লিপস্টিক ফ্যাসিজম / সামান্থা মিলার

ছবিঃ লানা লকতেফ, সুইডেনের স্টকহোমে একটি আইডেনটারিয়ান আইডিয়াজ কনফারেন্সে

যখনই তারা [দি লেফট] আলট্রা-রাইটের ব্যাপারে কথা বলে, তারা এমনভাবে কথাটা বলে যেনো স্রেফ বেইজমেন্টে থাকা কিছু ব্যাটাছেলের ব্যাপারে কথা বলছে। তারা সংযুক্ত করে না যে এই লোকগুলার বৌ আছে — সমর্থনশীল বৌ, যারা এইসব মিট-আপ আর কনফারেন্সে যায় — যারা সেখানে আছে — সুতরাং আমি মনে করি ডানপন্থী নারীদের জন্য নিজেদেরকে প্রদর্শন করা খুব ভালো। আমরা আছি এখানে। তোমরা ভুল। – লানা লকতেফ, রেড আইস টিভির কো-হোস্ট

আমরা যখন আলট্রা-রাইট ইনসার্জেন্সির কথা ভাবি, আমরা সাধারণত কল্পনা করি রিচার্ড স্পেন্সারদের একটা সেনাবাহিনীকেঃ অ্যাংরি হোয়াইট মেন, ফ্যাশি চুলের কাটিং, মার্চ করে চলেছে পেপ দা ফ্রগের ব্যানার নিয়ে। কিন্তু এই ইমেজে বাদ পড়ে চরমপন্থী ডান রাজনীতির একটা যথেষ্ট পরিমাণে বড়ো এবং ক্রমবর্ধমানভাবে উচ্চকণ্ঠ অংশঃ নারী।

তাদের পুরুষদের মতোই, এই শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ও নব্যফ্যাসিস্ট নারীরা প্রত্যাখ্যান করেন তা যাকে তাঁরা বলেন ‘সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদের আধিপত্য,’ বামপন্থীদেরকে কার্ল মার্ক্স ও লেনা ডানহামের সন্তান হিসেবে পোর্ট্রে করার মাধ্যমে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটা শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী ভাগাড়ে পরিণত করতে চায় ইহুদি স্বার্থে পরিচালিত হয়ে যা প্রমোট করে আন্তঃবর্ণ-মেলামেশা, নারীবাদ, ও যৌনসুখবাদ।

এই আলট্রা-রাইট নারীরা আন্দোলনের পিতৃতান্ত্রিক ও বিদেশিবিদ্বেষী রেটোরিকে একটা মেয়েলি টুইস্ট যোগ করতে চায়, প্রথাগত জেন্ডার ভূমিকা এবং সৌন্দর্যের পুরনোধাঁচের আদর্শগুলোতে জোরারোপ করার মাধ্যমে। তারা গত শতাব্দীর মধ্য ভাগের নিউক্লিয়ার পরিবারকে প্রমোট করে, ওবেরগ্রাপেনফুয়েরার জন স্মিথের সম্পূর্ণ-শ্বেতাঙ্গ, আমেরিকান নাজি পরিবারকে অনুকরণ করার স্বপ্ন দ্যাখে, যাকে দ্যাখা যেতো সায়েন্স-ফিকশন শো দি ম্যান ইন দি হাই ক্যাসলএ।

এভাবে আলট্রা-রাইট স্বাভাবিকীকৃত করতে চায় তাকে যা শুধু নিপীড়ণমূলকই নয়, প্রথাগতও বটে, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক ভূভাগে এর সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ যতো শকিংই হোক না কেনো, মতাদর্শটা মূলত রিসাইকল করা।

