যেদেশে ধনি হওয়া সহজ, গরীব হওয়া কঠিন-পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামাল

সময়টা ২০০৫ ছোট ভাই শিপন নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান বয়স মাত্র সাত স্বপ্ন মোটর বাইক কিনবে সারাদিন বাইক চালিয়ে বেড়াবে এভাবেই মনের ভেতর স্বপ্ন বুনতে বুনতে দিন শেষে ঘুমাতে গেল মাটির তৈরি টিনের চালা বেষ্টিত ঘরের এক কোনায় ছোট্ট একটি চৌকির উপর। নিঁচু চৌকি হওয়ায় উঁচু করার জন্য কয়েকটা ইট দেয়া। সারাদিন কল্পিত স্বপ্ন ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো। শুরু হল ঘুমের মধ্য তার কল্পিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন যথারীতি বাইক কিনে স্টার্ট করতে লাগলো পা উঁচিয়ে মুখে শব্দ করে ভু-ভু-ভু। মুহূর্তের মধ্যেই চৌকির নিচে পরে গেল চোখটা পরলো ইটের উপর। নেয়া হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

“যেখানে আপনার একটা স্বপ্ন আছে” স্লোগান সংবলিত পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের হাজারো স্বপ্ন দেখানো মন্ত্রী লোটাস কামালের কাছে গরীব হওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন, ধনী হওয়া সবচেয়ে সহজ শত চেষ্টা করেও তিনি গরীব হতে পারেন নাই। মন্ত্রীর এহেন কথায় অতি সহজে ধনী হবার স্বপ্ন দেখতে যারা শুরু করেছে উপরের গল্পটা তাদের উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গ:
গতকাল মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলনে, “পৃথিবীতে ধনী হওয়া সবচেয়ে সহজ। ৮৫ বছর পরে দূরবীণ দিয়ে দেশে গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে কঠিন কাজ গরিব হওয়া। আমিও গরিব হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, পারি নাই।” তিন জোড় গলাই পুনরায় বলেন, “একমাত্র ধনী হওয়া পৃথিবীতে সহজ কাজ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ব্যবসাবান্ধব দেশ। এখানে ইচ্ছা করলেই জমিসহ কারখানার মালিক হওয়া যায়। অথচ পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে জমির মালিক হওয়া যায় না। সব কিছুই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লিজ নিয়ে করতে হয়। ব্যবসার সব বিষয়ে বাংলাদেশে নিরাপত্তা ভালো।”
আমাদের এই বাংলাদেশে কত সহজে ধনী হওয়া যায়, কত সহজ সম্পদের মালিক হওয়া যায়, কত সুন্দর ব্যবসা বান্ধব এদেশ, এত সহজে পৃথিবীর কোথায় জমির কারখানার মালিক হওয়া যায় না। মহান মুক্তিযুদ্ধে এরকম প্রত্যাশাই তো আমাদের ছিল সবাই সমান থাকবো, দেশের জনগন থাকবে সবকিছুর মালিক, কেউ গরীব থাকব না ( অর্থ্যাৎ কেউ খাব কেউ খাব না তা হবে না) জমি কল-কারখানার মালিক হবে জনগন।

মাননীয় মন্ত্রী সাহেব ভুল বলেন নাই এ দেশে সহজে ধনি হওয়া যায়, সহজে সম্পদের মালিক হওয়া যায়, সহজে ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়া যায় এখানে গরীব হওয়াটা বড্ড কঠিন (যেটা মন্ত্রী সাহেব ও পারেন নাই)
কারন এই সহজে মালিক হবার সুযোগটা মন্ত্রীদের, সহজ কোটিপতি হবার সুযোগটা শুধু আমলাদের গুটিকয়েক লেজুর বৃত্তি করা মালিকের। হাজার মানুষের পুজি খুইয়ে কত সহজে শেয়ার বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করে সুইচ ব্যাংকে রাখার সুযোগ এটা শুধু যে আপনাদের, সালমান এফ রহমানের।

সোনালি ব্যাংকের ( হলমার্ক কেলেঙ্কারি) ৪০০০ কোটি টাকা লুটপাট আপনাদের কাছে সামান্য টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ সহ অসংখ্য লুটপাট। ফ্লাইওভার নির্মাণে বিশ্বে যেখানে প্রতি কি.মি. ৪০-৬০ কোটি বাংলাদেশে ২১০ কোটি, মহাসড়ক নির্মাণে বিশ্বে প্রতি কি.মি. ১৫-২৮ কোটি এদেশে ৫৯ কোটি (ঢাকা-মাওয়া ৯৫ কোটি) রেলপথ নির্মাণে বিশ্বের আদর্শ ব্যয় প্রতি কি.মি. ২৩-২৮ কোটি বাংলাদেশে সেখানে ২০০-২৫০ কোটি এখান থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট। মালিক হওয়া এখানে কত সহজ। এদেশে সর্বোচ্চ ট্যাক্স দেয় জর্দা ব্যবসায়ী কাউস মিয়া আর বিশ্ব সেরা ধনি হয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

গত ৩০ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এনএসি সম্মেলন কেন্দ্রে( লোটাস সাহেব যেখান থেকে বললেন সেই একই যায়গা) এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে প্রাক-বাজেটে উচ্চ শিক্ষায় টিউশন ফি পাঁচ গুণ বৃদ্ধির কথা বলেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “উচ্চ শিক্ষায় অর্থাৎ সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজসহ স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করা হবে, দেখি কি হয়।”
এদেশে শিক্ষা বাজেটে টাকা নাই (এ জন্য ফি বৃদ্ধি) তবে অস্ত্র কেনার টাকা আছে কেননা বন্ধুকের নলই যে ক্ষমাতায় ঠিকে থাকবার একমাত্র অবলম্বন।

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী (গত ৯ মার্চ সংসদে বক্তব্যে)

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনও প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। আমরাই প্রথম বেসরকারিখাতে প্রাইভেট টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দিয়েছি বলেই তারা (সমালোচক) এতো কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই তো উন্নয়ন হচ্ছে। আজকে আমরা গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে সরকার পরিচালনা করছি বলেই তো দেশের উন্নয়নটা হচ্ছে। আপনারা রাস্তায় যানযটের কথা বলেন উন্নয়ন না হলে এতো গাড়ি আসলো কোথা থেকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ স্নাতকধারী তরুনের বেকারত্বের হাহাকার, রাস্তার পাশে খোলা আকেশের নিচে শত শত মানুষের বসবাস, হাজার হাজার পথশিশু, পানিবিহীন উত্তরবঙ্গের কৃষি জমি পরিণত হচ্ছেমরুভুমিতে। উন্নয়নের জোয়ারে এগুলো আপনাদের চোখে পরবে না। আমরা চাই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজ আর আপনার কিনেন অস্ত্র। আমরা যুদ্ধ নয় শান্তি চাই আমরা অস্ত্র নয় বেঁচে থাকার নুন্যতম হলেই অধিকার চাই।

গৌরীশংকর বলেছিলেন “আমি যাহা বুঝি না, তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে”।
যারা বোঝে লুটপাট যারা বোঝে ক্ষমতা তাদের কাছে এগুলো তুলে ধরা আর কপটতা শেখানো ছাড়া কিছু না।

আল আমিন হোসেন মৃধা
সভাপতি
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
ঢাকা কলেজ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =