বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে জঙ্গিদমনে-জঙ্গিধ্বংসে দেশ-জনতার পক্ষে আমাদের মাত্র ২১-দফা

জঙ্গিদমন করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। বিশেষতঃ যেকোনো গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি একটি সহজসাধ্য কাজ। আর রাষ্ট্রের অন্যান্য সাধারণ কাজের মতো এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে, রাষ্ট্র ও তার নির্বাচিত-সরকারকে শুধু আন্তরিক, সাহসী ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাহলেই ‘জঙ্গি’ নামক একশ্রেণীর ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় ও আরশোলাগুলো এদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। আর যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য এর সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে দমন করা অত্যন্ত সহজসাধ্য। তার কারণ, রাষ্ট্র হচ্ছে একটি বৃহৎপ্রতিষ্ঠান—আর এর অভ্যন্তরে সংগঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী হচ্ছে ক্ষুদ্রঅপশক্তি। এদের সঙ্গে কথা না বলে রাষ্ট্র ‘জঙ্গি’ নামক পশুদের মুগুর-পেটা করবে। আর রাষ্ট্র এভাবেই তাদের নিয়মিত মুগুর-পেটা করে ধ্বংস করে ফেলবে। আর এভাবেই তাদের মানুষ আর মানবতার স্বার্থে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। এখানে, নমনীয়তা কিংবা সহনশীলতাপ্রদর্শনের কোনো সুযোগ নাই। কারণ, জঙ্গিরা কোনো মানুষ নয়। তাই, এদের সমূলে উৎখাত ও চিরতরে ধ্বংস করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্র কোনোভাবেই এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। আর তাই, বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে জঙ্গিদমনে-জঙ্গিধ্বংসে দেশ-জনতার পক্ষে এখানে ভেবেচিন্তে কার্যকরী ২১টি দফা-ঘোষণা করা হলো:


বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে জঙ্গিদমনে-জঙ্গিধ্বংসে দেশ-জনতার পক্ষে আমাদের মাত্র ২১-দফা
সাইয়িদ রফিকুল হক

জঙ্গিদমন করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। বিশেষতঃ যেকোনো গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি একটি সহজসাধ্য কাজ। আর রাষ্ট্রের অন্যান্য সাধারণ কাজের মতো এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে, রাষ্ট্র ও তার নির্বাচিত-সরকারকে শুধু আন্তরিক, সাহসী ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাহলেই ‘জঙ্গি’ নামক একশ্রেণীর ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় ও আরশোলাগুলো এদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। আর যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য এর সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে দমন করা অত্যন্ত সহজসাধ্য। তার কারণ, রাষ্ট্র হচ্ছে একটি বৃহৎপ্রতিষ্ঠান—আর এর অভ্যন্তরে সংগঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী হচ্ছে ক্ষুদ্রঅপশক্তি। এদের সঙ্গে কথা না বলে রাষ্ট্র ‘জঙ্গি’ নামক পশুদের মুগুর-পেটা করবে। আর রাষ্ট্র এভাবেই তাদের নিয়মিত মুগুর-পেটা করে ধ্বংস করে ফেলবে। আর এভাবেই তাদের মানুষ আর মানবতার স্বার্থে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। এখানে, নমনীয়তা কিংবা সহনশীলতাপ্রদর্শনের কোনো সুযোগ নাই। কারণ, জঙ্গিরা কোনো মানুষ নয়। তাই, এদের সমূলে উৎখাত ও চিরতরে ধ্বংস করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক-রাষ্ট্র কোনোভাবেই এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। আর তাই, বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে জঙ্গিদমনে-জঙ্গিধ্বংসে দেশ-জনতার পক্ষে এখানে ভেবেচিন্তে কার্যকরী ২১টি দফা-ঘোষণা করা হলো:

