বাঙালীর একুশে অজ্ঞতা

আমরা বাঙালী, আর পাচটা দেশ থেকে আমাদের দেশটা আলাদা, আমাদের ইতিহাস আলাদা । পৃথীবির কোনো দেশে ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার নজির পাওয়া যায় না, কিন্ত মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য বাংলার ছেলেরা নিজেদের জীবন দিয়েছিল, আর সেই দেশের অনেক মানুষই সেই ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানে না । প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারী আসে, একুশে বইমেলা হয়, অনেক মানুষ সেখানে আসে যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশই এসব অনুষ্ঠানের পেছনে যেই দিনটি সেই একুশে ফেব্রুয়ারীর করুন কাহিনী সম্পর্কে জানে না যা খুবই ন্যাক্কারজনক । ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে এসব অসহায় বাঙালীর চেহারা ফুটে উঠেছিল একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন বইমেলায় । কেউ বলছে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারীতে ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছিল এবং প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছিল, কেউ বলছে গন্ডগোল হয়েছিল, আবার কেউ একেবারেই জানে না ঐদিন কি হয়েছিল । দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এদের তালিকায় কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও ছিল । প্রসঙ্গ হল, এরা এমন ইতিহাস বিকৃতি কিভাবে করল, তারা একুশে ফেব্রুয়ারী সম্পর্কে কেন জানল না, তাদের শিক্ষা কি ? বায়ান্ন, একাত্তর সম্পর্কে এদের কোনো অভিপ্রায় নেই, এসব সম্পর্কে তাদের না জানলেও চলে । ঢাকার অধিকাংশ বড় বড় স্কুল নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সাবজেক্ট পড়ায়, তাতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে । আর অভিভাবকেরা নিজেদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার জন্য ঐসব স্কুলে ভর্তি করিয়ে থাকে । ফল যা হবার তাই হয়, নতুন প্রজন্ম অজ্ঞই থেকে যায় । এছাড়া অভিভাবকেরাও বায়ান্ন, একাত্তর সম্পর্কে নিজেদের সন্তানদের অবগত করে না । অবশ্য অনেক অভিভাবকেরা নিজেরাই বায়ান্ন, একাত্তর সম্পর্কে জানে না । টেলিভিশনে ওই ফুটেজ দেখার পর আমি আমার মা-কে, ভাই-কে এসম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্ত তারাও সঠিকভাবে বলতে পারেনি । এই না জানার দায় যার যার নিজেদের অভিভাবকদের । আমার ভাইয়ের না জানার দায় আমার বাবা-মায়ের, আমার বাবা-মায়ের না জানার দায় তাদের নিজেদের বাবা-মায়ের । তাই সবাইকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য সরকারের আরো ব্যাপক হারে প্রচারনা চালানো উচিত এবং সব ধরনের স্কুলে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই সিলেবাসে রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বাঙালীর একুশে অজ্ঞতা

  1. সবাইকে বাংলাদেশের ইতিহাস

    সবাইকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য সরকারের আরো ব্যাপক হারে প্রচারনা চালানো উচিত এবং সব ধরনের স্কুলে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই সিলেবাসে রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত ।

  2. আমরা আমাদের ইতিহাসের মর্যাদা
    আমরা আমাদের ইতিহাসের মর্যাদা দিচ্ছি না। নতুন প্রজন্মকে আমরা যদি ইতিহাস নিয়ে সচেতন না করি তবে এক সময় আসবে তখন তারা নিজেদের বাঙালি বলেও মানতে চাইবে না।

  3. শুধু বাঙালি না, ভাষার জন্যে
    শুধু বাঙালি না, ভাষার জন্যে যে আন্দোলন এবং স্বাধীনতার জন্যে যে মুক্তিযুদ্ধ হৈছিল পুরোটাই ভুইলা যাইবো যদি এভাবে চলতে থাকে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 5