মেইক প্যাট্রিয়ার্কি গ্রেট এগেইন

লানা লকতেফ আলট্রা-রাইটে সবচে প্রমিমেন্ট নারী। ব্যুৎপত্তিগত রুশ-আমেরিকান, তিনি দাবি করেন তার পরিবার পূর্ব ইওরোপের ‘বলশেভিজম’ ছেড়ে পালিয়েছে, এবং চলে গেছে চিনে যেখানে থাকতেন তার বাবা। মার্কিন উত্তরপশ্চিমে বেড়ে ওঠা, লানা লিবার্টারিয়ান আর এনার্কিস্ট ছিলেন শুরুতে, পরে ধর্মান্তরিত হয়েছেন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদে।

লকতেফ তার স্বামী হেনরিক পামগ্রেনের সাথে একটা শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী টক শো কো-হোস্ট করেন। “আলট্রা-রাইটের সিএনএন” খ্যাত, রেড আইসের সদরদপ্তর সুইডেনে, যেখান থেকে আলট্রা-রাইটের উল্লেখযোগ্য নেতা এসেছেন। এই দম্পতি তাদের যাবতীয় সময় ব্যয় করেন ‘সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী’ এজেন্ডা ‘এক্সপোজ’ করার কাজে, যাকে তারা ডিফাইন করেন অ্যাকাডেমিক এবং কালচারাল এলিটদের একটা ‘মেটা-পলিটিকাল স্ট্রাগল’ হিসেবে যা বহুসাংস্কৃতিকতার পক্ষে শ্বেতাঙ্গ সভ্যতাকে সাবভার্ট করতে চায়।

আলট্রা-রাইট নারীটি ফেমিনিজমকে “হলিউড থেকে আসা উন্মত্ত র‍্যাডিকাল বামপন্থী স্টাফে” অবনমিত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন ফেমিনিস্ট নারীরা পুরুষদেরকে আঘাত করে চলে নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করার জন্য। তিনি মনে করেন ফেমিনিজিম সংস্কৃতিকে টেলিভিশন থেকে বিদ্যায়তনে নিয়ে এসেছে, স্কুলের যাবতীয় বস্তুগত চিন্তাকে ক্রিপটো-মার্ক্সিস্ট প্রোপাগাণ্ডায় পরিণত করেছে। এটা ব্যাখ্যা করে, কেনো অধিকাংশ অত্যুৎসাহী ডানপন্থী নারী হোমস্কুলিং সমর্থন করেন এবং বিরোধিতা করেন পাবলিক এডুকেশনের।

লকতেফ ফেমিনিজমকে শেষাবধি আত্মকেন্দ্রিক হিসেবে দ্যাখেন, কারণ এটা নারীর স্বায়ত্তশাসনে আলোকপাত করে, পরিবারের পরিবর্তে। ভোটাধিকার আন্দোলন এই ট্রেণ্ডটা চালু করেছিলো “পরিবার প্রতি ভোটের” বদলে “নারী প্রতি ভোটের” নীতি চালু করে। স্বামীস্ত্রীর একত্রে ভোট দেয়ার কথা ছিল, এবং প্রত্যেক নারীকে তার ভোটাধিকার দেয়ার মানে হচ্ছে, সমাজে নিউক্লিয়ার পরিবারকে এর গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন থেকে বঞ্চিত করা, বলেন তিনি। এটা শুরু থেকেই বিভাজন তৈরি করেছে, “জঞ্জালসমতুল্য, মাদকাসক্ত” নারী কর্তৃক পরিচালিত একক-অভিভাবক নিবাসগুলোকে পথ করে দিয়ে। সেই দিনগুলি, যখন ঘরের পুরুষ উপার্জন করতো আর মা পালন করতো দায়িত্বশীল স্ত্রীর ভূমিকা, ছেলেমেয়েদের ফুটবল টিম তৈরি করে… চলে গেছে। আলট্রা-রাইট নারীরা শক্তপোক্ত পরিবার পুনর্নির্মাণ করতে চান, হেটেরোনরম্যাটিভ শ্বেতাঙ্গ পরিবার যাদের থাকবে ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ ও জেন্ডার ভূমিকা।