দফা—১. বাংলাদেশরাষ্ট্রের চিরশত্রু-পাকিস্তানের দালাল, জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কোচিং-সেন্টারসমূহ সমূলে উৎখাত করতে হবে। আর এগুলো নির্বিচারে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্বার্থে চিরতরে এসব বিষবৃক্ষের শিকড় কেটে ফেলতে হবে। আর সোজা কথায় এগুলো চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবিরকেও চিরতরে নিষিদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

দফা—২. জামায়াত-শিবিরের অর্থলগ্নিকারী সকল লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয় রাষ্ট্রের মালিকানায় নিয়ে আসতে হবে—আর নয়তো তা সমূলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থে জামায়াত-শিবির পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকানা চিরস্থায়ীভাবে সরাসরি রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। আর এগুলোকে রাষ্ট্রের সম্পদ বলে গন্য করতে হবে—আর এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অতিদ্রুত একটা-একটা করে জামায়াত-শিবিরের লোকদের ঘাড় ধরে বের করে দিতে হবে।

দফা—৩. জঙ্গিউৎপাদনকারী কওমীমাদ্রাসা, আলিয়া-মাদ্রাসা, কথিত-ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, জঙ্গিবাদের বীজরোপণকারী চিহ্নিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন—নর্থসাউথ, ইস্টওয়েস্ট, দারুল ইহসান, এশিয়া, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি) চিরতরে বন্ধ ও নিষিদ্ধ করতে হবে। আর এগুলো সমূলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। দেশ, জাতি ও মানবতার স্বার্থে এইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-নামের আবর্জনাসমূহ চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। আর রাষ্ট্রের স্বার্থে এগুলো অবিলম্বে বন্ধ-ঘোষণা করতেই হবে।

দফা—৪. জঙ্গি ও জঙ্গিবাদের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেশবিরোধী-পাকিস্তানপন্থী শিল্পপতিগণ। কথিত নামকরা শিল্পপতিসহ বিভিন্ন ‘সিআইপি’ ও ‘ভিআইপি’ ব্যক্তিবর্গ। এরা সমাজে-রাষ্ট্রে টিকে থাকার সুবিধার্থে তাদের হারাম টাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা ও এজাতীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে জঙ্গিবৃদ্ধিতে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। এরাই জঙ্গিদের ফান্ডে অকাতরে অর্থদান করছে। পাকিস্তানের দালাল, মুসলিম-লীগের দালাল ও তাদের বংশধর, আর একাত্তরের পরাজিতগোষ্ঠীরা যতই শিল্পপতি হোক না কেন—তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ এদের সমূলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

দফা—৫. দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের ভিতরে ঘাপটিমেরে থাকা একশ্রেণীর অর্থলোভী-স্বার্থলোভী-জঙ্গির সহযোগী-জঙ্গির আশ্রয়প্রশ্রয়দাতা-দেশপ্রেমবর্জিত জঙ্গিমানসিকতার নেতা-পাতিনেতা-গডফাদারকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নির্মূল করতে হবে। এদের সঙ্গে জঙ্গি ও জঙ্গিবাদের দোসর জামায়াত-শিবিরের যোগসূত্র রয়েছে। আওয়ামীলীগের ভিতরে ঘাপটিমেরে আছে একটি দেশবিরোধীচক্র। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এদের সবার আগে নির্মূল করতে হবে।

দফা—৬. বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-শহরসহ দেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একশ্রেণীর কওমীমাদ্রাসা। আর এগুলো কখনও-কখনও ফোরকানিয়া বা নুরানী মাদ্রাসা নামেও পরিচিত। আসলে, এগুলো জঙ্গিউৎপাদনের অন্যতম ঘাঁটি। তাই, এইসব মাদ্রাসা চিরতরে ভেঙে দিতে হবে। আর চিরতরে তা বন্ধ-ঘোষণা করতে হবে। আর এধরনের মাদ্রাসা গজিয়ে উঠামাত্র রাষ্ট্র তা সমূলে ধ্বংস করে ফেলবে। আর মনে রাখতে হবে: এগুলো রাষ্ট্রবিরোধী আগাছা-পরগাছা মাত্র। আর তাই, এগুলো যত তাড়াতাড়ি ধ্বংস করা হবে রাষ্ট্রের জন্য ততই মঙ্গল। এগুলো মানুষ আর মানবতার চিরশত্রু।

