আল্লাহর জান্নাত ও জাহান্নাম দর্শন

একবার আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম দর্শনে বের হলো। জিব্রাইলকে হুকুম দিল ব্যবস্থা করতে। সেই মত জিব্রাইল ব্যবস্থা করল। জিব্রাইলকে আল্লাহ প্রথমে বলল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে। আল্লাহ জাহান্নামে ঢুকল। ঢুকেই দেখল- চারদিকে সুন্দর সব ফুল ফলের বাগান , চারদিকে পাখির কলতান, সুন্দর সব ঝরনা , তাতে টলটলে পরিস্কার স্ফটিকের মত পানির স্রোত, বিরাট বিরাট আকাশ চুম্বি অট্টালিকা , মানুষজন সব সুন্দর সুন্দর আকাশ যানে এখানে ওখানে ভ্রমন করছে। চকচকে রাস্তাঘাট , পরিস্কার। সুন্দর পোশাকে নারী পুরুষ চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে। সবাই কেমন হাসি খুশি। কোথাও কোন বিশৃংখলা নেই।


একবার আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম দর্শনে বের হলো। জিব্রাইলকে হুকুম দিল ব্যবস্থা করতে। সেই মত জিব্রাইল ব্যবস্থা করল। জিব্রাইলকে আল্লাহ প্রথমে বলল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে। আল্লাহ জাহান্নামে ঢুকল। ঢুকেই দেখল- চারদিকে সুন্দর সব ফুল ফলের বাগান , চারদিকে পাখির কলতান, সুন্দর সব ঝরনা , তাতে টলটলে পরিস্কার স্ফটিকের মত পানির স্রোত, বিরাট বিরাট আকাশ চুম্বি অট্টালিকা , মানুষজন সব সুন্দর সুন্দর আকাশ যানে এখানে ওখানে ভ্রমন করছে। চকচকে রাস্তাঘাট , পরিস্কার। সুন্দর পোশাকে নারী পুরুষ চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে। সবাই কেমন হাসি খুশি। কোথাও কোন বিশৃংখলা নেই।

আল্লাহ এসব দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করল- জিব্রাইল, তোমাকে না বললাম আমাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে , তুমি আমাকে জান্নাতে নিয়ে আসলে কেন ? আমার সাথে কি তুমি ফাইজলামি কর ?

ভয়ে জড়সড় হয়ে জিব্রাইল বলল- হুজুর , আমি তো আপনাকে জাহান্নামেই আনছি।

আল্লাহ বলল- তাহলে আগুন কোথায় ? আর জাহা্ন্নামিদেরকে আগুনে পোড়াচ্ছে না কেন ? সবাই তো দেখি দাঁত কেলিয়ে হাসাহাসি করছে। খাচ্ছে দাচ্ছে , বেশ আরাম আয়াশেই আছে দেখি।

জিব্রাইল বলল- হুজুর , জাহান্নামে আগুন ছিল যখন জাহান্নামিদেরকে এখানে প্রথম আনা হয়। কিন্তু এদের মধ্যে দুনিয়ার সব বিজ্ঞানী , প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, চিন্তাবিদ , দার্শনিক , সাহিত্যিক ও বুদ্ধিমান লোকজন আছে, এরা খুব দ্রুুতই এসব আগুন নিভিয়ে ফেলে , পরিবর্তে সেখানে সুন্দর বাগান , রাস্তাঘাট , ঘরবাড়ী , যান বাহন তৈরী করে ফেলেছে। সুন্দর ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আপনি তো আর আমাদেরকে নির্দেশ দেন নি যে , তাদের কোন কাজ কর্মে বাধা দিতে। আর যদি নির্দেশ দিতেনও , তারা এতই বুদ্ধিমান ও মেধাবী যে , তারা খুব তাড়াতাড়ি আমাদেরকে পরাজিত করে ফেলত। এই যেমন এখানে যেসব ফেরেস্তা ডিউটি করত , এরা তাদের সবাইকে ভাগিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া তাদের না ভেগে উপায়ও ছিল না। কারন আপনি তো তাদেরকে কোন বেতন দেন না , বিনা পারিশ্রমিকে তাদেরকে কাজ করান। কিন্তু এখানে বেতন কড়ি , টাকা পয়সা ছাড়া বাঁচা যায় না। তাই তারা সবাই মনের দু:খে আত্মহত্যা করেছে। কারন তারা তো আপনার হুকুম তামিল করা ছাড়া আর কিছু জানেও না।

