“তুই তো ব্যাটা নাস্তিক!”

কিছু মানুষ নিজেকে নাস্তিক ডিটেকটর মনে করেন।
তারা মোটামুটি সব আলোচনাতেই আল্লাহ-রাসূলের অবমাননা জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেয়া অন্য মানুষগুলোর “ঈমান” নিয়ে হ্যাচকা টান দিয়ে বলেন, “এইটা বিশ্বাস না করলে তো ঈমানই থাকেনা! কি কন?” অথবা, “এইসব নাস্তিকদের ব্লগার আর এই নাস্তিক সরকারকে যারা সাপোর্ট দেয় তারাও নাস্তিক! ঠিক কিনা বলেন? যারা যারা একমত না তাদেরও ঈমানে সমস্যা আছে বলে মনে করতে হবে!”
অতঃপর নিজেদের “ঈমান” যে মজবুত এবং ফর্মালিনমুক্ত সেটা প্রমাণ করার স্বার্থে আলোচনায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ মেনে নেয় কথাগুলো। তখন সেই নাস্তিক ডিটেকটর সাহেব ঘোষনা দেন যে তারা বাদে বাকি সবাই নাস্তিক, ইসলাম হূমকির মুখে এবং আল্লাহ আর বেশি ধৈর্য্য দেখাবেনা; অচিরেই গজব নাযিল করবে। এবং সেই গজব এর হাত থেকে বাঁচার জন্য একটা ইসলামি আন্দোলন এর কোন বিকল্প নাই।
তখন সেই ঈমানের অগ্নিপরীক্ষায় পাশ করা মানুষগুলো সমস্বরে সম্মতি জ্ঞ্যাপন করেন।

সেই আলোচনায় অংশ নেয়া এক কোণে বসে থাকা তরুনটা তখন তার মোবাইল থেকে মুখ উঠিয়ে একটু নড়েচড়ে বসে যুক্তি-খন্ডন করতে বসে। সে যতই তার যুক্তিগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে ততই সেই নাস্তিক ডিটেকটর এবং ঈমানদারগনের ভ্রু-কুঞ্চিত হতে থাকে।
সেই তরুন যখন প্রায় প্রমাণ করে ফেলে যে হেফাজতে ইসলাম বা জামাত ইসলাম আদতে কোন ইসলামি দলই নয়; যখন ঈমানদারগন হঠাতই তরুনের যুক্তির কাছে নিজেদের ঈমানের পরীক্ষা নেয়ার প্রশ্ন-পত্র সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে ওঠে, তখনই সেই নাস্তিক ডিটেকটর মেরুদন্ড সোজা করে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল তরুনের দিকে নির্দেশ করে চোখটা আঁধ-বোজা করে স্মিত নূরানী হাসি দিয়ে বলে ওঠেন, “তুই তো ব্যাটা নাস্তিক!”

তখন হঠাৎ করে যুক্তি অলি-গলিতে পথ হারিয়ে বসা ঈমানদারগন পথ ফিরে পান এবং সমস্বরে পুনরায় সেই নাস্তিক ডিটেকটরের কথায় মহা-উৎসাহে সম্মতি জ্ঞ্যাপন করেন!

তখন আলোচনায় অংশ নেয়া ঈমানের পরীক্ষায় পাশ করা ব্যক্তিগন এবং আশেপাশের দর্শক-শ্রোতা কারো মনেই আর কোন সন্দেহ থাকেনা যে এই তরুন একজন নাস্তিক!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on ““তুই তো ব্যাটা নাস্তিক!”

  1. বুইড়াদের বরাবরই এড়িয়ে চলি
    বুইড়াদের বরাবরই এড়িয়ে চলি বলে, নাস্তিক তকমাটা এখনও গায়ে লাগেনি তবে, সমবয়েসিদের কাছেই লীগার তকমাটা ভালভাবেই পেয়ে গেছি…

    1. ও হ্যাঁ! আমিও নাকি লীগার!
      ও হ্যাঁ! আমিও নাকি লীগার! সহপাঠীরাই দিয়েছে। কেন জানি কলেজের লীগ নেতাদের কাছ থেকেও একটু খাতির পাচ্ছি! :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :কল্কি:

  2. নাস্তিকরাতো আর কোরআন
    নাস্তিকরাতো আর কোরআন পুড়াইতেছেনা। সহিংশতা চালাইতেছে না। ধর্মের নাম ধরে তন্ডব করতেছে না। তাহলে ধার্মকরাই সমাজে অশান্তি তৈরী করছে। ধার্মিকরা ধর্মের নামে মসজিদ ভাঙ্গে, মন্দিরও তারাই ভাঙ্গে। কোন নাস্তিক ভাঙ্গে না। তাহলে ধার্মকের ধর্মের চেয়ে নাস্তিকের ধর্ম শ্রেয়। যদি তাই হয় তবে আমিও নাস্তিক।

    1. হাহাহা! হুমায়ুন আজাদের একটি
      হাহাহা! হুমায়ুন আজাদের একটি উক্তি আছে এইরকম, “যারা মসজিদ ভাঙে তারাও আস্তিক, যারা মন্দির ভাঙে তারাও আস্তিক; শুধু যারা কোন ভাঙা-ভাঙির মধ্যে নেই তারাই নাস্তিক।”
      :মাথাঠুকি:

  3. এলাকায় তো লিগার কৈয়া গালি
    এলাকায় তো লিগার কৈয়া গালি দেয়, জুম্মার দিন নামাজটা পড়ি বইলা নাস্তিক ত্যাগ টা এখনও খাই নাই মনে হয় :p 😮

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 − 75 =