দফা—৭. এদেশের আত্মস্বীকৃত-আলেম-নামধারী মাদ্রাসা-পাস একশ্রেণীর গোমূর্খ, জাহেল, জালেম, দেশবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী পাতিহুজুরদের ধর্মীয় উন্মাদনা, আস্ফালন, মিথ্যাচার, গলাবাজি, রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। এদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে। আর এই ভণ্ডশ্রেণীটির সকল কার্যক্রম রাষ্ট্রের মনিটরিংয়ের আওতায় এনে চিরস্থায়ীভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ ও শায়েস্তা করতে হবে। আর একইসঙ্গে এদের রাষ্ট্রবিরোধী-কথাবার্তা বলাও চিরতরে বন্ধ করতে হবে। এরা কেউই আলেম নয়—এরা শুধুই মৌ-লোভী!

দফা—৮. মোল্লা-মৌলোভী ও মাওলানা-নামধারী একশ্রেণীর জাহেলদের বাংলাদেশবিরোধী ওয়াজ-নসিহত চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। বাংলাদেশে কেউ যদি ওয়াজ-নসিহত করতে চায় তবে তাকে সরকারের পারমিশন নিতে হবে। বাংলাদেশরাষ্ট্র জনস্বার্থে এদের মনগড়া, আবোলতাবোল, উদ্ভট, আজেবাজে, ভিত্তিহীন, আলতুফালতু, লাগামহীন, মিথ্যা, আজগুবি ও রাষ্ট্রবিরোধী ওয়াজ-নসিহত চিরতরে বন্ধ করে দিবে।

দফা—৯. ‘হেফাজতে শয়তানে’র মতো আরও কতিপয় উগ্রবাদীদলের অপতৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। এদের চিরতরে নিষিদ্ধ-ঘোষণা করতে হবে। আর এদের কঠোরহস্তে দমনের পাশাপাশি এজাতীয় দলের প্রধানসহ এর প্রথম সারির পাণ্ডাদের খুব সংক্ষিপ্ত বিচারে ফাঁসি দিতে হবে। বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্বার্থে ‘হেফাজতে শয়তান’কে শুধু নিষিদ্ধই নয়—এদের চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে হবে, এবং এরকম যত জারজসংগঠন রয়েছে সব ধ্বংস করতে হবে। আর সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আর কখনও যেন এইরকম শয়তানীসংগঠনের জন্ম না হয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্র এদের সমস্ত বিষাক্ত-বীজ ধ্বংস করে ফেলবে।

দফা—১০. দেশের আসল ভণ্ড ও শয়তান ‘হেফাজতে শয়তানে’র আমির শাহ আহমেদ শফীগংকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় ভণ্ড’ ও ‘জাতীয় শয়তান’ ঘোষণাপূর্বক এদের প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। শফীর মতো রাষ্ট্রবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীগংদের খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র এদের ফাঁসিতে ঝুলাবে। আর এই রাষ্ট্রে যখনই এইরকম কোনো হারামজাদার জন্ম হবে তখনই রাষ্ট্র আবার তাদের ফাঁসিতে ঝুলাতেই থাকবে।

দফা—১১. বিএনপি’র প্রথম সারির একাধিক ও অন্যান্য স্তরের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদপ্রতিষ্ঠার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। আর বিএনপি এই দেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন ও জঙ্গিবাদ-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। আর তাই, এইসব অপকর্মে জড়িত এই দলের নেতা ও পাতিনেতাদের শনাক্ত করে রাষ্ট্র তাদের চিরতরে নির্মূল করবে।

দফা—১২. মসজিদের ইমাম নামক একশ্রেণীর পাতিহুজুরকে কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করাসহ প্রয়োজনে রাষ্ট্র এদের নির্মূল করবে। রাষ্ট্র মসজিদের ইমামদের সিলেবাস তৈরি করে দিবে। এরা সেই অনুযায়ী মসজিদে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এরা নির্দিষ্ট খুতবার বাইরে কোনোকিছুই বলতে পারবে না। আর রাষ্ট্র মসজিদে এদের রাজনৈতিক কথাবার্তা বলাও চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য থাকবে।