আল্লাহ তো রেগে মেগে আগুন। গজরাতে গজরাতে বলল- এখন আমাকে জান্নাতে নিয়ে চল। অগত্যা ভয়ে জড়সড় জিব্রাইল আল্লাকে নিয়ে জান্নাতের দিকে রওনা দিল। জান্নাতে ঢুকেই আল্লাহর চোখ চড়ক গাছ। দেখে সেখানে জান্নাতীরা সবাই যুদ্ধ, মারামারি করছে , একে অন্যকে হত্যা করছে, আত্মঘাতি হামলা চালাচ্ছে, বোমা ফাটাচ্ছে , যেখানে সেখানে তারা হুরদেরকে ধর্ষন করছে , তারপর শ্লোগান দিচ্ছে – “নারায় তাকবির , আল্লাহু আকবর”। আর তাদের প্রত্যেকের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় , এক একটা হিংস্র পশুর মত অসভ্য ও বর্বর।

যেসব সুন্দর সুন্দর ঘরবাড়ী আল্লাহ বানিয়ে দিয়েছিল , তার একটাও আর নেই , সবই বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। বাগান , গাছপালা সব তছনছ হয়ে গেছে। অনেক যায়গায় দেখল -জান্নাতিরা না খেয়ে আছে , সেখানে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি চলছে। অনেক যায়গায় তারা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে , চারদিকে লেলিহান আগুন। ঠিক যেমনটা আল্লাহ জাহান্নামকে বানিয়েছে।

রেগে গিয়ে আল্লাহ জিব্রাইলকে প্রশ্ন করল – এ তো দেখি জাহান্নাম , জান্নাত কোথায় ?

জিব্রাইল কাচুমাচু করে বলল – হুজুর , দুনিয়ার যত সব মূর্খ , উন্মাদ ও পাগলদেরকে জাহান্নামে ঢুকান হয়েছিল। কারন এরা ছিল খাটি মুমিন। এরা আল্লাহ ও মুহাম্মদের নাম জিকির করা , আর সেই সাথে “আল্লাহু আকবর” বলে সন্ত্রাস , মারামারি , যুদ্ধ হত্যা ধর্ষন , আত্মঘাতী হামলা করা ছাড়া আর কিছুই জানত না। ঠিক যেমনটা তারা কোরান ও হাদিস থেকে শিক্ষা পেয়েছিল। যারা কিছুটা বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি জানত , তারাও এক পর্যায়ে আল্লাহ ও মুহাম্মদের নাম জিকির করা ছাড়া , বাকী সব ভুলে গেছিল। আর তার ফলেই আজকে জান্নাতের এই অবস্থা।

আল্লাহ তো ভয়ানক রেগে গেল। আর তখনই সে টের পেল , মুহাম্মদ দুনিয়াতে গিয়ে , আল্লাহর নাম করে মানুষদেরকে ধর্মের নামে বর্বরতা , অসভ্যতা ও হিংস্রতা শিখিয়ে এসেছে। আর বলেছে এসব করলে মরার পর ৭২ হুর , মদের নহর এসব পাওয়া যাবে। তখন লোভী ও স্বার্থপর যেসব মানুষ ছিল তারা মুহাম্মদের এই শিক্ষা অনুসরন করে, প্রত্যেকে হয়েছে বর্বর , অসভ্য ও হিংস্র। আর তার ফলেও তার সুন্দর জান্নাত আজকে জাহান্নামে পরিনত হয়েছে।

অত:পর সে হুকুম দিল জিব্রাইলকে – ধ্বংস করে দাও এই জান্নাত, আর নিশ্চিহ্ন করে এসব মূর্খ ও উন্মাদ লোকদেরকে। আর জাহান্নামিদেরকে গিয়ে বল -আমি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, কারন তারা আমার দেয়া তাদের উন্নত মস্তিস্ক ব্যবহার করে , তারা সুন্দর সমাজ গড়ে তুলেছে , আর এটাই ছিল আমার মানুষ তৈরীর মূল উদ্দেশ্য। আমি দেখতে চেয়েছিলাম , বুদ্ধিমান করে কিছু মানুষ তৈরী করলে তারা কতটা উন্নতি করতে পারে। আর তারাই সেটা সত্যিকারভাবে করেছে। অর্থাৎ তারাই প্রকৃত পক্ষে আমার ইচ্ছাটা পূরন করেছে। আমি আজ সত্যিই আনন্দিত যে আমার সৃষ্ট বুদ্ধিমান মানুষ আজকে আমার সম্মান রক্ষা করেছে।

এই বলে আল্লাহ তার আরশের দিকে রওনা হয়ে গেল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − 57 =