এই ধরণের পরিবার কাঠামো প্রাকৃতিক হায়ারার্কিরই প্রতিফলনঃ যদিও, যেমনটা স্বীকার করেন লকতেফ, নারীরাই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় রেইসটা আদৌ অগ্রসর হবে কীনা, তারা আসলে সহযোগিতামূলক এবং তাদেরকে অবশ্যই স্বীকার করে নিতে হবে পুরুষের তুলনায় তাদের নিম্নমানতাটা। একবার আপনি যদি বিশ্বাস করে ফেলেন পুরুষেরা জন্মই নেয় আধিপত্যশীল সেক্স হিসেবে, তাহলে পিতৃতন্ত্র হয়ে যায় প্রাকৃতিক, স্বাভাবিকীকৃত, এমনকি জরুরীওঃ নিম্নমানের নারীর “যত্ন নিতে হবে” পুরুষকে — যা বশ্যতার সুভাষণ মাত্র।

ইওরোপিয়ান পুরুষকে পোর্ট্রে করা হয় প্রাকৃতিকভাবেই বুদ্ধিমান আর শক্তিশালী রক্ষক হিসেবে, যারা সভ্যতা গড়েছে, খেটেছে পরিবারের জন্য। লকতেফ বিশ্বাস করেন সব নারী পুরুষালী শৌর্যবীর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, এবং তাই তাদের মেনে নেয়া উচিত সন্তান উৎপাদনকারী ও লালনপালনকারী হিসেবে তাদের ভূমিকাটা। আসলে, বাচ্চা নেয়া তো বাধ্যতামূলক। তারা যদি চায় তাদের ডানপন্থী উত্তরাধিকার টিকে থাকুক, শ্বেতাঙ্গ নারীকে বিয়ে করতে হবে তাড়াতাড়ি এবং বিশাল একটা পরিবার তৈরি করতে হবে।

ড্যানিয়েল ফ্রেইবার্গ — altright.comএর সিইও, এবং লকতেফ ও পামগ্রেনের অন্যতম রাজনৈতিক সহযোগী — ফ্যাশিস্ত অ্যাকটিভিস্টদের জন্য লেখা তার দি রিয়েল রাইট রিটার্নসএ এই উপদেশেরই প্রতিধবনি করেন। ফেইবার্গ একমত পোষণ করেন এই ব্যাপারে যে, নারী পুরুষ সমতার পুরাণ নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষতি করেছে — বিশেষত সেই পুরুষদের, চাকুরির বাজারে যাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় নারীদের সাথে।

তিনি যুক্তি দ্যাখান, নারী ও পুরুষের ভেতর “মৌলিক পার্থক্য” আছে যা “সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী” প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে দূর করা যাবে না, যার একটা হচ্ছে নারীর মর্মবস্তুগতভাবেই অরাজনৈতিক অবস্থান। ফেমিনিজম একমাত্র ব্যতিক্রম দ্যাখ্যায়, কিন্তু, “এটা সেই ব্যতিক্রম যা নিয়মেরই প্রমাণ মাত্র”। ডানপন্থী নারীরা যে যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিনিধিত্ব পায় না, তার কারণও এটাই, তাদের স্থান তো ঘরে। নারীদের কখনোই পুরুষদের মতো কাজ করার চেষ্টা করা ঠিক নয়, বা পুরুষদের পুরুষালি বৈশিষ্ট্যগুলো চুরি করা।

কিন্তু লকতেফ ফ্রেইবার্গের দু লিঙ্গের ভেতরে করা কঠোর ফারাকের সাথে যুক্ত করেন কিছু। তিনি বিশ্বাস করেন, ডানপন্থী নারীরা, নিজেদের অধীনস্ততা আত্মস্থ করার পাশাপাশি, তাদের নারীত্বকে ব্যবহার করতে পারে বামপন্থাকে সাবভার্ট করার কাজে। ভার্চু অফ দি ওয়েস্টএর একটি পর্বে, লকতেফ যুক্তি দ্যাখান, যেহেতু নারী বক্তারা কাউকে “শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না”, তারা কাজটা আরো ভালোভাবে করতে পারে “ভাষার মাধ্যমে”।

“শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা” হিসেবে অভিবাসন

বর্ণবাদের অভিযোগ লকতেফকে আর আহত করে না। বরঞ্চ, তিনি বলেন, “আমাকে এতো বেশি নামে ডাকা হয়েছে যে এটা আসলে এখন আমাকে শক্তিশালী করে তোলে, কারণ আমি আমার সমালোচকদেরকে আমার ফুটস্টল হিসেবে ব্যবহার করতে পারি, তাদের ওপর পা রেখে হাসতে পারি খিলখিল করে।” রেড আইসে তার আলোচনাগুলো পরিপূর্ণ থাকে বহুসংস্কৃতিবাদ, অভিবাসী, এবং বিশেষত মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রোশমূলক বক্তব্যে, যাদেরকে তিনি কপটের মতন বানান বলির পাঁঠা। তিনি ভুলভাবে অভিযোগ করেন যে ইওরোপ জুড়ে সন্ত্রাসের উত্থানের জন্য শরণার্থীরা দায়ী, তাদেরকে বর্ণনা করেন “অলস লোক, জনকল্যানমূলক অফিসে হামলে পড়ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে ইনসেনটিভের সন্ধানে” হিসেবে।

তিনি মুসলমান অভিবাসীদেরকে ডাকেন “অনুপ্রবেশকারী আগ্রাসক” হিসেবে, যাদের কোনো সম্মান নেই শ্বেতাঙ্গ নারীদের প্রতি। এই অভিযুক্ত হুমকির বিরুদ্ধে, লকতেফ নারীদের বলেন একটা বর্ণ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতেঃ “এই লোকগুলো নিজেদের জীবন বিপন্ন করছে সেইসব দেশে আসার জন্যে যা পুরুষেরা আমাদের জন্য তৈরি করেছে। আমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তুত হতে হবে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য।” তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ

নন-ইওরোপিয়ানদের গণ অভিবাসন কি সুইডেনকে একটা বেটার প্লেসে পরিণত করেছে, নিরাপদতর সড়ক আর অধিকতর সুযোগসুবিধাসম্বলিত? জবাবটা তো জানাইঃ এটা একটা বিশাল মোটা “না”। আমরা একটা সরল সমাধান দেইঃ ইওরোপিয়ান দেশ ইওরোপের জনগণের জন্য। যদি তুমি আমাদেরকে পছন্দ না করো, গেট আউট।

এই অনুভূতিগুলো, সম্প্রতি দুর্ভাগ্যবশত যার প্রতিধবনি তুলেছেন ডাচ পিএমও, ইনসার্জেন্ট ইওরোপিয়ান রাইটের উত্থানের আলামত। লকতেফ ধারাবাহিকভাবে এই রেটোরিকের আরেকটা এসপেক্ট নিয়ে আসেন, যা নারীদের বিরুদ্ধে অভিবাসী সহিংসতার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করেঃ

যদি সেইসব নারী, যাদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে, একসাথে দাঁড়ায় এবং তাদের কথা শুনতে বাধ্য করে মানুষকে যে তারা অভিবাসীদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে (জোরারোপ করেছেন লেখক এবং সেইসূত্রে অনুবাদক), এটা মুহূর্তের মধ্যে তুলে নিতে পারে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ব্যাপক কাভার-আপকে।

তিনি এটা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন যে, ইওরোপ জুড়েই শরণার্থী গৃহগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে জার্মানিতে।

লকতেফের জন্য, শ্বেতাঙ্গ আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী ষড়যন্ত্র গণ অভিবাসনকে গতিশীল করছে। মার্ক্সবাদের গোপন পরিকল্পনা হচ্ছে “শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা”, যা বাস্তবায়িত হবে সীমান্ত-খুলে-দেয়া নীতির মাধ্যমে, যা সমরূপশীল শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়সমূহের ধবংস নিশ্চিত করবে। তিনি যুক্তি দ্যাখান, সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদের মেটা-পলিটিকাল যুদ্ধ শ্বেতাঙ্গ জনগণকে অনুশোচনা বোধ করার ফাঁদে ফেলেছে, যা পরিণতি পাচ্ছে শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের ওপর অন্যান্য পরিচয়কে জোরপ্রদানে।