দফা—১৩. দেশবিরোধী ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক কতকগুলো প্রাইভেট টিভি-চ্যানেল ও কথিত ইসলামিক টিভি-চ্যানেলসমূহ রাষ্ট্রের স্বার্থে নিষিদ্ধ-ঘোষণার পাশাপাশি এদের কঠোরহস্তে নির্মূল করতে হবে। আর তাই, দিগন্ত-টিভি ও চ্যানেল ওয়ানের মতো রাষ্ট্রবিরোধী সকলপ্রকার শয়তানীটিভি-চ্যানেল রাষ্ট্র চিরতরে বন্ধ করে দিবে।

দফা—১৪. দৈনিক ‘আমার দেশ’ ও দৈনিক ‘ইনকিলাবে’র মতো জারজপত্রিকার আত্মপ্রকাশ ও এদের প্রকাশনা চিরতরে নিষিদ্ধ করাসহ এগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ‘আমার দেশ’ ও ‘ইনকিলাব’ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা জারজপত্রিকা। জনস্বার্থে বাংলাদেশরাষ্ট্র অনতিবিলম্বে জঙ্গিউৎপাদনকারী এই দুইটি জারজপত্রিকা ধ্বংস করে ফেলবে। আর দেশে এধরনের জারজপত্রিকার প্রকাশনা চিরতরে বন্ধ করবে রাষ্ট্র।

দফা—১৫. ইসলামের নামে যেকোনো-ধরনের রাজনীতি, অপরাজনীতি বা দলবাজি বা গোষ্ঠীপ্রতিষ্ঠার যেকোনো ষড়যন্ত্র রাষ্ট্র কঠোরহস্তে দমন করবে। আর বাংলাদেশরাষ্ট্রে ইসলামীরাজনীতি তথা ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে রাজনীতির নামে সমস্ত শয়তানীচক্রান্ত চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। এদের শিকড় কেটে তা জ্বালিয়ে দিতে হবে। আর বাংলাদেশে ইসলামের নামে কোনো রাজনীতি চলতে পারবে না।

দফা—১৬. পাকিস্তানপন্থী, রাজনীতিপন্থী, বাংলাদেশবিরোধী ‘পীর-নামে’র সমস্ত শয়তানকে আমাদের রাষ্ট্র কঠোরহস্তে দমন করার পাশাপাশি এদের যাবতীয় ‘শয়তানীখানকাগুলো’ চিরতরে ভেঙ্গেচুরে উচ্ছেদ করবে। আর এধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ভণ্ডশয়তান-পীরদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দিতে হবে। যেমন—চরমোনাই ভণ্ডপীরের দরবার, শর্ষিণাছারছীনা ভণ্ডপীরের দরবার ইত্যাদি। এজাতীয় সমস্ত ভণ্ডপীরের দরবার চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। এরা চিরদিন শয়তানের ও পাকিস্তানের অনুসারী। আর এদের ধ্বংস করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

দফা—১৭. মাদ্রাসার হুজুর ও পাতিহুজুরদের আলেম দাবি করার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নীতিমালাপ্রণয়ন করতে হবে। আর রাষ্ট্র ঘোষণা করবে যে, এইসব সাধারণ মাদ্রাসা-পাস মোল্লা, মৌ-লোভী, হুজুর, পাতিহুজুর কখনও আলেম নয়। এরা সাধারণ শিক্ষিত মাত্র।

দফা—১৮. যেকোনো মাদ্রাসার প্রধান হিসাবে সরকারিভাবে সাধারণ শিক্ষিত মানুষকে নিয়োগদান করতে হবে। এখন থেকে আর কোনো মৌ-লোভী ও মোল্লাকে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, মুহতামিম, সুপার বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আর কওমীমাদ্রাসাগুলো ধীরে-ধীরে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করে রাষ্ট্রের আগাছা পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন করতে হবে। দেশ, জাতি ও মানবতার স্বার্থে বাংলাদেশরাষ্ট্রে নতুন করে আর-কোনো মাদ্রাসা তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। এখনও পর্যন্ত যেগুলো আছে—তার মধ্য থেকে নিয়মিত আগাছা-বাছাই করে তা ধীরে-ধীরে নির্মূল করতে হবে।

