পাঁচ দিন ১২০ ঘণ্টা

বই মেলায় একজন মহিলা তার ছেলেকে বাবা কাব্য এদিকে এসো বলে ডাক দিলেন। আমি বললাম আপনার ছেলের নাম অনেক সুন্দর। তিনি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেলেন। হঠাৎ একটি কথা মনে পরে গেল।

তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। ন্যাশনাল কারিকুলাম ইংলিশ ভার্সন। অন্য স্কুল থেকে তেমন কেউ আসতো না আমাদের স্কুলে ইংলিশ ভার্সনে পড়ার জন্য। যারা আসতো তারা হয়তো O-level পড়বে না বলেই আসতো। জ্যামের কারনে স্কুলে যেতে আমার প্রায়ই দেরি হতো। সেদিনও দেরি করে ক্লাসে গিয়েছিলাম। প্রতিদিনের মতো স্যার একই প্রশ্ন করলেন, কেন দেরি হল। সেই বিবরণ তাকে দিতে দিতে হঠাৎ লক্ষ করলাম ক্লাসে নতুন একটি মুখ। তার চোখের সাথে চোখ পড়তেই আমি চোখ সরিয়ে ফেললাম। যখন রোল কল করা হচ্ছিলো তখন তার নাম জানতে পারলাম নদী। সম্ভবত আমার নাম সমুদ্র বলেই তার নাম শুনলে আমার অনেক ভাল লাগতো। ক্লাসের সব পরীক্ষায় নদী সবচেয়ে বেশি নাম্বার পেতো। তখনই বুঝেছিলাম ও অনেক ভালো স্টুডেন্ট। নদীর সবকিছুই আমার ভাললাগতো। ওর চুলগুলো ছিল বয়কাট, তা নিয়ে ক্লাসে সবাই হাঁসাহাঁসি করতো। নদী এসব তেমন একটা পাত্তা দিত না। ও শুধু দু একটা মেয়ের সাথেই ক্লাসে কথা বলতো। কি অদ্ভুত কারনে আমি হয়তো ওর সাথে কথা বলতে পারতাম না। আমি নিজেও জানি না কেন। আজ ওর ক্লাসের ৫ নাম্বার দিন। আজ নদীর সাথে কথা বলবো বলবো করেও বলা হল না। অনেক মন খারাপ করে বাসায় গেলাম। চিন্তা করলাম যে করেই হোক না কেনও কাল আমি ওর সাথে কথা বলবো। পরের দিন আমি স্কুলে গেলাম। কিন্তু আজ নদী এলো না। কিছুটা অবাক হলাম যখন দেখলাম রোল কলে নদীর নাম ডাকা হচ্ছে না। পরে জানতে পারলাম নদী আবার ওর আগের স্কুলে ফিরে গেছে, O-level পড়বে তাই। প্রথম কয়েকটা দিন অনেক খারাপ লেগেছিল পরে সবকিছুই আগের মতো হয়ে গেছে।

আজ আমি বুঝতে পারলাম ভালো লাগাটা খুবই অদ্ভুত। তা না হলে আমি কেন আজও ওকে ঠিকই চিনতে পারলাম। নদীর সাথে আমার পরিচয় ৫ দিন ১২০ ঘণ্টার। এই অল্প সময়ে ওর হয়তো আমাকে ভুলে যাওয়ার কথা, তাইতো ও আজ আমাকে চিনতে পারলো না। এভাবে নদীর সাথে আবার দেখা হয়ে যাবে আমি কখনোই ভাবিনি। যাই হোক শেষ পর্যন্ত ওর সাথে আমি কথা বলতে পেরেছি। এটা অনেক আনন্দের।
:গোলাপ:

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “পাঁচ দিন ১২০ ঘণ্টা

  1. কেবল নিখাদ প্রশংসা না করে
    কেবল নিখাদ প্রশংসা না করে একটু সমালোচনা করি ? আপনার লেখার বিষয় টিনেজ লাভ,যেটা বেশ দূর্বল । লেখনীও অনেক দূর্বল । অনলাইন সাহিত্যও কিন্তু অনেকদূরে এগিয়ে গেছে! আশা করি আমার মন্তব্য পজিটিভলি নিবেন । আরো ভালো লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 49