আলট্রা-রাইট, কেভিন ম্যাকডোনাল্ড থেকে লকতেফ পর্যন্ত, বিশ্বাস করেন যে মার্ক্সবাদের লোকদ্যাখানো ইগালিটারিয়ানিজম শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী বায়াস আড়াল করার একটা মুখোশ মাত্র, যা শ্বেতাঙ্গ জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। মফস্বলের একটি আদর্শ ঘর যা “একটি শ্বেতাঙ্গ পিকেট ফেন্স দ্বারা ঘেরাওকৃত, তাকে বেচে দেয়া হয়েছে, একটা ছোটো, কার্বন-নিরপেক্ষ অ্যাপার্টমেন্টের কাছে, একটি মিশ্র পাড়ায়, যা গিজগিজ করছে অভিবাসীতে,” বলেন লকতেফ। সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদ শ্বেতাঙ্গ পুরুষকে বঞ্চিত করেছে পুরুষত্বের ভূমিকা ও সুখ থেকে, তাদেরকে রূপান্তরিত করেছে মেয়েলিকৃত “দ্বিতীয় শ্রেণীর পুরুষে”, যারা “স্কিনি জিন্স পরে যেখানে ল্যাখা থাকে ‘স্বাগতম শরণার্থীবৃন্দ'”।

লকতেফের বর্ণবাদী সেনসেশনালিজমের বিপরীতে, সুইডিশ ক্রাইম সার্ভে অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে যৌন অপরাধের সংখ্যা কমবেশি অপরিবর্তিতই আছে। যৌন অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রতিবেদনের সাথে গণ অভিবাসনের কোনো বৈধ সম্পর্ক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা যায় নি; বরঞ্চ, ধর্ষণের সংজ্ঞাকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা প্রতিবেদনের ক্রমবর্ধমানতার যথার্থ কারণ।

তদুপরি, সুইডিশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ক্রাইম প্রিভেনশন অনুসারে, অধিকাংশ সন্দেহভাজন অপরাধীর জন্মই সুইডেনে এবং তারা এসেছে সুইডিশ অভিভাবক হতেই। বিদেশি ব্যাকগ্রাঊণ্ডের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের সাথে সামান্য সম্পর্কই আছে। এই সার্ভেগুলো বলে, অধিকাংশ অপরাধই আর্থসামাজিক, বর্ণবাদী মোটিভেশনে সংঘটিত নয়।

অবশ্যই, লকতেফ এই আবিষ্কারগুলোকে উড়িয়ে দিতে পারেন, সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী ষড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে। বরঞ্চ, তিনি ধর্ষণ এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাগুলোকে এমন এক সামগ্রিক প্যাটার্নের প্রমাণ বলে দাবি করেন যার আসলে কোনো অস্তিত্বই নেই।

সৌন্দর্য নিয়ে কুৎসিত অবসেশন

লকতেফের মতে, নারীদের মাথায় থাকে তিনটি জিনিশ যা কখনোই অদৃশ্য হয়ে যাবে নাঃ সৌন্দর্য, পরিবার, ও গৃহ। এই মূল্যবোধগুলো গঠন করে সেই শাঁসটুকু যা ডানপন্থী নারীদের কাছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে করে তোলে এতোটা প্রিয়। আলট্রা-রাইটে, সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করা হয় — এমনকি যার ব্যাপারে অবসেশনকেও গ্রহণযোগ্য করা হয় — সেই প্রাথমিক শক্তি হিসেবে যার ভেতর দিয়ে একজন নারী তার সেরা জীবনটা যাপন করতে পারে।

