সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় দুই দেশ

প্রচলিত প্রথা ভেঙে নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্যরকম এক সফর শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্ধারিত কর্মসূচি মোতাবেক, শুক্রবার শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র স্বাগত জানানোর কথা ছিল। শেষ অবধি মোদি নিজেই বিমান ঘাঁটিতে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দেন। বিরল সম্মানে শেখ হাসিনাকে বরণ করেন। ভারতের স্বাভাবিক রাষ্ট্রাচারকে ছাপিয়ে গিয়ে আন্তরিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানোর পর শেখ হাসিনার হাতে ফুল দেয়ার ছবি টুইট করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।’ পরে আরেক টুইট বার্তায় মোদি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বিমান ঘাঁটিতে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন, এটা আগে কেউই জানত না। সম্পূর্ণ সারপ্রাইস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি পৌঁছার ১০ মিনিট আগে মোদি গিয়ে বিমান ঘাঁটিতে হাজির হন। বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর ঘটনা এটাই প্রথম। শেখ হাসিনার এই সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সফর ছাপিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দুই নেতার ভবিষ্যৎ নির্দেশনামূলক গুরুত্বের সফর বলে মনে হচ্ছে।এই সফরে বাংলাদেশের জন্য বড় ‘সারপ্রাইজ’ হল, দিল্লির প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটকে বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাস্তার উদ্বোধন করবেন। এছাড়া বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত তৃতীয় এলওসি হিসাবে পাঁচশ’ কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দিতে পারে।এদিকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ‘হাই স্পিড ডিজেল’ সরবরাহ উদ্বোধন হচ্ছে আজ। উদ্বোধনী চালানে দুই হাজার দু’শ টন ডিজেল যাচ্ছে বাংলাদেশে। দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত থাকবেন। তারপর শেখ হাসিনা রাজঘাটে অবস্থিত গান্ধী স্মৃতিসৌধে যাবেন। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে সই করবেন। তারপর হায়দরাবাদ হাউসে প্রথমেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন। তারপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 5 =