দফা—১৯. বাংলাদেশরাষ্ট্র, এর পবিত্র জাতীয় সঙ্গীত, পবিত্র জাতীয় পতাকা, পবিত্র মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ইত্যাদি সম্পর্কে যে-সব মোল্লা, মৌলোভী, মাওলানা তথা কুলাঙ্গারগোষ্ঠী সামান্যতম আজেবাজে কথা বলবে তাদের জুতাপেটাসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে এদের প্রকাশ্যে ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে। আর এইজাতীয় কুকুরদের দেখামাত্র রাষ্ট্র থেকে বের করে দিতে হবে। একইসঙ্গে যারা বাংলাদেশের ‘পবিত্র জাতীয় পতাকা’, ‘পবিত্র জাতীয় সঙ্গীত’ ও ‘পবিত্র মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে কটূক্তি করবে—রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ‘দেশদ্রোহী-পাপসন্তান’ বলে ঘোষণা করতে হবে। আর ত্রিশলক্ষ শহীদের রাষ্ট্র এধরনের কোনো পাপসন্তানকে আশ্রয়প্রশ্রয় দিতে পারে না।

দফা—২০. বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের পবিত্র সংবিধান ফিরিয়ে আনতে হবে। আর চার জাতীয় মূলনীতির একটি উল্লেখ্যযোগ্য—ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে রাষ্ট্রের সর্বত্র যত্নসহকারে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মনে রাখতে হবে: ৭২-এর সংবিধানবিরোধীচক্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বিরোধিতাকারীরা-পশুসমাজ একই দলভুক্ত ও জঙ্গিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এদের নির্মূল করতে হবে। আর দেশের এই পবিত্র সংবিধানবিরোধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘রাষ্ট্রবিরোধী-পাপসন্তান’ বলে ঘোষণা করে এদের চিরতরে নির্মূল করতে হবে।

দফা—২১. পাকিস্তানের মতো একটা জারজরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের (রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট-সেক্রেটারি, বিশেষ দূত ও অন্যান্যদের) সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা-নজরদারিতে রাখতে হবে। আর তাবলীগজামাতসহ অন্যান্য শয়তানীকর্মকাণ্ডের নামে এই দেশে পাকিস্তানীদের আসা-যাওয়া চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।

উপর্যুক্ত দফাগুলো বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জঙ্গিবাদের সকল বিষবৃক্ষের শিকড় কর্তিত হবে। আর এই কাজটি করবে বাংলাদেশরাষ্ট্র ও তার নির্বাচিত সরকার। জঙ্গিদের শিকড় কেটে ফেলার জন্য দফাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। আজ সময় এসেছে, জনস্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্তগ্রহণ করার। দেশের সরকার এখন এগুলো এড়িয়ে যেতে পারে না। আর জঙ্গিদের এই শিকড় কাটার অভিযানে সরকারকে এই মহৎকাজে সমর্থন করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। আর জঙ্গিনিধনের ক্ষেত্রে দলমত-জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র দেখার কোনো সুযোগ নাই। তাই, জঙ্গিদমনের আগে জঙ্গিউৎপাদনের সকল ক্ষেত্র দ্রুত ধ্বংস করে ফেলতে হবে। আমাদের জাতিরাষ্ট্র এই পবিত্র দায়িত্ব-কর্তব্য কখনও অস্বীকার কিংবা অগ্রাহ্য করতে পারে না। ধ্বংস হোক জঙ্গিবাদ—পশুত্ববাদ। আর মানবতা মুক্তি পাক।

বাংলাদেশরাষ্ট্র চিরতরে জঙ্গিমুক্ত হোক।
জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৭/০৩/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 22 =