এই মতাদর্শের একটা ছদ্মবৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। আর্গুমেন্টটা হচ্ছে নারীরা বায়োলজিকালিই এমনভাবে তৈরিকৃত যে তারা এমন সঙ্গী খুঁজবে যে তাদেরকে আমৃত্যু নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ দিতে পারে। এই নিশ্চিত করার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে, পুরুষের চোখে নিজেকে শারীরিকভাবে যতোটা সম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলা।

প্রায় প্রতিটি সাক্ষাৎকার আর বক্তব্যে, লকতেফ জোর দিয়ে বলেছেন, আলট্রা-রাইট লোকজন কতোটা “সুন্দর” আর “আকর্ষণীয়” :

তাঁরা সপ্রতিভ, রূপবতী নারী যারা এটা বোঝে যে গণ অভিবাসন কাজ করছে না… জাতীয়তাবাদ হয়ে উঠেছে সেই পুরুষ যাকে সব নারী পেতে চায়। সব মেয়েরা সেই ছেলেকে চোখ মারতে শুরু করেছে যে একজন জাতীয়তাবাদী… ইওরোপিয়ান জাতীয়তাবাদীরা এবং আলট্রা-রাইটরা একটা খুবই আকর্ষণীয়, খুবই সেক্সি গোষ্ঠী। এটা আসলে একটা ইউজেনিক প্রক্রিয়া। সুন্দর দম্পতির জোড়া তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এখন সময় বংশবৃদ্ধির।

নিটশেকে অনুসরণ করে, লকতেফ এবং আলট্রা-রাইটরা মূল্যবোধের একটা পুনর্মূল্যায়ন চান যা সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদকে প্রতিস্থাপন করবে ঐতিহ্যবাদিতা দিয়ে। তারা মনে করেন মার্ক্সবাদ সত্য আর সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই আর্গুমেন্ট অনুসারে, প্রকৃতি কিছু লোককে অন্যদের চেয়ে উন্নততর করে বানিয়েছে, যা উৎপাদন করে চলেছে সামাজিক “উইনার” আর “লুজারদেরকে”। এখন, লুজাররা দল বাঁধছে সম্ভ্রান্ত আর অভিজাত উইনারদের ছিঁড়ে ফেলতে।

আলট্রা-রাইটরা বিশ্বাস করে বামপন্থী আন্দোলনের পুরোটাই পরিচালিত হয় ঈর্ষার মাধ্যমে। লকতেফ ফেমিনিজমকে অধঃপতিত করে বলেছেন, “কুৎসিত মানুষের পক্ষের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে, যুক্তি দেখিয়েছেন যে “বামপন্থীরা কুৎসিত, মোটা-দের পক্ষের নারীবাদীদেরকে সৌন্দর্যের আদর্শ হিসেবে দাঁড় করায় এবং বলে যে মেয়েলি পোষাক পরা বা সে যে সমকামবিদ্বেষী নয় তা প্রমাণ করতে মাঝেমধ্যে অন্য ব্যাটাদের সাথে সেক্স করা একজন স্বামীর জন্য খুবই প্রাকৃতিক।”

তার হ্যাণ্ডবুকে, ফ্রেইবার্গে এই পয়েন্টগুলোকেই পুনরুল্লেখ করেছেন, এক প্রকার ফ্যাশিস্ত ফেমিনিনিটিকে মহিমান্বিত করার জন্য। আলট্রা-রাইট নারীদেরকে দেয়া তার সদোপদেশগুলো হচ্ছে অনেকটা এরকমঃ

নিজেদের নারীত্বের যত্ন নাও। অনুভব করো যে তোমার নারীসুলভ বৈশিষ্ট্যগুলোই তোমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। যত্ন নাও আর বিকাশ ঘটাও সেগুলোর। সেগুলোই তোমার প্রধান অস্ত্র সেই নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতায় যা গঠন করে প্রাকৃতিক নির্বাচন, এবং পুরুষের সাথে আন্তঃযোগাযোগে এটাই তোমার প্রাথমিক শক্তি।

