পদ্মা সেতুর পাইলিং এ বিশ্বরেকর্ড

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তীর ভাঙন, নদীর তলদেশ ক্ষয়, ভূমিকম্প আর ক্লাইমেট চেঞ্জের ডাটা, সব হিসাব-নিকাশ করে কমপক্ষে ৬২ মিটার পর্যন্ত পাইল করলেই হতো। তবে এখানে আরেক সমস্যা। প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে, এতে একটা রেলপথ থাকবে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তীর ভাঙন, নদীর তলদেশ ক্ষয়, ভূমিকম্প আর ক্লাইমেট চেঞ্জের ডাটা, সব হিসাব-নিকাশ করে কমপক্ষে ৬২ মিটার পর্যন্ত পাইল করলেই হতো। তবে এখানে আরেক সমস্যা। প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে, এতে একটা রেলপথ থাকবে। এটা সাধারণ রেল না। এটাতে যাতে দুটি কনটেইনার নিয়ে মালগাড়ি যেতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাংলাদেশে সাধারণত একটি কনটেইনার নেয়। কিন্তু এখানে করা হচ্ছে ভবিষ্যতে একটার ওপর আরেকটি কনটেইনার অর্থাৎ দোতলা কনটেইনার নিয়ে ট্রেন যাতে যেতে পারে। এ জন্য যে পাইলগুলো করা হচ্ছে সেটি একটি বিশ্বরেকর্ড। এত গভীরে পাইল কোনো সেতুতে, পৃথিবীর কোনো দেশে গাঁথা হয়নি। ১২২ মিটার! মানে হলো একটা ৪০ তলা দালানের যে উচ্চতা তার সমান হবে। এখানে আরেকটা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে—বেজ আইসলিউশন। এখানে ইস্পাতের সেতু হচ্ছে। অনেকটা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মতো। বঙ্গবন্ধু সেতু হচ্ছে পুরোটাই কংক্রিটের ব্রিজ। আর পদ্মায় ইস্পাতের তিন দিক। নিচের দিক দিয়ে রেল যাবে ইস্পাতের কাঠামোর ওপর দিয়ে। আর শুধু ওপরের যে অংশটা যেটা দিয়ে মোটরগাড়ি চলাচল করবে সেটা কংক্রিটের। সব মিলে ৪১টি স্প্যান, দেড় শ মিটার করে ৬.১৫ কিলোমিটার। দুই এন্ডে দুটি সাপোর্ট, প্রতিটির নিচে ছয়টা করে পাইল। এগুলোর আবার সোজা না, নিচের দিকে বাঁকা। বাঁকা করার কারণ আছে, যখন ভূমিকম্প আসে বা বাইরে থেকে কোনো লোড আসে তখন তা মোকাবেলা করার জন্য। যখন প্রচণ্ড জোরে বাতাস হয়, আমেরিকা বা কোনো কোস্টাল এরিয়াতে যখন সাংবাদিকরা রিপোর্ট করেন তখন দেখা যায় তারা দুই পা একটু ফাঁকা করে দাঁড়ায়। সোজা দাঁড়ানো থাকলে বাতাসে উল্টে যাওযার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ইনভার্টেড ভি-এর মতো করলে আরো বেশি স্ট্যাবল হয়। এভাবে ছয়টি করে পাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বাইরের দিক থেকে আসা চাপ সামলে নিতে পারে। এটাও কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান। এখানে যে প্রযুক্তি বেজ আইসলিউশন, এটাতে ভূমিকম্পের সময় ফাউন্ডেশন মুভ করবে কিন্তু ওপরেরটা মুভ করবে না। নড়াচড়ার একটা ব্যবস্থা থাকবে। এটাকে পেন্ডুলাম বিয়ারিং বলে। সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সাহায্যে স্লাইড করতে পারে। আবার ফিরে আসবে। বিশ্বে এটা অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এত বড় প্রকল্পে এখনো ব্যবহার করা হয়নি। সব মিলে এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই এগিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে এটি একটি বিরাট প্রজেক্ট। শুধু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে না। বৈশ্বিকভাবে তুলনা করলেও এটা খুবই বড় এবং চ্যালেঞ্জিং। সমস্যা কিছু হবেই, সে সমস্যা সমাধানেরও চষ্টা করা হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পদ্মা সেতুর পাইলিং এ বিশ্বরেকর্ড

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 − 13 =