প্লাবিত হাওড়ঃ ফসল নয় কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে

কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের বিরাট অঞ্চল। হাওড়ের জনগন তাদের সমস্ত অবলম্বন হারিয়ে ফেলছেন।তারা এখন দিশেহারা। হাওড়ের জনগনের পাশে দাঁড়ানোর মত কেউ নেই।

সোমবার বিকাল পর্যন্ত শিলা ও বাধ ভেঙ্গে সিলেটের চার জেলায় মোট ৭৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমি ডুবে গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেই ৪৩ হাজার ৩১৫ হেক্টরের বোরো ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট জেলা। হাওড়ের পানি যতই বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ততই বাড়ছে। হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ ঠিকিয়ে রাখতে স্বেচ্ছা শ্রমে বাঁচা-মরার লড়াই চলছে। ঢল, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সিলেট বিভাগের ২৭ টি উপজেলার হাওড়াঞ্চলে এখন হাহাকার।(সূত্রঃইত্তেফাক)

চলতি মৌসুমের ২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে লাগানো বোরো ধানের মধ্যে ৬০ ভাগই প্লাবিত হয়েছে।হাওড়ের কৃষকদের এই ধান ছাড়া আর কোন ফসল প্রধান ভাবে হয় না।সেখানে কৃষকের স্বপ্ন বলতে বোঝায় ধানের ভালো ফলনকে। আর সেই ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।তাদের পাশে দাড়ানোর মত কোন জনপ্রতিনিধিকে এখনো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

হাওড়ের কৃষকদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজের জন্য এই ফসলের উপর নির্ভর করতে হয়।তাদের ছেলেমেয়ের পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিজের সারাবছর খাবারে যোগার এই ফসল থেকেই আসে।কিন্তু সেই ফসল আজ নষ্ট হয়ে গেল।সারাবছর তারা কি করে চলবেন তার কোন ব্যবস্থা নেই।বউ বাচ্চাদের কি খাওয়াবেন, কিভাবে ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চলবে(কিছুদিন আগেই অর্থমন্ত্রী পাব্লিক শিক্ষাখাতে বেতন পাঁচ গুন করার কথা বলেছেন) সেই সব চিন্তায় কৃষকদের চোখে পানি। তারা কোনভাবেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফসল নষ্ট হওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না।ফসল নষ্ট হওয়ার ভেতর দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের বিরাট ক্ষতি হলো।এত ক্ষতিরর পরও কৃষি মন্ত্রীর কোন টনক নড়ে নি।হাওড়ের গরীব কৃষকদের কান্না তাদের কানে পৌছায় না।তারপরও তারা নিজেদের কৃষিবান্ধব ও কৃষকের বন্ধু হিসেবে জাহির করবেন।কোন ধরনের লজ্জা এদের নেই।এরা জনগনের স্বপ্নকে নিয়ে ব্যবসা করে।হাওড় প্লাবিত হওয়ার ভেতর দিয়ে সেখানকার কৃষকদের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে।আর এর দায় সম্পূর্ণ সরকার ও রাষ্ট্রের।

বাংলাদেশে বরাবরই কৃষকদের পাশে সরকার থাকে না।এখানকার সরকার গুলো কৃষক ও কৃষিকে ধ্বংস করার জন্য যত ধরনের প্রচেষ্টা আছে তা চালিয়ে যাচ্ছেন।মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে কৃষক ও কৃষির সামগ্রিক কোন উন্নয়ন এখানে হয় নি।হাওড়ের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের হাওড়ে বাঁধ ঠিকমত নির্মাণ করা হয়নি।বাঁধ নির্মানের টাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কন্টাক্টররা লুটপাট করেছে।আর বরাদ্দের টাকা লুটপাট করার ভেতর দিয়ে কৃষকদের ফসল রক্ষা বাঁধ ঠিকমত তৈরী করা হয়নি।কৃষকদের এই দাবিকে কোন ভাবেই বিরোধিতা করার সুযোগ নেই।আমাদের দেশের একটা কাজ হলে তার ৮০ ভাগ টাকা মন্ত্রীদের পকেটে যায় বাকি ২০ ভাগ দিয়ে নামমাত্র কাজ হয়।কৃষকরা ইতিমধ্যেই তাদের এই ক্ষতির জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তাদের এই প্রতিবাদ যৌক্তিক।

বাংলাদেশের কৃষিকে সাম্রাজ্যবাদীদের প্রেস্কিপশনে বহু আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।এখনো পর্যন্ত যা টিকে রয়েছে তাকেও ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে।কৃষি ঋনের নাম করে কৃষকদের উপর ঋণের বোঝা,এঞ্জিও শোষণ, জমি দখল থেকে শুরু করে কৃষক ও কৃষি ধ্বংসের আয়োজন বাংলাদেশ রাষ্ট্র করছে।ইকোনমিক জোনের নাম করে কৃষি জমিকে বেনিয়াদের মুনাফা লুটার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে উঠপড়ে লেগেছে বাংলাদেশ সরকার।বড় পুঁজিপতিদের সেবায় কৃষককে সর্বশান্ত করা হচ্ছে।

হাওড় থেকে শুরু করে সমগ্র দেশে কৃষি ধবংসের যে আয়োজন চলছে তাকে মোকাবেলা করা দরকার।দেশের সকল মানুষ এক হয়ে বাংলাদেশের কৃষিকে বাঁচাতে হবে।এর জন্য প্রয়োজন হবে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে কৃষি ও কৃষকবান্ধব এক নয়া সমাজব্যবস্থার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 66 = 69