লিপস্টিক ফ্যাসিজম

লকতেফের যুক্তিগুলো অ-যুক্তি। বর্ণই হোক আর জেন্ডারই হোক, এর পেছনে কোনো এমপিরিকাল ব্যাকিং নেই। তিনি দাবি করেন, নিষ্পাপ শ্বেতাঙ্গ লোকেরা ক্রমবর্ধমানভাবে স্বীকার হচ্ছে বায়োলজিকালি ইনফেরিয়র সাবহিউম্যানদের হাতে, যা নিকৃষ্টতম নাজি প্রোপাগাণ্ডার পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্ণের প্রশ্ন যখন আসে, তিনি নির্ভর করেন গ্রস স্টিরিওটাইপিং আর বলির পাঁঠা অনুসন্ধানে; যখন আসে জেন্ডারের প্রশ্ন, তিনি শরীরসংস্থাপনকে বানান নিয়তি। তিনি বিশ্বাস করেন, যেই লোকগুলো সেক্স থেকে জেন্ডারকে ডিসকানেক্ট করে, এরা গভীরভাবে বিভ্রান্ত, মার্ক্সবাদী প্রোপাগাণ্ডার মগজধোলাইয়ের শিকার। জেন্ডারের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্ডার, কুচে, কির্শে (শিশু, পাকঘর, চার্চ) রেটোরিকের একটা পুনরুত্থান মাত্র, যা এসেছে ১৯৩০এর জার্মানি থেকে।

লকতেফ দাবি করেন, তিনি শুধুই তার সতীর্থ শ্বেতাঙ্গ ইওরোপিয়ানদের সাথে সুখে বসবাস করতে চান, যুক্তি দ্যাখান সব রেসের মানুষের যদি পরস্পরবিচ্ছিন্ন হয়ে বাঁচে, দুনিয়াতে সহিংসতা কমে আসবে। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, কিভাবে আমরা তেমন একটি সমাজে পৌঁছাব, সে সম্পর্কে তিনি কখনোই কোনো দিকনির্দেশনা দেন না — কিন্তু ইতিহাস থেকে আমরা জানি সম্পূর্ণ-শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্র তৈরির যে-কোনো প্রয়াস দ্রুত জাতিগত শুদ্ধি অভিযান ও গণহত্যায় পর্যবসিত হয়। যে কোনো ধরণের আন্তর্জাতিকতাবাদ বা অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরুদ্ধে, লকতেফ ও তার মতো লোকেরা হিউম্যানিটিকে দ্যাখেন একটা সকলের বিরুদ্ধে সকলের হবসিয়ান যুদ্ধ হিসেবে। তার রাজনীতি প্রাণীবিজ্ঞানের প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়, যেখানে হিউম্যানিটির সমস্ত ধারণা নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়, এবং বাকি থাকে স্রেফ যুদ্ধরত নানান জন্তুর সাবস্পেসিজেরা।

কিন্তু এটা নতুন কিছু নয়ঃ লানা লকতেফের নারীকৃত রাজনীতির পেছনে আছে সেই পুরনো স্ফীত, বিয়ার-গেলা স্টর্মট্রুপার যে “বর্ণগত অবক্ষয়ের” শক্তির হাত থেকে শ্বেতাঙ্গ নারীকে রক্ষা করার ভয়ংকর পুরুষালি ফ্যান্টাসি পোষণ করে। একদা যা ছিল “ইহুদি বলশেভিজমের” হুমকি আজ তা হয়ে গেছে “সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদের” হুমকি। এর আসা উচিত নয় বিস্ময় হিসেবেঃ আফটার অল, জার্মান ভাষা “alt” মানে “পুরনো”।

লেখক পরিচিতিঃ সামান্থা মিলার, সম্প্রতি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, শিক্ষকতা করছেন ম্যানহাটনে।

(মূল লেখাটি ইংরেজিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক ম্যাগাজিন জ্যাকোবিনের ৪ এপ্রিল ২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে, পাওয়া যাবে https://www.jacobinmag.com/2017/04/alt-right-lana-lokteff-racism-misogyny-women-feminism/এ।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 8 = 17