরের দ্বিতীয় কন্যা দিলখুশ বিবি ইয়াকুবের সাথে পালিয়ে জেহাদে অংশ নিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে তারা দুজনেই নিহত হয়। তাদের লাশ টিভিতে দেখানো হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে মাওলানা স্ট্রোক করেন। এখন তাকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এম্বুলেন্সের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 86