৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই আনুষ্ঠানিক ইসলামী বাংলাদেশ?

ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে কি জাতীয় সংগীত গেয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে? সম্ভবত করা হয়নি। তাহলে কি ধরে নিবো ইসলামের সংগীত হারাম তাই সেটা এড়িয়ে গেছে সরকার? কিন্তু সৌদি ফুটবল টিমকে তো দেখেছি তাদের জাতীয় সংগীত গাইতে। নাকি বাংলাদেশের বিশেষ জাতীয় সংগীতেই সৌদি ও দেশী ওলামাদের আপত্তি? হাসিনা তো নিজের পার্টি সম্মেলনে কুরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি জাতীয় সংগীত বাজান। টেলিফোন করে রবীন্দ্র সংগীতের অনুরোধ করেন। আবার তাহাজ্জুতের নামাজ পড়েন। তাই খুবই কৌতুহলী বিষয় শেখ হাসিনার ইসলাম কেমন সেটা জানার। সেখানে কি রবীন্দ্র সংগীতের অনুমতি আছে? মন্দির-গির্জাতে তো রবীন্দ্র সংগীত গাইতে শোনা যায়। কীর্তনে নজরুলের শ্যামা সংগীত পরিবেশনা একটি কমন চয়েজ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্থপতির কন্যা। তার পিতাকে এদেশের মানুষ ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী’ বলে রায় দিয়েছে। শেখ হাসিনার উদ্বোধন করা ওলামা সম্মেলনে মসজিদে নববির খতিব আজকে বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা মুসলমান। কোনও দেশ, কোনও সমাজ ও কোনও সীমানা আমাদের বিভক্ত করতে পারে না। যেখানেই থাকি না কেন আমাদের বড় পরিচয় আমরা মুসলমান’।… শেখ হাসিনা এমন একটা সম্মেলন আয়োজন করে তার দেশের নতুন প্রজন্মকে ঠিক কোন পরিচয়টিকে তাদের জন্য গর্বিত বলে উৎসাহ দিচ্ছেন?

একটা জাতীয় সংগীত আর একটা পতাকা পাবার জন্য এদেশে ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে। ২ লক্ষ নারী সম্ভ্রম দিয়েছে। সৌদি থেকে সেসব ওলামারা এসেছেন এদেশে তারা তাদের দেশের নারীদের পশুর মত এক জীবন কাটাতে বাধ্য করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আজ আমরা সৌদি নারীদের সেই নিপীড়নের নানা অভিনব প্রতিবাদ করতে দেখি। সেই সৌদি ওলামারা যখন এদেশে এসে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক আগামীতে আরও মজবুদ হবে’ তখন আতংকিত না হয়ে পারি না!

ইসলামী ফাউন্ডেশন দাবী করেছে প্রস্তাবিত ৫৬০টি মসজিদ থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ বের হবে! শেখ হাসিনা কি নিশ্চিত হতে পেরেছেন প্রতি বছর এই সৌদি টাকায় হাফেজ বানানোর কারখানা তার বাবার আদর্শকে ধারণ করবে কিনা? বাউলদের ধরে চুল কেটে দিবে কিনা? ভাস্কর্য ভাঙ্গার জন্য রাস্তায় নামবে কিনা? ৫৬০টি মসিজদ সংলগ্ন ইসলামী লাইব্রেরিতে প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক ইসলামী বইপত্র পড়ার সুযোগ পাবে। কি আশ্চর্য, একদিকে র্যা ব-পুলিশ ‘জিহাদী বই’ সহ জঙ্গিদের ধরবে আবার সেই একই বই ইসলামী ফাউন্ডেশন ছাপিয়ে ৫৬০টি মসজিদের লাইব্রেরিতে ফ্রি পড়ার সুযোগ করে দিবে! আমার কাছে যতগুলো প্রসিদ্ধ সীরাত, হাদিস, তাফসির গ্রন্থ আছে তার সব ক’টার প্রকাশক ইসলামী ফাউন্ডেশন। তাই ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ সৌদি আলেমরা যখন সম্মেলনে দাঁড়িয়ে বলেন, ইসলামে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নেই তখন হাসি ছাড়া অক্ষমের আর কি-ই বা করার আছে?

সৌদি আরব সিরিয়ান আর ইরাকী শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছিল। জার্মানী সেইব শরণার্থীদের আশ্রয় দিলে সৌদি আরব জার্মানীতে কয়েক লক্ষ কুরআন পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। আর দুইশো মসজিদ নির্মাণ করে দেবার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছিল। যাতে এইসব সিরিয়ান-ইরাকী শরণার্থীরা জার্মানীতে সহি তরিকার ইসলামকে অনুসরণ করে নরক গুলজার করে ফেলতে পারে। বাংলাদেশসহ পাকিস্তান, মালদ্বীপের মত দরিদ্র মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে সৌদি আরব কোন ব্রিজ, কারখানা প্রতিষ্ঠা করেনি পেট্টডলার দিয়ে। হাজার হাজার মাদ্রাসা-মসিজদ নির্মাণ করে এই অঞ্চলগুলোতে তাদের অনুগত একপাল ইমাম-হাফেজ তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। সেই ফল হাতেনাতে মিলেছে। সৌদি ফ্যাক্টরী থেকে এতদিনকার উৎপাদিত প্রোডাক্টগুলো যখন মতিঝিলে হাজির হয়েছিল তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সেক্যুলার বাংলাদেশের মাটি দ্রুত নদী ভাঙ্গনের বাস্তবতাকে স্বীকার না করে উপায় ছিল না। ৪২ কোটি টাকার রেলের সম্পত্তি দিয়ে তাদের খুশি করা হয়েছিল। তাদের খুশি করতে ১৩ দফার অনেকগুলিই এখন বাস্তবায়িত। জাতির শিক্ষাক্রমকে সাম্প্রদায়িক বিবেচনায় পরিবর্তন ছিল সৌদি মিশনে উৎপাদিত ওলামা-মাশায়েখদের অন্যতম দাবী। সরকার সেই দাবীর কাছে নত স্বীকার করে দেশকে অতল অন্ধকারে পতিত করেছে…। ওলামা সম্মেলন ও ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা তাই নতুন করে হতাশ করেনি। শুধু অন্ধকারের গভীরতা অনুমান করতে আরো সাহায্য করেছে মাত্র…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই আনুষ্ঠানিক ইসলামী বাংলাদেশ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 81